মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯

মিশিগানের মন্ডপে মন্ডপে পুণ্যার্থীদের ঢল : আজ মহানবমী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০১৯-১০-০৬ ২২:২৪:৪৬
image

ডেট্রয়েট : শরৎ এসেছে। কাশবনে হাওয়া লেগেছে। তারপর মায়ের আগমন। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী দেখতে দেখতে চলে এসেছে মহানবমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ রোববার মহানবমী। আর তাই পূজা-অর্চণা ও আরাধনায় মেতে উঠেছে এখানকার প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। 


এর আগে, সপ্তমীতে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন শেষে ভক্তদের কল্যাণ ও শান্তির আশীর্বাদ নিয়ে হিমালয় নন্দিনী দেবী দুর্গা পূজার পিঁড়িতে বসেন। অনুষ্ঠিত হয় ধূপধুনো, বেল-তুলসি, আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দনসহ ১৬টি উপাচার দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা। গতকাল শনিবার সকালে মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ (পঞ্চম কল্প) ও কেবল মহাষ্টমী কল্পে (ষষ্ঠ কল্প) পূজা প্রশস্তা এবং শ্রীশ্রী দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়। এর আগে দেবী দুর্গাকে বিশেষ রীতি অনুসারে দর্পণে স্নান করানো হয়। দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে তা স্নান করানোর পর বস্ত্র ও নানা উপাচারে মায়ের পূজা দেওয়া হয়। 


কারণ এদিন অকল্যাণের প্রতীক মহিষাসুর বধের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু। এজন্য মহাষ্টমীই শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন। তবে এবার তিথির হেরফেরে সন্ধিপূজা শনিবার দিবাগত রাত ৪টা ৩০ মিনিটে  শুরু হয়ে ভোর ৫ টায় শেষ হয়। এ সময় দেবীকে ১শ ৮টি নীলপদ্ম নিবেদন করে আরাধনা করা হয়। এতে দেবী প্রসন্ন হন। পূজায় পৌরহিত্য করেন ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের প্রিস্ট পুর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, সুভাস চক্রবর্তী ও পারিন্দ্র চক্রবর্তী।

 
মহাষ্টমীতে দুপুরে পূজা শেষে সব গুলো মন্ডপেই অঞ্জলি প্রদান ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রসাদের জন্য সকলকেই লাইনে দাড়াতে হয় দীর্ঘ সময়। এছাড়াও সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় নাটক, সঙ্গীতানুষ্ঠান, আরতিসহ নানা রকমের অনুষ্ঠান। আগামীকাল সোমবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের এ উৎসব। ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল  অন্যান্য বারের মতো এবারও প্রকাশ করছে সাহিত্য-সাময়িকী ‘শারদ অর্ঘ্য’। টেম্পলের প্রেসিডেন্ট রতন হাওলাদার এর গ্রাফিক ডিজাইনে এবং কালচারাল সেক্রেটারী সৌরভ চৌধুরীর সম্পাদনায় বের হচ্ছে এ শারদ সংকলনটি। 


এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিনে  শনিবার বিকেলে গীতি ও নৃত্যালেখ্য ‘এসো বাধিব সেই সুরে অংশ নেন পল্লবী, মিনাক্ষী, অনামিকা, সঙ্গীতা, স্নেহা, উর্মিলা, সুস্মিতা ও বাপ্পা। ‘আগমনীর আগমনে’  সঙ্গীতানুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন দু’বোন অনিন্দিতা ও নিবেদিতা। এছাড়াও সমবেত সঙ্গীতানুষ্ঠান ও ধামাইলে অংশ নেন স্থানীয় শিল্পীরা। বৈশালী দে এর কোরিওগ্রাফীতে শিশু শিল্পীদের নৃত্য দর্শকদের বিমোহিত করে। জমজমাট পারফরমেন্সে মঞ্চ মাতিয়ে তোলে এসব শিশুরা।


