মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না : প্রধানমন্ত্রী

  • ঢাকা প্রতিনিধি :
  • ২০১৯-০৯-০৫ ০৩:৫৮:৩৩
image

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি নিজেদেরকে নিজেরাই সংখ্যালঘু বলে অবহেলিত মনে না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কখনই ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনই এতে বিশ্বাস করে না। মনে রাখবেন, এ মাটি আপনাদের, এ দেশ আপনাদের। বাংলাদেশ আমাদের সকলের।
আজ বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণভবনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গদে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত। ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাতমানন্দা মহারাজ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময় বলি, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যে, সংবিধান আমাদের দিয়েছিলেন সেই সংবিধানে তিনি কিন্তু সেকথাই বলে রেখেছিলেন। আমাদের যে চার মূলনীতি সেই মূলনীতিতে কিন্তু একথাটাই ছিল।’  আমি আপনাদের প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কি এই রাষ্ট্রের নাগরিক না? তাহলে নিজেদের ছোট করে দেখবেন কেন ?
তিনি বলেন, এই দেশে সব ধর্মের স্বাধীনতা থাকবে। আমাদের সংবিধানের যে চার মূলনীতি সেখানেও তাই বলা আছে। আমাদের ধর্মেও তাই বলা হয়েছে, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। যে কারণে আমি যখন মসজিদভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলাম, তখন মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাও চালু করি। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাক-প্রথমিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছি। সেই সঙ্গে পুরহিত- সেবায়েতের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। খ্রিস্টান ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি আমরা। ট্রাস্টের পাশাপাশি শারদীয় দূর্গা পূজায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আলাদা করে ২ কোটি টাকা দিয়ে আসছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে মন্দির ভাঙা হয়েছে। ঢাকার মন্দিরগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে বৌদ্ধ ধর্মের লোকজনও রেহাই পায়নি। বিএনপির কাজই ছিল ধ্বংসাত্মক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা ধর্মই শান্তির বাণী শুনিয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ সহ অন্য ধর্মের অবতাররাও মানব কল্যাণের কথাই বলে গেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা দৃশ্যমান সেটাকেই সব থেকে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকারের পাশাপাশি পূজা-পার্বনে নিজস্ব ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময় কঠোর রাখারও পরামর্শ দেন।


এ জাতীয় আরো খবর