মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯

সেনিটারি ন্যাপকিন নিয়ে কথা না বলার ট্যাবু

  • রুমা মোদক
  • ২০১৯-০৭-০১ ২৩:০১:১৭
image

হবিগঞ্জ : বাজেট আসে, বাজেট যায়। একদল উন্নয়নের ঢোল পিটায়, আরেকদল গরীব মারার বাজেট বলে গলা ফাটায়। আমরা আমজনতার তেমন কিছু আসে যায় না। কমতে দেখিনি কখনো, তবে দাম বাড়ে । আর আমরা মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত নৈমিত্তিক পণ্য চড়া দরে কিনতে বাধ্য হই। এই দু’চার পাঁচ টাকা বাড়াতে খুব একটা কিছু যায় আসে না কিংবা এই দু’চারশ টাকা বাড়তি গুণা আমাদের মেনে নেয়া অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নারী উন্নয়নের সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার মধ্যে ভারত পাকিস্তান জাপানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডব্লিউইএফের সূচকে শিক্ষা, অর্থনৈতিক সমতা, এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ২০০৬ সাল থেকে এই তালিকা প্রকাশ করে।
এসব সূচকের অন্যতম শর্ত নারীর স্বাস্থ্য৷ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রাথমিক শর্ত বয়ঃসন্ধি কাল থেকে তার পিরিয়ড চলাকালীন স্বাস্থ্য নিরাপত্তা। যা কিনা ভবিষ্যতের মাতৃত্ব সেই অর্থে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখার পূর্বশর্ত।
কাগজেপত্রে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হলেও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রবল। আয়ের আকাশ পাতাল বৈষম্য এক শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মান এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়ে গেছে। তারা এখনো, শিক্ষা স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার বঞ্চিত। এই দরিদ্র মানুষের মাঝে আরো প্রান্তিক অবস্থানে নারী সমাজ।
মুখে নারী উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, নারী পুরুষের সমান অধিকারের বুলি ফুটানো সরকার এবার বাজেটে সেনিটারি ন্যাপকিনের দাম বাড়িয়েছে। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের মোদী সরকার নারীদিবসে নাম মাত্র মূল্যে মেয়েদের হাতে সেনেটারি ন্যাপকিন তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর আমাদের মতো দেশে যেখানে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সেনিটারি ন্যাপকিন ফ্রি বিলিয়ে দেয়া উচিত সেখানে এই জিনিসটির উপর সরকার ৪০% ট্যাক্স বসিয়েছে।
আমি জানিনা এটার পেছনে যুক্তি কী ! এখনো যে দেশের শতকরা ৩০ ভাগ নারী এই ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ের স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে সচেতন নয়। এখনো এসময় নিজেকে লুকিয়ে রাখা, এর যন্ত্রণা এর পরিচ্ছন্নতা সমস্ত কিছুই লুকিয়ে রাখা ট্যাবু। যেখানে একদা ওরস্যালাইন বন্টনের মতো ক্যাম্পেইন করে সেনিটারি ন্যাপকিন গ্রামে গঞ্জে প্রতিটি নারীর হাতে নিশ্চিতভাবে তোলে দেয়া উচিত, সেখানে নিজেদের জনকল্যাণমুখী দাবি করা সরকার এর দাম বাড়িয়ে আসলে কি চাইছে আমার কাছে তা বোধগম্য নয়।
সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এমন আরেকটি পণ্য সিগারেট। আচ্ছা সরকার কী সিগারেট আর ন্যাপকিনের প্রয়োজনীয়তা একই রকম ভাবছে ? যে সিগারেট মানুষের বিলাসিতা ও নেশা দ্রব্য তার বিপরীতে সেনেটারি ন্যাপকিন একটি জীবন রক্ষাকারী দ্রব্য। একই বাজেটে পাশাপাশি বিপরীতধর্মী দুটি জিনিসের দাম বাড়িয়ে সরকার তার অদূরদর্শী অবিমৃষ্যকারীতার পরিচয় দিচ্ছে।
সেনেটারি ন্যাপকিনের দাম বাড়ানো নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ানো দায়িত্ব ছিলো নারী সহ সচেতন সকল মহলের। কিন্তু আমরা কোথাও কোন প্রতিবাদ দূরে থাকুক, খুব একটা উচ্চবাচ্যও দেখি নি তেমন। তবে কী এই বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ ও রক্ষণশীলতার ট্যাবুতে বাধা ? এখানে এসে কী আমাদের প্রগতির জারিজুরি সব ফাঁপা ? নইলে কই সিগারেটের দাম বাড়া নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে যে সরব মিডিয়া আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দেখতে পেলাম, মেখানে সেনিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন দু’একটি কথা ছাড়া কোন টকশো, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ চোখে পড়লো না।
-ফেসবুক থেকে।


এ জাতীয় আরো খবর