শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

প্রদীপের আলোয় আলোকিত মিশিগান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০১৯-১০-২৮ ১০:২৭:৫৩
image

হ্যামট্রাম্যাক : হেমন্তের ঘন ঘোর অমাবস্যার রাতে দীপাবলির আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে মিশিগানও। আলোর এই ঝর্ণাধারায় সকল অন্ধকার ধুয়ে নিজেকে ও পৃথিবীকে আলোকিত করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জ্বালালেন শত সহস্র প্রদীপ। গতকাল শনিবার এবং আজ রোববার সন্ধ্যায় এমন চিত্র দেখা গেছে এখানে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসাবাড়ি আর মন্দিরগুলোতে।


সনাতন ধর্ম মতে, এই মাহেন্দ্র লগ্নে আবির্ভাব ঘটে শ্যামা দেবীর। ‘মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে অন্ধকারে দু’চোখ আলোয় ভরো প্রভু’ এভাবে অন্ধকার সরিয়ে সবার মঙ্গল কামনায় দীপাবলিতে প্রার্থনা করেন তারা। দীপাবলি উপলক্ষে মিশিগানের মন্দিরে মন্দিরে ছিল নানা আয়োজন। 
আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশীর দিন ধনতরেস অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়। দ্বিতীয় দিনটিকে বলে নরক চর্তুদশী। তৃতীয় দিন অমবস্যায় কালীপূজা হয়, এ দিনই উদযাপিত হয় দীপাবলির মূল উৎসব। চতুর্থদিন কার্তিক শুক্লা প্রতিপদ। এইদিন বৈষ্ণবরা গোবর্ধন পূজা করেন। পঞ্চম দিন ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা, একে যমদ্বিতীয়াও বলা হয়ে থাকে। 


হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী দীপাবলির এই দিনেই বিষ্ণুর বামন অবতার অসুর বলিকে বধ করা হয়েছিল। হিন্দুরের বিশ্বাস ভালোবাসা ও জ্ঞানের শিখা প্রজ্বলিত করতে অসুর বলিকে পৃথিবীতে এসে অযুত অযুত  প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি দেয়া হয় দীপাবলির এই দিনে। তবে দ্বীপাণ্বিতা উৎসবটি এসেছে মূলত রামায়ন থেকে। রামায়ন অনুসারেই দীপাবলি তিথির প্রচলন বলে অনেকে মনে করেন। কথিত আছে, ত্রেতা যুগে দীপাবলি দিনে রামচন্দ্র রাবণ বধ করে ১৪ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যায় ফেরেন। নিজেদের পরমপ্রিয় রাজাকে ফিরে পেয়ে অযোধ্যাবাসী ঘৃত প্রদীপ জ্বেলে সাজিয়ে তুলেন তাদের রাজধানীকে। সেই সঙ্গে বাজি উৎসব করেন প্রজারা। সেই সন্ধ্যার মুহূর্ত অনুকরণে আজও প্রতিবছর পালিত দীপাবলি উৎসব। 


আর এই দীপাণ্বিতা তিথিতে গৃহকোণ এবং মন্দিরগুলোতে জ্বলে ওঠে শত সহস্র আলো। কোথাও মাটির প্রদীপ আবার কোথাও মোমের বাতি। অমবস্যার ঘোর অন্ধকার ঢাকা পড়ে যায়  এই  আলোর বিচ্ছুরণে। এই প্রদীপ জ্বালানো অমঙ্গল বিতারণের প্রতীক। বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রদীপ প্রজ্বলন করলে ঘরে লক্ষ্মী আসেন বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন। অমঙ্গল বিতারণের জন্য আতশবাজিও পোড়ানো হয়ে থাকে। 


হিন্দু পুরান মতে, এ দিনে নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর যখন কৃষ্ণ তার বোন সুভদ্রার কাছে আসেন তখন সুভদ্রা তার কপালে ফোঁটা দিয়ে তাকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়। এদিন ভাইদের মঙ্গল কামনায় বোনেরা তাদের কপালে চন্দনের ফোটা দিয়ে থাকেন।
দীপাবলি উৎসব শুধু সনাতনীরা নন, শিখ ও জৈন ধর্মের অনুসারীরাও পালন করেন। দীপাণ্বিতা অমাবস্যায় কালীপূজা বা শ্যামাপূজাও পালিত হয়েছে সাড়ম্বরে। 


এ জাতীয় আরো খবর