রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

করোনা টেনে এনেছে অতীতকে

  • ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি :
image

ওয়ারেন : আজ করোনাভাইরাসের দুর্যোগ সময়ে ফিরে গেলাম সেই ২০০৫ সালে। নতুন সিটি নতুন পরিবেশ। বাংলাদেশি পরিবার খুব একটা ছিল না। হাতেগুণা কয়েকটা পরিবার। যারাই ছিলেন, সবাই  ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। কিছুটা আত্মীয়তার মায়ার তাগিদে ছিল আমার এনারবারে যাওয়া। ফুফাতো বোনের অনুরুধে চলে গেলাম সেখানে। নিজেকে তাদের সাথে মানানসই মনে হলো না। নিরব শহর। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। দুই-তিন মাসে একবার কমিউনিটির সবাই একত্রিত হয়ে কিছুটা সময় কাটাতাম। যেখানে বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ নেই। বিপদ আসলে কাউকে পাবো বলে আশা নেই- সেই শহরে থাকার প্রয়োজন কি আছে? যে যাই বলুক আমার ভাল আমি বুঝি। আবারো  ফিরে এলাম আগের ঠিকানায়। ফিরে আসার পর কয়েকজন বন্ধু আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেন। একজন বললেন, “আমি হলে খুশী হতাম। বাংলাদেশি যত কম তত ভাল।” আরেকজন বললেন, “তুমি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওনি, একা থাকার আনন্দটাই আলাদা।”  অন্য একজন বললেন, “আমেরিকানদের সাথে বসবাস করলে এই দেশের পরিবেশের সাথে ভাল করে পরিচিত হতে পারতে। ছেলেমেয়েরাও ভাল থাকতো। বাংলাদেশি পরিবেশে থাকলে শুধু বাংলাদেশের পরিবেশ শিখবে। আমি বাপু আমার ছেলেমেয়েকে বাংলাদেশিদের থেকে একটু দুরে রাখি।”এরকম অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। আজ এই বিপদে যারা আমাকে নিয়ে এত কথা বলেছিলেন, তাদের খুব মনে পড়ছে। উনারাই এখন বাংলাদশি কমিউনিটির সবাইকে ফোন করে বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইছেন। কারণ আমেরিকান পরিবেশ শিখতে গিয়ে নিজের কমিউনিটির কাছ থেকে অনেক দুরে চলে গেছেন। নিজের কমিউনিটির চেয়ে আপন আর কেউ নেই। এখন প্রতিটি মুহুর্ত বুঝতে পারছেন। করোনার ভয়ে সবাই ভীত। আমেরিকানরা দরজা- জানালা বন্ধ করে বসে আছে। এখন উনাদের সবার মুখে এক কথা “নিজের কমিউনিটির চেয়ে আপন আর কেউ হতে পারেনা।”
ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি : লেখিকা ও সংবাদকর্মী


এ জাতীয় আরো খবর