অনুষ্ঠান চলাকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নিউরলজিস্ট ও দার্শনিক ডা: দেবাশীষ মৃধা। রাতে ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে একক সঙ্গীতানুষ্টানে গান পরিবেশন করবেন জি বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী সৌমেন নন্দী। এসময় দর্শক শ্রোতারা সৌমেন নন্দীর গানের সাথে সাথে নেচে  গেয়ে মেতে ওঠেন আনন্দে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট নিউরলজিস্ট ও দার্শনিক ডা: দেবাশীষ মৃধা’র সহধর্মিনী চিনু মৃধা ও ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের কালচারাল সেক্রেটারী সৌরভ চৌধুরী। আজ রোববার রয়েছে  বৈশালী দে কোরিওগ্রাফীতে নৃ্ত্য, ‘আগমনীর আগমনে’ সঙ্গীতানুষ্ঠান, কবিতায় শারোৎসব ‘কাব্য জলসা’, ধুনোচি নাচ এবং আরতি। 


ওয়ারেন সিটির মিশিগান কালীবাড়ীতেও গতকাল  আবেগ আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে সঙ্গে মহাষ্টমী বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়েছে।পূজায় পৌরহিত্য করেন মিশিগান কালিবাড়ির প্রিস্ট দুর্গা শংকর চক্রবর্তী ও সঞ্জয় চক্রবর্তী। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় নাটক মহিষাসুর মর্দিনী। রাতে সাংস্কৃতিক ও নৃত্যানুষ্ঠানে বয়স নির্বিশেষে স্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে ছিল আরতি ও ধুনোচি নাচ। এদিকে আজ রোববার বিকাল ৩ টায় রয়েছে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৮ টায় কলকাতার জনপ্রিয় লোকগীতি শিল্পী পৌষালি বানার্জির একক সঙ্গীতানুষ্ঠান।পরে আরতি ও ধুনোচি নাচ অনুষ্ঠিত হবে।


কমার্স চার্টার টাউনশিপের ওয়ালড লেক সেন্ট্রাল হাইস্কুলে বিচিত্রার শারদীয় দুর্গোৎসবে দ্বিতীয় দিনে শনিবার দুপুরে মঞ্চস্থ হয় নাটক জীবন্ত স্ট্যাচু। বিকেলে নৃত্য পরিবেশন করবেন শ্রেয়সী দে ও তাঁর সঙ্গীরা, রাতে কলকাতার বাংলা ব্যান্ডের সুরজিত ও তাঁর বন্ধুরা পরিবেশন করেন সঙ্গীত। এখানকার ভক্তরা নেচে গেয়ে দিনটি অতিবাহিত করেন। আজ  ৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪ টায় আধুনিক বাংলা গান গাইবেন কলকাতার বিশিষ্ট শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। পরে অনুষ্ঠিত হবে আরতি।


বেভারলি হিলস সিটির বার্কশায়ার মিডল স্কুলে বিচিত্রা ইনকর্পোরেটেড দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার বিকেল ৩ টায় বার্মিংহাম সিটির আর্ণেস্ট ওয়েষ্ট সেহাম হাইস্কুলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন কলকাতা থেকে আগত শিল্পী রুপঙ্কর বাগচী। রাতে ছিল সিদুর খেলা ও ধুনোচি নাচ। সবশেষে  বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ে ও উৎসব শেষে ছিল চিরন্তন মনখারাপের সুর।


লিভোনিয়া সিটির আডালি ইস্ট স্টিভেনসন হাইস্কুল প্রাঙ্গনে স্বজন আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসবের সঙ্গীতানুষ্ঠানে গতকাল শনিবার বলিউড শিল্পী মনীষা কর্মকার গানে গানে মাতিয়ে তুলেন দর্শক শ্রোতাদের। আজ দুপুরে বিসর্জন ধামাকায় সুপ্রতীপ ভট্টাচার্য সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

 


 


এ জাতীয় আরো খবর