শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

বাংলা সংস্কৃতির আলো ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে : ডা: দেবাশীষ মৃধা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০১৯-১০-২৯ ০৪:৪৬:৫৯
image

হ্যামট্রাম্যাক :  বিশিষ্ট নিউরলজিস্ট, সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকাল এসোসিয়েট প্রফেসর, মৃধা ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার এবং দার্শনিক ডা: দেবাশীষ মৃধা বলেছেন,  আমরা সবাই পড়ে আছি প্রবাসে, এই বিদেশে। কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি আমাদের সংস্কৃতিকে। তিনি বলেন, আমাদের চিন্তা-চেতনা, শয়নে স্বপনে, জাগরনে আমাদের ভেতরে একটা সংস্কৃতি থাকে। সেই  সংস্কৃতি হলো, বাংলা সংস্কৃতি। তিনি বলেন, আমরা বিদেশ পড়ে থাকলেও আমাদের আত্মা, হৃদয়, ভালবাসা, মন পড়ে আছে, সেই বাংলার আনাচে কানাচে বিলে খালে সেখানে, সেই সংস্কৃতিতে। যারা এই সংস্কৃতি আমাদের মাঝে তুলে ধরছেন সর্বোতভাবে সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজক বৈশাখী উৎসবকে এজন্য তিনি সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানান। দেবাশীষ মৃধা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি জোবায়ের টিপু ও নোবেলকেও অভিনন্দন  জানান।


তিনি বলেন, আমি শুনেছি সঙ্গীত শিল্পী নোবেল শুধু বাংলাদেশে নয়, এপার বাংলা ওপার বাংলা এবং সমগ্র বিশ্ব বাংলার কাছে আমাদের সঙ্গীতকে পরিচয় করে দিয়েছে। দেবাশীষ মৃধা গতকাল শনিবার (২৭ অক্টোবর) মিশিগান রাজ্যের বাংলা টাউন খ্যাত হ্যামট্রাম্যাক সিটির গেইট অব কলম্বাসে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন বৈশাখী উৎসব ইনক আয়োজিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা  ‘বাজনা’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রতন হাওলাদার।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেবাশীষ মৃধা আরো বলেন, একটি ফুল ফোটতে পারে না, যদি না সে সূর্যের আলো পায়। তেমনি আমাদের মানসিকতা, হৃদয়, ভাব, ভালবাসার সার্বিক উন্নতি হতে পারে না, যদি না একটা সংস্কৃতিক আলো আমাদের মাঝে না পড়ে। তিনি আশা করেন আর এই বাংলা সংস্কৃতির আলো আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেবে বৈশাখী উৎসব। 


তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি বাড়ছে, ভালো এবং সুন্দর হচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যেও একটি বিপদ সংকেত শুনতে পাচ্ছি। শুনতে পাচ্ছি এজন্য যে, বাংলা সাহিত্যের আকাশে একটা গর্জন হচ্ছে, মেঘ জমেছে। সেই মেঘটা হলো আমরা অন্যের সংস্কৃতিকে ভালবাসি। পাশ্চাত্য সাহিত্যকে আমরা গ্রহণ করছি। আমরা গ্রহণ করছি হিন্দি সাহিত্য ও সংস্কৃতি। আমাদের ভেতরে অনুপ্রবেশ করেছে, সেই মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতি। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের মূল সাহিত্য বা সংস্কৃতি বাংলা। তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের মন মানসিকতাকে আরো সুবল, সুন্দর, স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার করে দিক। কেননা আমাদের সংস্কৃতির মাঝ থেকেই বাংলা, মা, মাটি ও মানুষকে ভালবাসতে হবে।


অনুষ্ঠানে কোটি হৃদয়ে ঝড় তোলা বাংলা সঙ্গীতের মেগাস্টার  এবং সারেগামাপার জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী নোবেল এবং জুবায়ের টিপু  সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বিপুল সংখ্যক দর্শক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা বাজনাতে তাদের গান উপভোগ করেন। তাদের  সুরের মূর্ছনায় প্রবাসীরা বাংলাদেশিরা কিছু সময়ের জন্য হলেও হারিয়ে যান। বৈশাখী উৎসব ইনক আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উপভোগে কোন এন্ট্রি ফি ছিল না। দর্শকরা  বিনামূল্যে  তাদের প্রিয় শিল্পীকে স্বচক্ষে অবলোকন এবং গান শুনতে পেরে হয়েছেন বিমোহিত । অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পী জুবায়ের টিপুকে যন্ত্রে সঙ্গীতে সহযোগিতা করেন কী বোর্ডে অসিত চৌধুরী, গীটারে আকাশ, তবলায় শিমুল দত্ত এবং পারকাশনে আবির। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় দুজন শিল্পী নৃত্য পরিবেশন করেন। তারা হলেন সুকন্যা শুক্লা এবং রামিসা ফারিয়া


উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে বৈশাখী উৎসবের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ এবং যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সকলকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন- সেলিম আহমদ, সাকের উদ্দিন সাদেক, মো. জাহেদ মাহমুদ আজিজ সুমন, শাহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ, রাসেল মোহাম্মদ, মৃদুল কান্তি সরকার, শেখ বদরুদ্দোজা জুনায়েদ সৈয়দ সালেক আহমদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন- কাদের আজাদ, রুম্মান আহমদ চৌধুরী ইভান, সৈয়দ ইয়াহিয়া, কবির আহমদ, শাহরিয়ার, মুকুল খান, তাহমিদ খান, গৌতম দেব শুভ্র, রুম্মান আহমদ স্বাগত, রাহাত আহমদ, রাজ রহমান, সুফিয়ান আহমদ, মো. নুর মিয়া, খাজা আফজল খান, কাজী মামুন, আব্দুল আজিম, তরিক উদ্দিন, রুহুল আমিন, ইমরান এইচ নাহিদ, হাসিন হাসনাত, রাফাত খান, রনি আহমদ, আরিফ আরমান জিসান, মুহতাসিন রহমান সাদমান, রিফাত উদ্দিন, ওয়াসিমুর রহমান, মো. তাহমিদ, মো. ইকবাল খান ও মাসুকুর রহমান।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন।


এ জাতীয় আরো খবর