বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯

সাগিনা সিটিতে মৃধা পরিবারের শুভ বিজয়ার ‘মিউজিক্যাল নাইটে’ অন্য রকম আনন্দ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০১৯-১০-২১ ০১:৪৩:১২
image

সাগিনা সিটি : বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় যখন শেষ, তখন সবেমাত্র সন্ধ্যা নেমেছে। বাইরে হিমেল হাওয়ার পরশ। ভেতরে নাতিশীতোষ্ণু পরিবেশ। এরই মধ্যে তিন সহোদরার গান দিয়ে  শুরু হয় মৃধা পরিবার আয়োজিত ‘মিউজিক্যাল নাইট’। মধ্যরাত পর্যন্ত স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীর গান, কবিতা আবৃত্তি ও ধামাইলে আগত দর্শক শ্রোতা ছিল মাতোয়ারা। সবশেষে আকর্ষণীয় ফ্যাশন শোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।


গতকাল দিনটি ছিল শনিবার। ১৯ অক্টোবর। প্রতি বছরের মতো এবারের এ দিনটিতে শুভ বিজয়া ও শারদীয় দুর্গোৎসব পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সাগিনা সিটির বাসিন্দা বিশিষ্ট নিউরলজিস্ট ও দার্শনিক ডা: দেবাশীষ মৃধা ও তার সহধর্মিনী চিনু মৃধা। বিকাল থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে আসতে শুরু করেন। রাজকীয় বাড়ির প্রবেশ দ্বারে দাড়িয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আগত অতিথিদের স্বাগত জানান তাঁরা।


অভ্যর্থনা শেষে অতিথিদের স্ন্যাকস অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। স্ন্যাকস -এ ছিল সিঙ্গারা, মুড়ি চানাচুর, পিয়াজী, ডালের ভরা, পিঠা, ফ্রাই চিংড়ি সাথে ঝাল টক সস। ছিল হরেক রকমের ফ্রুটস, কোমল পানীয় এবং চা কপি। স্ন্যাকস চলাকালে বিশিষ্ট নিউরলজিস্ট ও দার্শনিক ডা: দেবাশীষ মৃধা  সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। দেবাশীষ মৃধা বলেছেন, আমরা আমাদের পূজা ও পুর্ণমিলনীতে মিলিত হই। এর মাধ্যমে আনন্দ পাওয়া এবং দেওয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে এর মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, আমরা যেখানে যে অবস্থায়ই মিলিত হই না কেন সেখানে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে হবে। আনন্দ না দিলে আনন্দ পাওয়া যায় না। ভালবাসা না দিলে ভালবাসা মেলে না। তাই আমাদের সকলকে ভালবাসার মাধ্যমে অন্যের হৃদয় ছুঁতে হবে। তিনি বলেন, আশা করি আজকের এই পুর্ণমিলনী অনুষ্ঠানটি খুব সুন্দর এবং উপভোগ্য হবে। তিনি বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি ইতিমধ্যে আপনারা  অনুষ্ঠানটিকে সুন্দর করে তুলেছেন। সকলেই আনন্দের পাশাপাশি গল্প করছেন। তিনি  তার প্রকাশিত একটি বই থেকে আনন্দ, সুখ ও শান্তি নিয়ে লেখা একটি কবিতা পড়ে শোনান।   


এর পরপরই চিনু মৃধা’র উপস্থাপনায় শিশু শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মিউজিক্যাল নাইট। শিশু শিল্পীরা হলো ডা: দেবাশীষ মৃধা ও তার সহধর্মিনী চিনু মৃধার একমাত্র কন্যা আমিতা, নভাই সিটির বাসিন্দা ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের প্রেসিডেন্ট  রতন হাওলদার তিন কন্যা স্নেহা, শ্রদ্ধা ও শ্রুতি।  স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে  সঙ্গীত পরিবেশন করেন আকরাম হোসেন, ড: নিলুফা আক্তার, আনন্যা সরকার, কাবেরী দে, দেবলীনা চক্রবর্তী, আয়েশা চৌধুরী, চিনু মৃধা। কবিতা আবৃত্তি করেন শাহীন ইসলাম । 


অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন সিলেটের জনপ্রিয় লোকগীতি শিল্পী দুলাল ভৌমিক। তিনি লোকসঙ্গীত ও সিলেটের ধামাইল পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তুলেন। সেই সঙ্গে তিনি গানের ফাঁকে ফাঁকে লোকসঙ্গীত ও সিলেটের ধামাইলের  অতীত ও বর্তমান পেক্ষাপট বর্ণনা করেন। দুলাল ভৌমিকের বেশ কটি ধামাইলে অংশ নেন নারী-পুরুষ সকলেই। তারা নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। তবলায় সহযোগিতা করেন উত্তম বড়ুয়া। গানের পর নৃত্যে অংশ নেন সমর্পিতা দাসগুপ্তা, অনন্যা সরকার, সানন্দা চক্রবর্তী । গানে গানে ফ্যাশন শোতে নারী-পুরুষ সকলেই অংশ নেন। দর্শক শ্রোতাদের কেউ কেউ আনন্দ বিনোদনের পাশাপাশি দিয়েছেন আড্ডা। অনেকে আবার রাজকীয় এই ভবনের প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নিজেকে ক্যামেরাবন্দী করতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ সকলেই অন্য রকম এক আনন্দে গা ভাসান।


রকমারী  মজাদার খাবার অনুষ্ঠানকে ভিন্নমাত্রা দেয়। খাবারের আয়োজনে ছিল চিকেন বিরিয়ানি, ফিস ও চিকেন ফ্রাই, খাসির রেজালা, ডালসহ আরো অনেক কিছু। মিষ্টান্ন জাতীয় দ্রব্যের মধ্যে ছিল পিঠা, মিষ্টান্ন, দৈ, বাহারি সন্দেশ প্রভৃতি।
তবে এবারের আয়োজনে কিছুটা ভিন্নতা আনার চেষ্টা করে মৃধা পরিবার। আর এতে সাড়াও দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। দেখা গেছে  অতিথিদের অধিকাংশই পায়জামা-পাঞ্জাবী, মহিলারা ঐতিহ্যবাহী শাড়ি (জামদানি, কাতান, গরদ) এবং শিশু কিশোররা দেশী পোষাক পরিধান করেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়েছেন। আগত অতিথিদের অনেকেই মৃধা পরিবারের ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।  সেই সঙ্গে তারা মনে করছেন এধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হচ্ছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর