মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০

অপরাজিত বিশ্বসেরা বাংলাদেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
image

অধিনায়ক আকবর আলীর দায়িত্বশীল ব্যাটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।
রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার পোচেস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত ৷ ধীর গতিতে ইনিংস শুরু করার পর অপ্রত্যাশিত ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভারত ৪৭.২ ওভারে অল-আউট হয়ে যায় ১৭৭ রানে ৷ ব্যাট হাতে কার্যত একা লড়াই চালান যশস্বী জসওয়াল ৷
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দাপটের সঙ্গে ইনিংস শুরু করলেও রবি বিষ্ণোইয়ের ঘূর্ণিতে পর পর ৪ উইকেট হারিয়ে একসময় চাপে পড়ে যায় ৷ তখন অধিনায়কের মতোই দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন আকবর। কিন্তু তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি শামীম হোসেন (৭) ও অভিষেক দাস (৫)। পরে পুনরায় ব্যাট হাতে ফিরে আসেন ইমন।
ধীরে ধীরে যখন বাংলাদেশ জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন ৪১তম ওভারে বৃষ্টি নেমে আসে। যুবা টাইগারদের রান তখন ৭ উইকেটে ১৬৩ রান। ৫৪ বলে দরকার তখন মাত্র ১৫ রান। ডার্ক লুইস পদ্ধতিতে তখনও বাংলাদেশ ১৮ রানে এগিয়ে ছিল।
বৃষ্টি শেষে পুনরায় ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ডিএল পদ্ধতিতে তখন যুব টাইগারদের দরকার হয় ৩০ বলে ৭ রান। সেই রান নিতে কোনো বেগ হতে হয়নি বাংলাদেশকে। অনায়াসেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ‍যুব টাইগাররা।
যেকোনো ধরণের ক্রিকেটে এবারই প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো টাইগাররা। এর আগে জাতীয় দল হোক বা বয়সভিক্তিক, এমনকি মেয়েদের ক্রিকেটেও কখনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ঘরের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলেছিল তারা।
সেই সঙ্গে ভারতের উপর একটি প্রতিশোধও নিল যুব টাইগাররা। এই ভারতের বিপক্ষেই সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালে ৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দলও এশিয়া কাপের ফাইনাল ও নিদাহাস ট্রফিতে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও হেরে যায় ভারতের বিপক্ষে। তবে এবার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ঠিকই ভারতকে বড় মঞ্চে হার উপহার দিল বাংলাদেশ। ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন আকবর ৷ সিরিজ সেরা হয়েছেন যশস্বী৷
এখানে উল্লেখ্য, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপে তিন প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয় আসে ৯ উইকেটে। এরপর স্কটল্যান্ড উড়ে যায় ৭ উইকেটে, যে ম্যাচে স্পিনার রাকিবুল হাসান করেন হ্যাটট্রিক। পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচটি। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে আকবর-শামীমরা হয় গ্রুপের সেরা দল।
স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তানজিদ হাসানের ৮০, তৌহিদ হৃদয়ের ৫১ আর শাহাদাত হোসেনের অপরাজিত ৭৪ রান দলকে এনে দেয় ৫ উইকেটে ২৬১ রানের সংগ্রহ। এরপর রাকিবুলের (৫/১৯) বাঁহাতি স্পিনে প্রোটিয়ারা অলআউট হয়ে যায় ১৫৭ রানে। ১০৪ রানের বিশাল জয় নিয়ে বাংলাদেশ ওঠে সেমিফাইনালে। bশেষ চারে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেও সমস্যা হয়নি। ঠিক ১০০ রান করা মাহমুদুল হাসানের ব্যাট এনে দিয়েছে ৬ উইকেটের সহজ জয়। ওই জয়ে ভারতকে ফাইনালে পায় বাংলাদেশ।

 


 

এ জাতীয় আরো খবর