মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯

ত্রিপুরায় দেব মন্দিরে নিষিদ্ধ হল পশু বলি

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
  • ২০১৯-০৯-২৮ ১৯:২৪:০০
image

এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। ত্রিপুরা রাজ্যের সব মন্দিরে পশু বলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ত্রিপুরা হাইকোর্ট। ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি অরিন্দম লোধের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রের।
খবরে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ সুভাষ ভট্টাচার্য কয়েক বছর আগে ত্রিপুরার রাজবাড়িতে দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন । নবমী পুজোর দিন দুর্গামন্দিরে মহিষ বলি দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। এরপর তিন বছর ধরে হিন্দু শাস্ত্রের নানা দিক নিয়ে তিনি জানার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বুঝতে পারলেন এই প্রথা সঠিক নয়। এরপর পশু বলি বন্ধের দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন হাইকোর্টে। তিন দিন ধরে একটানা এই মামলার শুনানি চলার পর আদালত গতকাল শুক্রবার মন্দিরে পশু বলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তবে সরকারের পক্ষে রাজ্যের আইনজীবী অরুণ কান্তি ভৌমিক পশু বলি বন্ধের আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, শত শত বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। তা ছাড়া ভারত ভাগের পর ১৯৪৯ সালে ত্রিপুরার রাজারা যখন ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত হন, তখন ত্রিপুরার সব মন্দিরের পূজা এবং বলির খরচ ত্রিপুরা সরকারের বহন করার চুক্তি হয়। সেইভাবে চলে আসছে অতীতের এই প্রথা।
অপর দিকে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বেদ-উপনিষদ কোথায়ও লেখা নেই যে পশু বলি বন্ধ হলে হিন্দু ধর্ম পালনে বাধা তৈরি হবে। আর মন্দিরগুলোতে সরকারি খরচে বলি দিতে হবে, এই দাবির সপক্ষে কোনো দলিলপত্র পেশ করতে পারেনি সরকার পক্ষ।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চ সরকারের যুক্তি খারিজ করে জানান, পশু বলির অধিকার সংবিধানের ২৫ ধারা অনুযায়ী ধর্মের অধিকারের আওতায় আসে না। এখন থেকে রাজ্যের কোনো মন্দিরে সরকার বা কোনো ব্যক্তি পশু বা পাখি বলি দিতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরসহ দুর্গাবাড়ি এবং বিভিন্ন মন্দিরে দুর্গা পূজো থেকে শুরু করে কালীপূজার বলি প্রথা বন্ধ হোক এমনটা চেয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধীও। চিঠিও দিয়েছিলেন রাজ্য সরকারকে। কিন্তু বহু যুগ আগে থেকে চলে আসা বলি প্রথা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়নি কোন সরকারই।

 


এ জাতীয় আরো খবর