রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই

  • ঢাকা প্রতিনিধি :
image

ঢাকা : জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর মারা গেছেন। আজ সোমবার (৬ জুলাই) ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এন্ড্রু কিশোরের বড় বোনের স্বামী ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে প্লেব্যাক এ সংগীত শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি স্ত্রী লিপিকা ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য  সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন এন্ড্রু কিশোর। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে থেমে থেমে তাঁকে কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় পূর্ণ সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ নয় মাস পর গত ১১ জুন সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর থেকে রাজশাহীতে বোনের বাসায় থাকছিলেন। তার ওই বাড়িটির একটি অংশেই রয়েছে ক্লিনিক। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল এন্ড্রু কিশোরের। বোনজামাই চিকিৎসক ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস তার দেখভাল করছিলেন। সোমবার সকাল থেকে এই গায়কের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাকে অক্সিজেন দিয়ে আইসিইউতে রাখা হয়। অবশেষে ক‌্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ মাস ধরে লড়াই করে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫  না ফেরার দেশে চলে গেলেন আটবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর।  এন্ড্রু কিশোরের পারিবারিক বন্ধু সুরকার ইথুন বাবু জানান, রাজশাহী চার্চের কবরস্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হবে।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে এন্ড্রু কিশোরের জন্ম। সেখানেই শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতে অনুরক্ত ছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনায় ভর্তি হলেও গানই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।
গানের নেশায় একসময় রাজধানীতে ছুটে আসেন এন্ড্রু কিশোর ছুটে আসেন। ১৯৭৭ সালে মেইল ট্রেন-এ আলম খানের সুরে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু হয়েছিল। এরপর বাদল রহমানের এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীতেও কণ্ঠ দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে প্রতিজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গান গাওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি।
তার গাওয়া ভালবেসে গেলাম শুধু, সবাই তো ভালবাসা চায়, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙাল, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে- এমন অনেক গান এখনও মানুষের মুখে ফেরে। গান গেয়ে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন তিনি। ৯০ এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত চলচ্চিত্রের গানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তার। ওই সময়েও তার গাওয়া ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি ছিল তুমুল জনপ্রিয়।


এ জাতীয় আরো খবর