সোমবার, নভেম্বর ২৩, ২০২০

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

  • ঢাকা প্রতিনিধি :
image

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর : আজ (শুক্রবার) ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের  ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করবেন।
আজ থেকে এক হাজার ৪৫০ বছর আগের এই দিনে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। জন্মের আগেই পিতৃহারা হন এবং জন্মের অল্পকাল পরই হারান মাতৃছায়া। অনেক দুঃখ-কষ্ট আর অসীম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে বড়ো হয়ে ওঠেন। ৪০ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে নবুয়ত লাভ করেন। কিন্তু অসভ্য-বর্বর আরব জাতি তার দাওয়াত গ্রহণ না করে রাসুল (সা.)-এর ওপর নিপীড়ন শুরু করে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে সত্যান্বেষী মানুষ তার সাথি হতে থাকে।
একপর্যায়ে তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যার নীল নকশা প্রণয়ন করে। আল্লাহর নির্দেশে তিনি জন্মভূমি ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় তিনি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করেন এবং মদিনা সনদ নামে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। মদিনা সনদ বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে খ্যাত। ২৩ বছর অক্লান্ত শ্রম, অসীম সাধনায় অবশেষে রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাফল্য অর্জন করেন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। বিদায় হজের ভাষণে তিনি আল্লাহর বাণী শুনিয়েছেন মানবজাতিকে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য দিন তথা জীবনব্যবস্থা হিসেবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদাহ, আয়াত ৩)।
৬৩২ ঈসায়ী সালের ৮ জুন মোতাবেক ১১হিজরীর ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার দিন পেয়ারা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। তিনি যে জায়গায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সেখানেই চিরতরে শায়িত হন। আর এটি ছিল উম্মুল মোমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) ‘র হুজরা, যা বর্তমানে মসজিদে নববীর ভেতরে রওজাতুন্নবী তথা রওজা শরীফ নামে পরিচিত। যেদিন মহানবী পৃথিবীতে আগমন করেন এর ঠিক ৬৩ বৎসর পরে সেদিনই তিনি বিদায় নেন। তাই মিলাদুন্নবী তথা নবীর জন্মদিবস একই সাথে ওয়াফাতুন্নবী তথা মহাপ্রয়াণ দিবসও বটে।
বিশ্বনবির জন্মদিন ও ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে মুসলিম বিশ্ব। এ উপলক্ষ্যে  আলোচনা সভা, দরুদ পাঠ, দান-সদকা করে থাকেন। মিষ্টি, খাবার প্রভৃতি তৈরি করে বিতরণ করেন। ভক্তিভরে দরুদ পাঠে মশগুল থাকেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্রও প্রকাশ করেছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা মুসলমান ভাইবোনদের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।


 

এ জাতীয় আরো খবর