শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

ডেট্রয়েটে কারফিউ অমান্য করে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ: অনেক বিক্ষোভকারী গ্রেফতার

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
image

ছবি : গতকাল রাতে ডেট্রয়েটের আউটার ড্রাইভের কাছে গ্র্যাটিওট অ্যাভিনিউ-এ কারফিউ লঙ্গনের দায়ে প্রতিবাদকারীদের আটক করা হচ্ছে। (Photo: David Guralnick, The Detroit News)

ডেট্রয়েট : জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার পঞ্চম দিনের মতো ডেট্রয়েট এবং ওয়ারেন সিটিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বড় ধরণের কোন বিশৃংখলা না হলেও কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের দায়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চলমান বিক্ষোভের কারণে ডেট্রয়েটে অনির্দিষ্ট কালের জন্য রাত ৮ টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ  বলবৎ রয়েছে। বিকেলে পুলিশের বর্বরতা এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে ডেট্রয়েটে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ডেট্রয়েট ডাউনটাউনের দিক যাত্রা করে। রাত প্রায় পৌণে ৯টার দিকে মিছিলটি পূর্ব আউটার ড্রাইভ এবং কনার স্ট্রিটের মাঝামাঝি গ্র্যাটিওট অ্যাভিনিউস্থ একটি ডলার ষ্টোরের সামনে পৌঁছুলে পুলিশের মুখোমুখি হয়। পুলিশ হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, তারা গ্রেপ্তার করবে। পুলিশ বলছিল-  এটি একটি অবৈধ সমাবেশ। এ ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে  পড়ে। একদল ফিরতে শুরু করলেও অন্যরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এ অবস্থায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার শুরু করে। আটককৃতদের মাটিতে ফেলে তাদের হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে দেয় পুলিশ। গ্রেফতারকালে সেখানে দাঙ্গা পুলিশ উপস্থিত ছিল। ছিল একটি সাঁজোয়া যানও। পুলিশের ব্যাপক গ্রেফতারে প্রতিবাদকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।  বিক্ষোভকারীদের থামানো ও গ্রেপ্তারের কয়েক মুহুর্ত পরে ডেট্রয়েট পুলিশ চিফ জেমস ক্রেগ সাংবাদিকদের বলেছেন যে, তিনি জনসাধারণের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন এবং কারফিউ লঙ্ঘনকে  গ্রেফতারের কারণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাই না। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য গ্রেপ্তার করা নয়। ক্রেগ বলেছেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা প্রতিরোধের চেষ্টা করছিল। "যাঁরা দৌড়াতে পছন্দ করেছেন, আমরা তাদের যেতে দিয়েছি। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্ররোচিত করেনি। কারফিউ লঙ্ঘনের জন্য তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এদিকে আজ বিকেলে ওয়ারেন সিটিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে।  বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে ওয়ারেনের ৮ মাইল রোডের ঠিক উত্তরে ভ্যান ডাইকে উত্তর দিকে যাচ্ছিল। তবে মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। মিছিলকালে পুলিশ এসকর্ট দিয়ে ট্র্যাফিক গুলি বন্ধ করে দেয়। এক সময় শহরের মেয়র জিম ফাউটস এবং পুলিশ কমিশনার তাদের সামনে এসে উপস্থিত হন।
মেয়র জিম ফাউটস বলেছেন, "আমি এখানে প্রতিবাদকে সমর্থন করতে এসেছি। তিনি বলেন, আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই পুলিশ এখানে তাদের স্বার্থের পাশাপাশি ওয়ারেনের স্বার্থের শহরটি রক্ষা করতে এবং সুরক্ষার জন্য রয়েছে। আমি তাদের প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করি। 
মেয়র ফাউটস ফ্লয়েড এর ঘাড়ে অফিসারটির হাঁটু গেড়ে বসে থাকার ভিডিওটিকে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভের উদ্রেক করেছে উল্লেখ করে বলেন,  "ওয়ারেনে যদি এটি ঘটে তবে তা গ্রহণযোগ্যতা হবে না এবং কর্মকর্তাদের অপসারণ করা হবে।" বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওয়ারেনের বাসিন্দা কালা পিনো (৩৪) বলেছিলেন যে ফ্লয়েডের মৃত্যু দেখা খুব কঠিন ছিল এবং তিনি এবং তার স্বামী, যারা কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন, পুলিশ থেকে বর্ণবাদী লিখন নিয়ে "আচরণে অসুস্থ"। “আমি পরিবর্তন আনতে চাই। আমি পরিবর্তন আনার অংশ হতে চাই, ”পিনো বলেছিলেন।
এই সপ্তাহান্তে মিশিগানে বিক্ষোভের নামে বিশৃংখলা সৃষ্টি, কারফিউ  অমান্য করায় ২৮৪ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ৬০ জন, শনিবার ৮৪ জন এবং রবিবার ১০০ জন এবং সোমবার ৪০ জন গ্রেফতার হয়েছে। 
উল্লেখ্য, চেক জালিয়াতির অভিযোগে গত সপ্তাহে মিনিয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গকে নৃশংস ভাবে খুন করে সেখানকার পুলিশ। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে বার বার আর্জি জানাতে থাকলেও, হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা চেপে বসে থাকেন এক পুলিশকর্মী। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ভিডিয়ো সামনে আসতেই বিক্ষোভের শুরু হয় দেশ জুড়ে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তা হিংসাত্মক আকারও ধারণ করেছে।

Source & Photo: http://detroitnews.com


এ জাতীয় আরো খবর