শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়লেন কাদের সিদ্দিকী

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
  • ২০১৯-০৭-০৯ ০৪:৪৪:৩০
image

আট মাসের গাঁটছড়া ছিঁড়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
তার ভাষায়, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে যে জোট তারা গড়েছিলেন, নির্বাচনের পর গত সাত মাসে তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জাতীয় কোনো সমস্যাকে তারা তুলে ধরতে পারছে না। এ রকম একটি জোট যে আছে, তা দেশের মানুষ জানেই না।’
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব বা ঠিকানা খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে জনগণের সব সমস্যায় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করবে।
আমরা সবসময় দেশবাসীর কাছে বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতে সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে বলা হয়, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সাত মাসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে অসমাপ্ত বৈঠক ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়নি। এতে মনে হয়েছে, বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক জোট বা ফ্রন্ট গঠনই হয়নি।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দিচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের লিখিত বক্তব্য সেটাই বোঝায়।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট খুঁজে পাওয়া যায় না। তার কোনো কর্মকাণ্ড নেই।’ ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান অবস্থার জন্য দায় কার- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘দায় কমবেশি সবার।’
ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট গঠন হলেও তাকে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। জোট গঠন হলেও মূলত জোটের অন্যতম শরিক বিএনপিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন জোটের অফিস থেকে হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অফিস থেকে বিএনপির নেতৃত্বে তা হয়েছে, যা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া জামায়াতকে একই প্রতীকে মনোনয়ন দেয়ারও সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে জালিয়াতির নির্বাচন মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি সঠিক ছিল। সে পথ থেকে সরে এসে গণফোরাম ও বিএনপির নির্বাচিতরা শপথ নিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ না নেয়াকে দ্বিচারিতা উল্লেখ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতারা বলেন, ‘জনগণ কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে এ রকম প্রতারণা প্রত্যাশা করে না। এমনকি ফেনীর নুসরাত হত্যা, বরগুনার রিফাত হত্যা, কৃষকের ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়াসহ জাতীয় কোনো ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্ট দাঁড়ায়নি।’
৯ মে সংবাদ সম্মেলন করে কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। তখনও তিনি ঐক্যফ্রন্টের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘৯ মে জোটের সব শরিককে চিঠি দিই। কিন্তু ৪ জুনের আগ পর্যন্ত কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ৪ জুন ড. কামাল হোসেন আমাকে ডাকেন।
১০ জুন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় ড. কামাল হোসেন বৈঠক ডাকেন। কিন্তু সে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন না। তিনি না আসায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও সেদিন উপস্থিত হননি। সেদিন আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি, অপ্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে।
এরপর এক মাস হতে চললেও ঐক্যফ্রন্টে কোনো সাড়াশব্দ নেই।’ সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন, নাসরিন সিদ্দিকী, কুড়ি সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : যুগান্তর


এ জাতীয় আরো খবর