সোমবার, নভেম্বর ২৩, ২০২০

দেবীর বিদায়ে বিষাদের সুর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ডেট্রয়েট, ২৬ অক্টোবর : প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বুধবার দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দশমী তিথিতে প্রতিমা নিরঞ্জনে শেষ হল দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ৫ দিনের উৎসব শেষে দুর্গা ফিরলেন কৈলাসে স্বামীর সান্নিধ্যে। দেবী দুর্গা পৃথিবীতে এসেছিলেন ভক্তদের কষ্ট দূর করতে।
বিজয়া দশমীর দিনে আবারও মর্ত্যলোক ছেড়ে গজে চেপে স্বর্গলোকে প্রস্তান করলেন দেবী। শাস্ত্রমতে গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা ।  অর্থাৎ গজে বা হাতিতে প্রস্তান করলে পৃথিবীতে জলের সমতা বজায় থাকে। এবং শষ্য ফলন ভালো হয়। সুখ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয় মর্তভূমি। করোনা কাল কাটিয়ে আবারও সুন্দর পৃথিবী ফিরে আসবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হয়েছে এবারের দুর্গাপূজা। আর দেবীর বিদায় চারিদিকে বিষাদের সুর ৷ 
মহামারীর দিনে দেবীর বিজয়া অনুষ্ঠানেও সেই সমারোহ এবার ছিল না। এরপরও ঢাক, আর কাঁসের বাদ্য এবং শঙ্খ ধ্বনিতে অশ্রুভেজা ভলোবাসায় দুর্গা মাকে বিদায় জানান মর্ত্যের বাসিন্দারা। প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে বিবাহিত নারীরা পরিবারের সুখ শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য মা দুর্গার চরণে সিঁদুর ঠেকান। তবে  বরাবরের মতো এবার ছিলনা জমজমাট সিঁদুর খেলা। ছিল না ধুনচি নাচ,  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 


সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার সাত্ত্বিকভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন। কোভিড পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়ম মেনে দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন সবাই। পূজার সময় মিশিগানের বেশির ভাগ ভক্তরা এবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অঞ্জলি  নিয়েছেন। অবশ্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে এখানকার সবগুলো মন্দিরেই কিছু দর্শনার্থী উপস্থিত হয়ে অঞ্জলি প্রদান করেছেন। মন্দিরগুলোর পক্ষ থেকে ফেসবুকে অঞ্জলি দেওয়ার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। তাই অনেক ভক্তই বাসায় বসে অঞ্জলি  প্রদান করেন। ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের  পূজায় পৌরহিত্য করেন প্রিস্ট পুর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, সুভাস চক্রবর্তী ও পারিন্দ্র চক্রবর্তী।
এদিকে ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল ভার্চুয়াল অঞ্জলি ছাড়াও টানা ৩দিন ভার্চুয়াল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দুর্গা টেম্পলের গভর্ণিং বডির চেয়ারপার্সন চিনু মৃধা, প্রেসিডেন্ট রতন হাওলাদার, কালচারাল সেক্রেটারী সৌরভ দত্ত চৌধুরী, মৃদুল কান্তি সরকার  এবং মৌসুমি দত্তের উপস্থাপনায় বাংলাদেশ, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে সংগীতা কর ও  দীপান্বিতা সেনগুপ্ত নৃত্য পরিবেশন করেন। নৃত্যের পাশাপাশি সংগীতা কর গানও গেয়েছেন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কলকাতা থেকে শিল্পী আত্রেয়ী মজুমদার, শিলচর, আসাম থেকে সুস্মিতা হোম চৌধুরী, পারমিতা পাল  ও শুভজিত হোম চৌধুরী, বেঙ্গালুর ভেনু গোপাল, ঢাকা থেকে আবরার খান হৃদম । শনিবার প্রি রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। এতে বাংলাদেশ ও নর্থ আমেরিকার শিল্পীরা অংশ নেন।  প্রি-রেকর্ডেড  ভিডিও এডিটিং করেছেন নূর চিশতী।  বিশেষ ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড টেকনোলজিস সহায়তায় ছিলেন মৃদুল সরকার এবং রাজর্ষি চৌধুরী। অনুষ্ঠানগুলো ১মিলিয়নেরও বেশি ভিউ হয়েছে। দুর্গা টেম্পলের গভর্ণিং বডির সদস্য চিনু মৃধা এর উদ্যোগে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


করোনা দুর্যোগকালেও ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল অন্যান্য বারের মতো এবারও প্রকাশ করছে সাহিত্য-সাময়িকী ‘শারদ অর্ঘ্য’। টেম্পলের প্রেসিডেন্ট রতন হাওলাদার এর গ্রাফিক ডিজাইনে এবং কালচারাল সেক্রেটারী সৌরভ দত্ত চৌধুরীর সম্পাদনায় বের হয়েছে এ শারদ সংকলনটি। অক্ষর সংযোজন করেছেন রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব। বিশেষ সহযোগিতা করেছেন প্রদীপ চক্রবর্তী ও নীতেশ সূত্রধর। সংকলনটি  দুর্গা টেম্পলের প্রয়াত ট্রাস্টী মেম্বার প্রমোদ রঞ্জন দাশ এবং অসমঞ্জ ধর এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। কোভিড পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন পঙ্কজ দাস, পাপ্পু দাস, নৃপেশ সূত্রধর, লিটন সুত্রধর, বাবলু দাস, অপু মণ্ডল ও বাপ্পি ধর। ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের শারদীয় দুর্গোৎসব সফল করতে রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন অনেকেই।  


 

এ জাতীয় আরো খবর