সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২০

অগ্নিগর্ভ অসম ও ত্রিপুরা : গুয়াহাটিতে পুলিশের গুলি, নিহত ৩ : সেনা মোতায়েন : মেঘালয়ে বিক্ষোভ

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
image

অগ্নিগর্ভ  গুয়াহাটিতে চলছে সেনা টহল। ছবি- নিউজ লাইভ

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ঘিরে অগ্নিগর্ভ অসম ও ত্রিপুরা। এরই মধ্যে অগ্নিগর্ভ অসমে ঝরল রক্ত। গুয়াহাটিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩ জন। হিংসা থামার কোনও লক্ষণই নেই। কারফিউ জারি রয়েছে। কিন্তু কারফিউকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পথে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। ১০ জেলায় বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট। বাস জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। কিছু আগে ফের ট্রাক জ্বালিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিপর্যস্ত ট্রেন ও বিমান পরিষেবা। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল। এছাড়াও গুয়াহাটির বিজেপি সাংসদ কুইন ওঝার বাড়িতেও ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। ইতিমধ্যে গুয়াহাটিতে বিক্ষোভকারীদের দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন এবং জি ২৪ ঘন্টা সূত্রের।
খবরে বলা হয়েছে, পুলিশের গুলিতে প্রথমে গুয়াহাটির লাসিত নগরে একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।  আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে পুলিশ। তখনই গুলিবিদ্ধ হন দিপাজ্জল দাস নামে এক আন্দোলনকারী। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত দিপাজ্জল দাসের বাড়ি অসমের ছয়গ্রামে। গুয়াহাটির সৈনিক ভবনের ক্যান্টিনের কর্মী দিপাজ্জল।
গুয়াহাটির হাতিগাঁও এলাকার শঙ্করপথেও গুলি চালিয়েছে পুলিশ। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে পুলিশ গুলি চালায়। মৃত্যু হয় আরেক আন্দোলনকারীর। গুয়াহাটির বৈশিষ্ট্যর নতুন বাজারেও পুলিশের গুলিতে এক আন্দোলনকারীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে এক ঘণ্টায় মোট ৩ আন্দোলনকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
এই পরিস্থিততে অগ্নিগর্ভ অসমের আইন-শৃঙ্খলার বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাকে। গুয়াহাটির ইউনিফাইড কমান্ডারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওদালগুড়ি, শোণিতপুর, ডিব্রুগড়, ডিমহাসও সহ আরও কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি গুয়াহাটিতে জারি করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ। শিবসাগরেও জারি অনির্দিষ্টকালের কারফিউ।
জানা গেছে, গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দীপক কুমারকে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে মুন্না প্রসাদ গুপ্তাকে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বদলি করা হচ্ছে আরও ৪ ডেপুটি কমিশনারকেও। একইসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে এনআইএ এর আইজিপি জিপি সিং-কে অসম পুলিশের এডিজিপি পদে নিয়ে আসা হয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল। ক্যাব নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আরজিও জানিয়েছেন তিনি। তবে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা আসু-র উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন কোনওভাবেই ‘বাংলাদেশি’দের জায়গা দেবে না অসম। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত দাসের বক্তব্য, ক্যাব নিয়ে অসমের মানুষের শঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
এদিকে, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা-সহ ও কাঞ্চনপুরে সমস্ত দিন চলে প্রবল বিক্ষোভ। কাঞ্চনপুর ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা লগু করা হয়ছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট ও এসএমএস পরিষেবাও। তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায় মণিপুরে। রাজ্যটিকে ইনার লাইন পার্মিট বা আইএলপি-র আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণার পরই মণিপুরবাসীর মধ্যে তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
এদিকে, বিক্ষোভের আঁচ অসমের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে মেঘালয়েও। বৃহস্পতিবার শিলং জুড়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। কংগ্রেসের তরফে আলাদা করে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিক্ষোভের গুরুত্ব বুঝে মেঘালয়েও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৪৮ ঘণ্টা মেঘালয়বাসী ইন্টারনেট পাবেন না। পরবর্তীকালে এই মেয়াদ বাড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ইন্টারনেটের পাশাপাশি এসএমএস পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। রাত ১০টার পর থেকে শিলংয়ের বিভিন্ন প্রান্ত কারফিউ জারি করা হবে। 


এ জাতীয় আরো খবর