সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০

আজ শুভ জন্মদিন তোমার

  • মইন উদ্দীন :
image

এতোকাল পিতাকে কেবল বাবা বাবা করে ডেকেছিলাম। যার সাথে মিশে ছিল কত বাহানা ভালোবাসার অজুহাত। দুষ্টুমি সবকিছু ঘিরে ছিল তোমাকে নিয়ে।কাছে গিয়ে নিভৃতে সারাটা দিন তোমার বুকে মাথা রেখে কত হিসেব কষেছি। সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছো, কত নির্ঘুম রাত শিয়রে বসে আমার নিজের অসুখ টাকে যেন তোমার করে নিতে চাইছিলে। কখনো কোনদিন না খেয়ে ঘুমোতে পারেনি তুমি ঘুমাতে দাওনি? মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হয়েছিলাম! তবে তুমি কখনো রাগ করোনি জড়িয়ে ধরে বারবার বলেছিলে বাবা তুমি আমার একটাই পৃথিবী।
পৃথিবীর সব বাবা গুলি এমনই হয়। নিজের সন্তানকে শিক্ষা থেকে শুরু করে ভালোবাসা, নিবিড়তার আত্মত্যাগ কোনটাই যেন ঘাটতি এদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি কখনো পাইনি আমার বাবার মাঝে।
তবে অনেককাল পর নিজে বাবা হলাম। সেদিন আমার বাবা আমার পাশে ছিলেন না পরপারে জান্নাতে চলে গিয়েছিল! আমার ছেলেটাকে বুকে জড়িয়ে অঝোরে কেঁদে ছিলাম। তবে নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম, চেষ্টা করেছি আজ অব্দি করে যাচ্ছি ছেলেটাকে আমার বাবার শিখিয়ে দেওয়া সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে একজন প্রকৃত পরোপকারী নিঃস্বার্থ একজন মানুষ বানাবো।
আজ তোমার জন্মদিন। শুভ জন্মদিন আব্বু। দেখতে দেখতে অনেক বছর গত হয়ে গিয়েছে। তোমার বেড়ে ওঠা, তোমার একাডেমিক শিক্ষা জীবনে গোল্ডেন জিপিএ। তোমার বুদ্ধিদীপ্ত উজ্জ্বল পথ চলা, পরোপকারী জাগ্রত বিবেক আমাকে বারে বারে মুগ্ধ করেছে। আমি চেষ্টা করেছি আমার বাবার থেকে শিখে নেওয়া সবটুকু তোমার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কতটুকু আমি পেরেছি জানিনা তবে আমি সেদিন তোমার দিকে তাকিয়ে ছিলাম বাবা। যেদিন তুমি তোমার পকেটের সবগুলি টাকা একজন অসহায় মানুষকে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আমার অনুমতির অপেক্ষা না করে আমাকে বলেছিলে বাবা আমার তো টাকার কোন দরকার নেই এই লোকটির টাকার অনেক দরকার। ওর তো দুটো হাত নেই কিভাবে ও  কাজ করে খাবে। তাই আমি ওকে সবটুকু দিয়ে দিলাম বাবা। 
 সেদিন আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে কিছু বলতে পারিনি আমার চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছিল। আমার বাবার প্রতিটি কথা আমার মনে পড়ে যাচ্ছিল।
আমি সেদিন এই পৃথিবীতে বাবা হওয়ার সার্থকতা খুঁজে পেয়েছিলাম। নিজের বাবার আদর্শ বুকে লালন করে, বাবা হওয়ার আনন্দ, প্রাপ্তি আমাকে যেনো আকাশ ছুঁয়ে দিচ্ছিলো বারে বারে। পৃথিবীতে মানুষ হওয়াটা খুবই জরুরী মানুষ সেই হবে যে অপরের দুঃখে নিজের সুখ সবচাইতে জরুরী প্রিয় জিনিসটা অপরের প্রয়োজনে বিলিয়ে দিবে।
পৃথিবীতে আমাদের মত সাধারণ মানুষের সার্থকতা শুরু এখান থেকেই যেখানে আমরা একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল, ভালোবাসা শ্রদ্ধা নিয়ে সুন্দর একটি পৃথিবী গড়ে  তুলবো।
তবে সবকিছুর পর আমি আমার স্ত্রী(Jc Rahman) কাছে চির ঋণী। যে মানুষটা তিলে তিলে বুকে কষ্ট লালন করে ছেলেটিকে আজ এত বড় করেছে। প্রকৃত মানুষ হওয়ার ভেদাভেদ বৈষম্য কে দূরে ঠেলে দিয়ে  একজন প্রকৃত আদর্শ নির্ভীক পরোপকারী মানুষের চিত্রগুলি তাকে ভালভাবে উপলব্ধির মাঝে জীবনাদর্শে পরিচালিত করেছে।
আল্লাহপাক আমার পরিবার আমার ছেলেকে যেন দীর্ঘ হায়াত দান করেন। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মালিক তিনিই  যিনি আমাদেরকে সুন্দর সাবলীল ভাবে সৃষ্টি করেছেন।
আবারো আমার ছেলে "তাহা রহমান" জন্মবার্ষিকীর এই দিনে তোমাকে অবারিত সিক্ত ভালোবাসায় আবেশে শুভ জন্মদিন তোমার। ভালো থেকো চির অম্লান।

 


 

এ জাতীয় আরো খবর