শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০

ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে বর্ণিল আয়োজনে পৌষ সংক্রান্তির পিঠা উৎসব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২০-০১-২০ ১৩:৪৫:৪৯
image

ডেট্রয়েট : বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে গতকাল ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে বর্ণিল আয়োজনে পালিত হয়েছে পৌষ সংক্রান্তির পিঠা উৎসব। এই উৎসবে নারী-পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরা অংশ নেন। প্রবাসী নারীরা তাদের হাতের নৈপুণ্য দিয়ে নানা ধরণের পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

গতকাল রোববার দুপুরে ৪২১৫ ইষ্ট ম্যাকনিকলস রোডস্থ ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন টেম্পলের প্রেসিডেন্ট রতন হাওলদার, গভর্ণিং বডির সদস্য প্রদীপ চৌধুরী, সেক্রেটারী নিতেশ সূত্রধর, ফুড প্রিপারেশন ডাইরেক্টর মহেশ সূত্রধর। 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন টেম্পলের প্রেসিডেন্ট রতন হাওলদার। তিনি বলেন, বাঙালির সংস্কৃতিতে পৌষ সংক্রান্তি একটি বিশেষ উৎসবের দিন। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই প্রতি বছর আমাদের এ আয়োজন। আর এ ধরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে পৌষ সংক্রান্তির পিঠার ঐতিহ্য প্রবাসেও ধরে রাখা সম্ভব।  


প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর পিঠা প্রতিযোগিতায় ৮ সদস্যের বিচারকমন্ডলীর নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন অমল দেব, তপন সিকদার, রাখি রঞ্জন রায়, অবিনাশ চৌধুরী, সুভাষ চক্রবর্তী, অজিত দাশ, পুর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু ও সুব্রত সাহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো ঘোষণা করা হয় যে, বিচারকমন্ডলী বিভিন্ন সুস্বাদু পিঠার স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি গুণ, মান, বৈচিত্র বিবেচনায় এনে ফলাফল নির্ধারণ করবেন। 
এর আগে সকাল ১১ টায় গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পরে নাম সংকীর্তন ও লুটের পর শুরু হয় বহু প্রত্যাশিত ও কাঙ্খিত পিঠা উৎসব। এতে ঐতিহ্যবাহী নানা স্বাদের প্রায় ৪০ রকমের পিঠা ছিল। উল্লেখ্যযোগ্য পিঠার মধ্যে ছিল তেলের পিঠা, ভাপা পিঠা, খোলা চিতই, দুধ চিতই, দুধ পুলি,পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, ফুলঝুরি, সন্দেশ, চটপটি, সিঙ্গারা প্রভৃতি। 


ফলাফল নির্ধারণে বিচারকমন্ডলীর নজরে ছিল বাহারি ও নজর কাড়া পিঠা। সেই সাথে তারা নিচ্ছিলেন পিঠার স্বাদ। ততক্ষণে ভোজন-রসিকদের রসনা তৃপ্তি মেটাতে এ দেরি যেন অনেকেরই সইছিল না। কারণ সকলেই প্লেট হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে লাইনে ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান। এক পর্যায়ে বিচারকমন্ডলীরা জানান, তাদের দায়িত্ব শেষ; এবার আপনাদের পালা। সাথে সাথে সবাই যে যার ইচ্ছে মতো পিঠা তুলে নিয়েছেন প্লেটে, খেয়েছেন মনের আনন্দে। সেই সাথে আস্বাদন করেছেন গরম গরম খিচুরি আর আলু ভাজি।

ঐতিহ্যের পিঠা খাবার শেষে শুরু হয় পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে বক্তব্য রাখেন টেম্পলের গভর্ণিং বডির সদস্য অজিত কুমার দাশ, পুর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, অবিনাশ চৌধুরী, রাখি রঞ্জন রায় প্রমুখ। গভর্ণিং বডির সদস্য অজিত কুমার দাশ বলেন, পিঠা শুধুই একটি মুখরোচক খাদ্য নয়; আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্পর্কের এক আবহমান মেলবন্ধন। আমাদের সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকেও প্রতিনিধিত্ব করে এই পিঠা। তাই আমাদের প্রয়োজনেই পিঠা বৈচিত্র্যতাকে ধরে রাখতে হবে।


অবিনাশ চৌধুরী বলেন, পিঠা উৎসবে রকমারী ও বাহারী পিঠা প্রদর্শিত হয়েছে। খুবই সুস্বাদু হয়েছে এসব পিঠা। প্রতিযোগিতা ছিল খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এজন্য কে প্রথম, কে দ্বিতীয় নির্বাচিত করতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার ফলাফলে আমরা যেন মনোক্ষুন্ন না হই। কারণ পৌষ পার্বনের পিঠা উৎসব আনন্দের।


বিচারক মন্ডলীদের মধ্যে টেম্পলের গভর্ণিং বডির সদস্য পুর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু পিঠা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ,৩য়, ৪র্থ ও ৫ম স্থান অর্জনকারীদের বিশেষ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। তারা হলেন ১ম বৈশালী দেব, ২য় কল্পনা কুন্ড, ৩য় চম্পা পুরকায়স্থ, ৪র্থ সাথী সূত্রধর এবং ৫ম শিপ্রা চৌধুরী। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলকে সান্তনা পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে ৩য় পুরষ্কার বিজয়ী চম্পা পুরকায়স্থের স্বামী ও কন্যা পুরষ্কার গ্রহণ করেন।
এবারের পিঠা মেলায় মহিতোষ ভৌমিকের পরিচালনায় একটু ভিন্ন রকম আনন্দ দেওয়ার জন্য  ছিল ধাঁধাও। সঙ্গীত পরিবেশন করেন নিউ জার্সি থেকে আগত এক শিশু শিল্পী। ছিল ধামাইলের আয়োজন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন কালচারাল সেক্রেটারী সৌরভ চৌধুরী।


এ জাতীয় আরো খবর