মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯

নবমীতে মিশিগানের মন্ডপে মন্ডপে উপচে পড়া ভিড় : বিজয়া দশমীতে আজ বিদায়ের সুর

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
  • ২০১৯-১০-০৮ ০০:১৬:১৫
image

ডেট্রয়েট : ঢাকের তালে কোমর দোলে, খুশিতে এলো মা, আজ বাজা কাশা, জমা আসর, থাকবে মা আর কতক্ষণ।’ এমন আরো অনেক মনোমুগ্ধকর গানে মুখর মিশিগানের সব পূজামন্ডপ। নাচ, গান, আর ঢাকের আওয়াজে মন্ডপগুলো মুখরিত। ছোট, বড়, নারী-পুরুষ সবাই অংশগ্রহণ করেছেন এ আনন্দে। আর কিছুক্ষণ পর পর ‘বল দুর্গা মা কি... জয় !’ এমন জয়ধ্বনিতে আন্দোলিত হচ্ছে সবাই। আরতি পরিবেশন করছেন ছোট বড় সকলে মিলে, নানা ঢং-এ। 


আশ্বিনের শারদপ্রাতে শুরু হয়েছিল দেবী পক্ষ। মহালয়া থেকে দেবীপক্ষের সূচনা। দুর্গাপূজার আনন্দ মূলত তখন থেকেই শুরু হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, মহানবমী তিথি অন্যান্য তিথির তুলনায় ‘শুভ’। তাই এই তিথিতে দেবীর আরাধনা করলে পূণ্য লাভ হয়। গতকাল রোববার দুর্গোৎসবের মহানবমীতে সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ভক্তকুলের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে  প্রতিটি পূজামণ্ডপ। এখানকার একটি মন্ডপে অষ্টমীর আনন্দ শেষে নবমীতে পৌষালি বানার্জির গানে গানে গা ভাসিয়েছেন সব দর্শক শ্রোতা।


নবমী পূজা শেষে অশ্রুসজল নয়নে ভক্তরা দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার চরণে অঞ্জলি দিয়েছেন। মহানবমীর রাতে প্রতিটি মন্ডপে বিষাদের সুর বাজতে থাকে। আজ সোমবার মা দুর্গার বিদায়। প্রতিটি মন্ডপেই ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রসাদ বিতরণে একমাত্র ব্যতিক্রম ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল। প্রতিদিন পূজা শেষ হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় প্রসাদ বিতরণ। আর তা মন্দির বন্ধের পূর্ব পর্যন্ত  চলতে থাকে।  প্রতি বছর এই টেম্পলে এ নিয়মেই চলে আসছে প্রসাদ বিতরণ কার্যক্রম। 
পূজার্চনার পাশাপাশি মন্ডপে মন্ডপে আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, নাটকসহ ছিল নানা আয়োজন। আজ সোমবার পালিত হবে বিজয়া দশমী। পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ দিবাগত রাত ৪ টা পর্যন্ত  থাকবে দশমী তিথি। বিজয়া দশমীতে আজ সন্ধ্যায় দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন দেবী দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে কৈলাশে ফিরবেন স্বামী গৃহে।


সর্বশেষ যে রীতিটি পালিত হয়, এর নাম ‘দেবী বরণ’ বা সিঁদুর ছোঁয়ানোর মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে ‘দুর্গা-মা’কে সিঁদুর ছোঁয়ানো পর একে অপরের সিঁথিতে সিঁদুর দেন। সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুর তারা একে অপরের মুখে মাখেন। এটি হলো সিঁদুর খেলা। এই সিঁদুর মাখার রীতি অনেক সময় দশমীঘরে পালন করা হলেও অনেকে এটি নিজ ঘরেও করে থাকেন। 

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন সোমবার বিকেলে কবিতায় শারোৎসব ‘কাব্য জলসা’য় কবিতা পাঠ করেন অলক চৌধুরী, তন্ময় আচার্য্য, প্রদীপ চৌধুরী, মিলন কুমার দাশ, দেবাশীষ দাশ, অজিত দাশ, সৌরভ চৌধুরী, রিমা ধর এবং নারায়ন গুপ্ত। এরপর একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন পল্লবী তালুকদার, অজিত দাশ, প্রদীপ চৌধুরী, সুস্মিতা চৌধুরী, রতন হাওলাদার, বাবুল পাল, স্নেহা গুপ্ত, উর্মিলা সূত্রধরসহ আরো অনেক। বৈশালী দে এর কোরিওগ্রাফীতে শিশু শিল্পীদের নৃত্য  ও ফ্যাশন শো দর্শকদের বিমোহিত করেছে। জমজমাট পারফরমেন্সে  এসব শিশুরা মঞ্চ মাতিয়ে তোলে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের কালচারাল সেক্রেটারী সৌরভ চৌধুরী। 

অনুষ্ঠান চলাকালে হ্যামট্রাম্যাক সিটি মেয়র কারেন মাজেউসকি শাড়ি পড়ে শারদ উৎসবের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় মন্দিরের প্রেসিডেন্ট রতন হাওলাদার, সেক্রেটারী নিতেশ সূত্রধরসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। মেয়র কারেন মাজেউসকি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সবশেষে ধুনোচি নাচ এবং আরতি অনুষ্ঠিত হয়। নবমীবিহিত পূজায় পৌরহিত্য করেন ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের প্রিস্ট পুর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, সুভাস চক্রবর্তী ও পারিন্দ্র চক্রবর্তী। 


ওয়ারেন সিটির মিশিগান কালীবাড়ীতেও দুর্গোৎসবের মহানবমী তিথিতে দুর্গতিনাশিনী দেবীর আরাধনা করছে প্রবাসী বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজায় পৌরহিত্য করেন মিশিগান কালিবাড়ির প্রিস্ট দুর্গা শংকর চক্রবর্তী ও সঞ্জয় চক্রবর্তী। বিকেলে সাংস্কৃতিক ও নৃত্যানুষ্ঠানে বয়স নির্বিশেষে স্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। উপচেপড়া ভক্ত ও দর্শকদের উপস্থিতিতে রাত ৮ টায় একে একে লোকসঙ্গীত ও সিলেটের ধামাইল পরিবেশন করেন কলকাতার জনপ্রিয় লোকগীতি শিল্পী পৌষালি বানার্জি। তিনি তার ঢং-এ নেচে গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তুলেন। দর্শকরাও তাদের প্রিয় শিল্পীকে স্বচক্ষে অবলোকন এবং তার সাথে নেচে গেয়ে হয়েছেন শিহরিত, পুলকিত। সবশেষে ছিল আরতি ও ধুনোচি নাচ।  

 
কমার্স চার্টার টাউনশিপের ওয়ালড লেক সেন্ট্রাল হাইস্কুলে বিচিত্রার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবীর পায়ে অঞ্জলি দিয়েছেন ভক্তরা। পূজাকে ঘিরে বিচিত্রায়ও ছিল বর্ণাঢ্য সব আয়োজন। প্রতিদিনই প্রচুর প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এসব আয়োজনে অংশ নেন। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪ টায় ছিল কলকাতার বিশিষ্ট শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য এর একক সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন অসংখ্য দর্শক স্রোতা।


লিভোনিয়া সিটির আডালি ইস্ট স্টিভেনসন হাইস্কুল প্রাঙ্গনে স্বজন আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। শেষ দিনেরর বিসর্জন ধামাকায় সুপ্রতীপ ভট্টাচার্য সঙ্গীত পরিবেশন করেন।


এ জাতীয় আরো খবর