শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০

শুভ বড়দিন আজ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০১৯-১২-২৫ ১১:৪৪:০৪
image

 ছবি : পিকসবে

আজ ২৫ ডিসেম্বর,  শুভ বড় দিন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট জেরুজালেমের বেথেলহেম শহরে একটি গোয়ালঘরে কুমারীমাতা মেরির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করার জন্য যিশু জন্ম নিয়েছিলেন। ‘পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা’ করার দর্শন শিখিয়ে গেছেন তিনি। ঘৃণাকে দূরে ঠেলে ভালোবাসো দিয়ে মানবজাতিকে টেনে নিয়েছেন বুকে। পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনই ছিল যিশুখ্রিস্টের অন্যতম ব্রত। বিপন্ন ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য মহামতি যিশু নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার জীবনাচরণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলির জন্য মানব ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তিনি।
আজ সারাবিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মানুসারীরা আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়াও বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়ে বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ক্রিসমাস ডে' বা শুভ বড়দিন উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি বাড়ী, গির্জা, আর অভিজাত শপিং মলগুলো সাজানো হয়েছে বর্নিল আলোক সজ্জায়। সাজানো হয়েছে গোশালা। খ্রিস্টমাস ইভের আলোক ছটায় ভাসছে ক্রিসমাস ট্রি। কেননা ক্রিসমাস ট্রি সাজানো এ উৎসবের একটি বড় অনুষঙ্গ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গীর্জা সমূহে বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার সকালে গীর্জায় গীর্জায় অনুষ্ঠিত হবে প্রার্থনা। দিনটি উপলক্ষে খ্রিস্টান পরিবারে কেক  তৈরী হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা। এদিনে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো, স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো কিংবা অতিথি আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে পরমানন্দে দিনটি কাটাবেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন।  আজ খ্রিষ্টানদের কবরস্থানগুলোতে মোমবাতি জ্বালাবেন স্বজনরা। শিশুদের জন্য ক্রিসমাস পার্টিসহ নানা ধরনের আয়োজন থাকে। রংগীন সজ্জায় সজ্জিত মলে স্থাপিত দীর্ঘ 'ক্রিসমাস ট্রি আর লাল পোষাক আর ধবধবে সফেদ চুল-দাড়ি, উপহার ভর্তি কাঁধের লাল ঝোলা শিশুদেরকে দারুন ভাবে আকৃষ্ট করে। অনেকেই গাড়ী নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে এই আলোক সজ্জার দৃষ্টি নন্দন শোভা অবলোকনে। সব মিলিয়ে ক্রিসমাসের আনন্দে মেতে ওঠবে গোটা বিশ্ববাসী।
এ দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস- ঈশ্বরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একজন নারীর প্রয়োজন ছিল। সেই নারীই কুমারী মেরি। যাকে মা মেরি নামে ডাকেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়। ‘ঈশ্বরের আগ্রহে ও অলৌকিক ক্ষমতায়’ মা মেরি কুমারী হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবতী হন।
ঈশ্বরের দূতের কথামতো শিশুটির নাম রাখা হয় যিশাস- বাংলায় এর নাম হল ‘যিশু’। শিশুটি কোনো সাধারণ শিশু ছিল না। ঈশ্বর যাকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। যিশু নামের সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনান। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে বিপথগামীরা ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করে।

 


এ জাতীয় আরো খবর