বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

রাখাইনে সেনা সমাবেশ, সতর্ক বিজিবি : ঢাকায় রাষ্ট্রদূতকে তলব

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
image

কক্সবাজার, ১৩ সেপ্টেম্বর : আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বিপুলসংখ্যক সেনা ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের সেনা মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিও সীমান্তে জনবল বাড়িয়েছে। সীমান্তে  উত্তেজনার কারণে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দূতকে ডেকে নিয়ে মৌখিক প্রতিবাদ ও উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্র সীমান্তে মাছ ধরার ট্রলারে করে মিয়ানমারের সেনাদের টহল এবং রাখাইনে তাদের সরব উপস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইংয়ের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা উনাকে ডেকেছিলাম এবং আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। বলেছি, তিনি যেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেন।’
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার হাজার খানেক বর্মী সেনা টেকনাফ সীমান্তে ৩টি পয়েন্টে টহল দিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ রাখাইনে প্রবেশ করে। গতকাল মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক সেনার উপস্থিতি সীমান্তের এপার থেকেও দেখা গেছে। সীমান্তে সেনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করছে মিয়ানমার। সেনাদের সন্দেহজনক ওই মুভমেন্ট শান্ত সীমান্ত অশান্ত করা এবং রাখাইন অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা হিসাবে দেখছে ঢাকা। তাই বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবির পক্ষ থেকে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, বিনা উস্কানিতে এভাবে সীমান্তের কাছে নতুন করে সেনাসমাবেশের প্রতিবাদে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে রবিবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে আনা হয়। সীমান্তে বর্মী বাহিনীর অপতৎপরতা বন্ধ এবং সব ধরণের ভুল–বোঝাবুঝি অবসানে উদ্যোগ নিতে মিয়ানমারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে ঢাকা।
প্রসঙ্গতঃ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি।
গত বছর দু’দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে ফিরতে রাজি হননি রোহিঙ্গারা।

 


এ জাতীয় আরো খবর