সোমবার, নভেম্বর ২৩, ২০২০

আজ বিজয়া দশমী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ডেট্রয়েট, ২৫ অক্টোবর : আজ বিজয়া দশমী। মন্দিরে মন্দিরে দেবী বিদায়ের সুর বেজে উঠেছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর দুর্গা মায়ের সন্তানেরা শান্তিজল ধারণ করবেন হৃদয়েও। এই লোকাচার শেষেই আসছে বছর ফের দুর্গা মায়ের আগমনের অপেক্ষা দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্যরকম রূপ পেয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। 
এর আগে চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার মিশিগানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর আসার কালে দেবী দুর্গার বাহন ছিল দোলা, যাওয়ার বাহন গজ বা হাতি।
সাধারণত মহালয়ার ছয় দিন পরই হয় দেবী দুর্গার বোধন। অর্থাৎ মহালয়ার পর থেকে দেবীর আগমনের ঘণ্টা বাজে। মহালয়া হয়ে থাকে শরৎকালে। কিন্তু এক মাসে দুটি অমাবস্যা পড়লে সেই মাসকে শাস্ত্রমতে ‘মল’ মাস বলা হয়। এই মাসে শুভ কাজের রীতি নেই। তাই মহালয়া শুরুর ৩৫ দিন পর দেবী দুর্গার আগমন। এ বছর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয় ১৭ সেপ্টেম্বর, আর ২১ অক্টোবর  ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে ৫দিন ব্যাপী শারদীয়া পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল। 
শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব। সারা বছর এই পাঁচ দিনের অপেক্ষায় বসে থাকেন সবাই। করোনা মহামারির প্রভাবে এবার উৎসবহীনভাবে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দুর প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। “সময়টা মহামারির। করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্ববাসীর জন্য মহাসংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই এবার উৎসব বাদ দিয়ে আয়োজন কেবল পূজায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।” স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে আয়োজন করা হয়েছে পুজোর। যতটা সম্ভব সামাজিক দূরত্ব রেখে ভিড় এড়িয়েই হয়েছে পুজো। অর্থাৎ জাঁকজমক আর আড়ম্বর বর্জন করায় এই অতিমারী পরিস্থিতিতে পুজোর রূপ পেয়েছে অন্যরকম। যে কারণে  করোনা কেড়েছে দুর্গোৎসবের আমেজ। 
ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে  শেষ হয়েছে এবারের দুর্গাপূজা।  তাই এ বছর দুর্গাপূজা হয়েছে ঠিকই,, ছিল না দুর্গোৎসব । পূজা হয়েছে মনে-মনে, নিষ্ঠায়, ভক্তিতে, আরাধনায়।  আজ সকাল  মিশিগানের মন্দির গুলোতে দশমী বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়েছে । সন্ধ্যায়  ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে বার্ষিক এই দুর্গোৎসব।


 

এ জাতীয় আরো খবর