মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০

হবিগঞ্জে শিল্পবান্ধব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই চলছে মার কোম্পানীর উৎপাদন

  • মিলন রশীদ॥
image

হবিগঞ্জ, ২ সেপ্টেম্বর : গ্যাস বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ এই তিন খাত শিল্প কারখানা গড়ার উপযোগীসহ শিল্প বান্ধব পরিবেশের কারণে হবিগঞ্জকে বেঁচে নেয় বহুজাতিক ও রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।
২০০৩ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংস্কার করে বিশ্বরোড পরিণত করার পরই এ সড়কের দুপাশের ফসলি জমি কেনার হিড়িক পড়ে। দেশের নামকরা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্পবান্ধব পরিবেশ বলতে যা বোঝায় তার পরিপূর্ণতা খোজেঁ পায় হবিগঞ্জে। বহুজাতিক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি মাধবপুর উপজেলার শাহপুরে ২০১৪ সালে দুই একর ভূমির উপর গড়ে উঠে ‘মার’ কোম্পানী লিমিটেড’। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে এই প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়। এলাকার বেকার যুবক-যুবা মহিলাদের কর্মস্থানে বহুজাতিক কোম্পানীর মত ‘মার’ও অংশ নেয়। কিন্তু শুরুতেই কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিরাট ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। কারখানার দূর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পার্শ্ববর্তী নালা দিয়ে নির্গত হয়ে পুরো এলাকা দূর্গন্ধময় হয়ে পড়ে। দিন দিন ফুঁসে উঠা ভুক্তভোগীরা প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানায়। এমতাবস্থায় হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বিষয়টি নিয়ে মাঠে নামেন। তিনি জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে গেলে আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী এডভোকেট সুতলানা কামাল, পরিবেশ আন্দোলন ‘বেলা’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান, বাপার কেন্দ্রীয় নেতা শরীফ জামিলসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এর সুষ্ঠ সমাধান চান। 
এদিকে মাধবপুর উপজেলা ও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে ‘মার’ কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে এসে কোম্পানীর উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন। এদিকে ‘মার’ কোম্পানী অত্যাধুনিক বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে কোম্পানীর উৎপাদন অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে তিন /চার বছর কোম্পানীকে লোকসানের ঘানি টানতে হয়। ২০১৮ সালের শেষের দিক থেকে লোকসানের ঘানি থেকে উত্তোরণ ঘটিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ২০২০ সালের শুরুতেই বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাস আঘাত হানলে আবারো উৎপাদন স্থিমিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ৩ শিফটের স্থলে ২ শিফটে উৎপাদন চলছে।
‘মার’ কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার অপারেশন সাদেকুল ইসলাম জানান, কোম্পানীর শুরুতেই নানা রকম ঝামেলা, বিপত্তি উত্তরণ করে উৎপাদন পণ্য সঠিক ভাবে সরবরাহ চলছে। অত্যাধুনিক বর্জ্য পরিশোধানাগার স্থাপনের পর দূর্গন্ধময় পরিবেশ শতভাগ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে তদন্ত করে সস্তুষ্ট হয়ে তিনটি সনদপত্র প্রদান করেছেন। স্থানীয় জনগনের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিন শিফটের স্থলে দুই শিফটে কাজ হচ্ছে। নিয়োজিত শ্রমিকরা আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন এ অবস্থায় কারখানা চালু থাকলে বিগত দিনের লোকসান কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে না। উন্নত মানের বর্জ্য শোধানাগারে বিভিন্ন দিক নিয়েও তিনি আলোচনা করেন। এ সময় কোম্পানীর কারিগরি উপদেষ্টা মোঃ ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


কারখানা ঘুরে দেখা যায় সর্বত্রই পরিস্কার পরিছন্নতার সুস্পষ্ট চাপ আর বর্জ্য শোধনাগার থেকে বইছে নির্মল, গন্ধহীন স্বচ্ছ পানি যা বয়ে যাচ্ছে আভ্যন্তরিন ড্রেন হয়ে মহাসড়কে পাশের খালে। এ পরিবেশে বিগত দিনে ফুঁসে উঠা এলাকাবাসীর সাথে নেই কোন বিরোধ। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে ‘মার’ নিরবদি উৎপাদন অব্যহত রেখেছে। যা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখছে।
মার (MAAR) কোম্পানী লিঃ এর পরিকল্পনা ও লক্ষ্য :
জেনারেল ম্যানেজার  জানান, মার (MAAR) লিমিটেড, ভুট্টা থেকে প্রাপ্ত পণ্য যেমন কর্ন স্টার্চ, প্রক্রিয়াজাত স্টার্চস এবং অ্যানিমেল ফিড উৎপাদন করে। এসব পণ্যগুলি বেকারী, কনফেকশনারির মত শিল্পগুলিতে ব্যবহৃত হয় এবং টেক্সটাইল, কাগজ, পার্টিক্যাল বোর্ড, আঠা, রজন, বিস্ফোরক উৎপাদন ইত্যাদিতেও ব্যবহৃত হয়।  তিনি বলেন, আমাদের ফ্যাক্টরীটি সুবিধাজনকস্থানে অবস্থিত হওয়ায় সহজেই আমাদের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে জাহাজ যোগে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করতে পারি।
আমাদের ফ্যাক্টরিতে সুসজ্জিত আর এন্ড ডি ল্যাবরেটরী আছে, যা সবসময় গবেষণা ও বিশ্লষণের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করে প্রতিনিয়ত আরও উন্নত স্টার্চ উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। আমরা আর অ্যান্ড ডি বিকাশের মাধ্যমে বিকল্প পণ্য উন্নয়নের বিনিয়োগের সুযোগ করতে পেরেছি এবং দেশের প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেছি। আমাদের কখনওই পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
‘মার’ (MAAR) একটি সংস্থা যা তার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ মান অনুসরণ করে, ক্লায়েন্টদের পাশাপাশি সর্বশেষ ব্যবহারকারীদের জন্য মান নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের ভ্ট্টুা থেকে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নত স্টার্চ উৎপাদন  করে বাজারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে আসাই মার’র মূল্য লক্ষ্য।
এই কোম্পনীর উৎপাদিত পণ্য মূলত টেক্সটাইল, কাগজ, ফার্মাসিউটিক্যাল, খাদ্য, আঠা এবং অন্যন্য শিল্পে সরবরাহ করে থাকে। আমাদের অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মধ্যে ভূট্টা থেকে তৈরি খাবার, খাদ্যাপোযোগি ব্যাকটেরিয়া ও ফাইবার। যা সাধারণত প্রাণী-খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়।


 

 


 

এ জাতীয় আরো খবর