বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০

চা বাগানে জৈব বালাই নাশক প্রয়োগে উৎপাদনে নতুন বিপ্লব

  • মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
image

মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) ১৯ সেপ্টেম্বর : মাধবপুরে চা বাগানে জৈব বালাই নাশক প্রয়োগে উৎপাদনে নতুন বিপ্লবের সুচনা হয়েছে।  প্রতি বছর বাগানে কোটি টাকার রাসায়নিক প্রয়োগ করেও পোকা দমন করা যেত  না। চা বাগানে ১০ থেকে ৫০ ভাগ চা পাতা উৎপাদন কম হত। কিন্তু সমন্বিত জৈব বালাই নাশক পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে লষ্করপুর ভ্যালির সুরমা চা বাগান ৯০ ভাগ রোগ মুক্ত। গত ২ বছর আগেও সুরমা চা বাগানে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করে কোন ফল পাওয়া যেত না। এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছিল সুরমা চা বাগান কর্তৃপক্ষ। সিলেটের মির্জাপুর ইস্পাহানি চা বাগানের  জৈব বালাই নাশক পদ্ধতি ফলাফল দেখে এ বছর শুরুতেই সুরমা চা বাগানে এর প্রয়োগ পদ্ধতি শুরু করে। এতে চা বাগানে বিরাট সাফল্য এসেছে। 
লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি সুরমা চা বাগানের বাসিন্দা রবীন্দ্র গৌড় বলেন, লস্করপুর ভ্যালির মধ্যে অনেক চা বাগান এ বছর বিভিন্ন মৌসুমি পোকার আক্রমনে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপদন কমে গেছে অনেক। কিন্তু সুরমা চা বাগান একটি ব্যতিক্রম। জৈব বালাই নাশক প্রয়োগের কারণে সুরমা চা বাগানের প্রতিটি সেকশন সবুজে ভরে গেছে। এ পদ্ধতি প্রতিটি চা বাগানে প্রয়োগ করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি খরচ কমে চায়ের বাজারে লাভের সৃষ্টি হবে। 
সুরমা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মিরন হোসেন জানান, জৈব বালাই নাশক পদ্ধতির ফলে সুরমা চা বাগানের উৎপাদনে নতুন বিল্পবের সৃষ্টি হয়েছে। এখন চা বাগান রোগ মুক্ত। চা বাগানে মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন পোকার উপদ্রব দেখা দিত, তখন পোকা দমন করতে চা বাগানে কোটি টাকার উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করা হত। এর ফলে উপকারি পোকাসহ চা বাগানের অনেক ক্ষতি হত। 
কিন্তু জৈব বালাই নাশক পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে পোকা সনাক্ত করে নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব বালাই নাশক প্রয়োগ করায় উপকারি পোকা কোন ক্ষতি হয়নি। উপকারি  পোকা দিয়ে পোকা দমন করা যাচেছ। রাসায়নিক বিষ প্রয়োগের কারণে কচি চা পাতার উৎপাদন বাধা গ্রস্তের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও সহায়ক ছিল না। জৈব বালাই নাশক পদ্ধতি হল নিম পাতাসহ বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের নির্যাস দিয়ে তৈরি ঔষধ।
সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম জানান, ২/৩ বছর আগে পোকার আক্রমনে চা বাগান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বর্তমানে জৈব বালাই নাশক ব্যবহারের পদ্ধতির ফলে সুরমা চা বাগান এখনর রোগমুক্ত । প্রায় এক কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। চায়ের গুণগত মান বেড়েছে।  মানব দেহের জন্য স্বাস্থ্যকর এই চা। বাংলাদেশের সকল চা বাগান কর্তৃপক্ষ এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে বাংলাদেশে চায়ের বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন ৪/৫ মাস আগে করোনা ভাইরাসের কারণে লক ডাউন থাকায় চা বাগানে চায়ের বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল। 
তবে চা বাগান রোগমুক্ত হওয়ায় চায়ের উৎপাদন ও গুণগুত মান বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ক্ষতি পুষিয়ে এখন ভাল দরে সুরমা চা বাগানের চা পাতা নিলামে বিক্রি হচ্ছে। 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


এ জাতীয় আরো খবর