সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০

মাধবপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু : ১৬৪ ধারায় একজনের জবানবন্দি

  • মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
image

মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) ১৯ অক্টোবর :  উপজেলার  মনতলা ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী ইয়াছমিনের মৃত্যুর জট খুলছে। প্রেমিকের   হাত থেকে বাঁচতে চলন্ত সিএনজি অটোরিক্সা হতে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে আহত হয়ে তার মৃত্যু  হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার  করে ইব্রাহিম মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করার পর  মৃত্যুর রহস্যের জট খুলেছে। 
উপজেলার রাজনগর গ্রামের  মালু মিয়া ছেলে  ইব্রাহিম (১৪)কে  মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে রোববার রাতে  মনতলা থেকে গ্রেফতার করে  তদন্ত কর্মকর্তা  পুলিশ পরির্দশক গোলাম দস্তগীর  আহমেদ। সোমবার বিকালে  ইব্রাহিমকে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে  হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে ইব্রাহিম  ১৬৪ ধারা ইয়াছমিনের মৃত্যুর বিষয়ে দীর্ঘ জবানবন্দি দেন। সুত্র মতে;  জবানইন্দতে ইব্রাহিম জানান,  রাজনগর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে  মোবারক (২৫) এর সাথে  পার্শ্ববর্তী মেরাশানী গ্রামের ইয়াছমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মোবারক গ্রাম সম্পর্কে  ইব্রাহিমের মামা হয়। পেশায় সিএন জি চালক। ঘটনার দিন ৩ অক্টোবর সকালে মোবারক ইব্রাহিমকে ডেকে  নিয়ে  সিএনজি অটোরিক্সায় করে মনতলা  রেল লাইন এলাকায় যান।  এর কিছুক্ষণ পর  অটোরিক্সায় এসে উঠে ইয়াছমিন।
গাড়িতে উঠার পরই অটোরিক্সা  চালক মোবারক ইয়াছমিনকে আজই পালিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইয়াছমিন এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে  তাকে নামিয়ে দিতে বলে। এ সময় সে বেপোরোয়া গতিতে অটোরিক্সা  চালাতে থাকে। ইয়াছমিনের বাড়ি রাস্তা পার হয়ে গেলে  চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ঝাপ দেয় ইয়াছমিন। এতে সে গুরুতর আহত হয়। এসময় মোবারক গাড়ি নিয়ে মাধবপুর  হয়ে  আদাঐর চলে আসে।  ইয়াছমিন কে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে  নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এর আগের দিন ২ অক্টোবর বিকালে  ইয়াছমিনের তিন সহপাঠী  বান্ধবী  সাদিয়া, সুমাইয়া আক্তার, সুমাইয়া বেগম বাড়ি থেকে ইয়াছমিনকে পুর্ব মেরাশানী গ্রামে বেড়াতে যায় । সেখানে  ৪ সহপাঠী  মিলে রাত্রি যাপন করে। রাতে ইয়াছমিনের সাথে প্রেমিক মোবারকের ফোনে কথা হয়।  
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা  ইয়াছমিনকে বহনকারী সি নজি অটোরিক্সাটি  রোববার বিবাড়িয়া জেলার চান্দুরা রামপুর  এলাকা থেকে আটক করেছে। এঘটনায়  ইয়াছমিনের মা আয়েশা বেগম বাদী হয়ে  ১০জনকে আসামী করে আদালতে একটি হত্যা মামলা রুজু করে।  আদালতের নির্দেশে  মাধবপুর থানায়  ১৫ অক্টোবর মামলাটি এফআই আর  হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় থানার  পরির্দশক তদন্ত গোলাম দস্তগীর আহমেদকে। এরপরই তদন্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে  মোবারকের সহযোগি  ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন  সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,  মাদ্রাসা ছাত্রী ইয়াছমিনের মৃত্যুর রহস্যের জট খুলেছে। গ্রেফতারকৃত একজন আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার মুল হোতা মোবারককে  দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার  করা হবে।

 


 

এ জাতীয় আরো খবর