মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ভালবাসার কাছে হার মেনেছে বয়সের গণিত

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
  • ২০১৯-০৯-০৭ ০৪:১০:০৯
image

ম্যাকম্ব টাউনশিপ : বয়স ৮৮ এবং ৯৩ বছর। এটা শরীরের বয়স, মনের নয়। তারা এখনো একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং চুমু খান। ঠিক যেন তরুণ বয়সের নববিবাহিত দম্পতির মতো। অনেকেই তাদের ব্যঙ্গ করে বলেন, বুড়ো বয়সে ভাব হয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা ভালবাসার কাজগুলো বন্ধ রাখেননি। বলছিলাম মিশিগান রাজ্যের মেট্রো ডেট্রয়েটের ম্যাকম্ব টাউনশিপের স্ত্রী ড্রোথি উইলিয়ামস (৯৩) এবং স্বামী রিচ রোলার (৮৮) কথা। যাদের জীবনে বয়সের গণিত কাজ করেনি। ভালবাসার কাছে হার মেনেছে। ড্রোথি এবং রিচের ভালবাসার বন্ধন দেখলে মনে হতে পারে, সারা বছরই যেন শীতকাল। ঠান্ডা আবহাওয়ায় যেমন একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে আরামবোধ করেন, ঠিক তেমনি গ্রীষ্মকালের গরম তাদের এই মনের সুখ পাওয়ার কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না। উইলিয়ামস বলেন, এটা আমাদের কাছে ভালবাসা ছাড়া আর কিছুই নয়। রিচও স্বীকার করেন এবং চাপা হাঁসিতে ফেটে পড়েন। এই ‘বৃদ্ধ নবদম্পতি’র সময় কাটে ভ্রমণ, খাওয়া-দাওয়া আর বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে গিয়ে আড্ডায়। তারা এখনো রাতের পার্টিতে যান আর একে অপরকে আলিঙ্গন করে সুখের নাচ নাচেন। ভালবাসার দুই পাখির ব্যস্ততা এতো বেশি যে, নিজেদের বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতেও ভুলে যান!

হাঁসি আর দু:খের জীবন
রিচ রোলা আইবিএমে কম্পিউটার সার্ভিসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। তিনি এতেই বেশ সুখী ছিলেন। এটাকেই তিনি সৌভাগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। তার মতে, তিনি মৃত্যুদন্ডের আগে, ওই সময় এবং পরেও হাঁসতে পারেন। উইলিয়ামস মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেরিসভিলে থেকে ডেট্রয়েটে গিয়েছিলেন ৫৫ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে। পেয়েছিলেন পরিচারিকার কাজ। অর্ধ শতাব্দী ধরে তিনি সেই কাজ করেছেন। ৪৮ বছর বয়সে ১৯৯৩ সালে তার স্বামী মারা যান। কিন্তু এরপর আর বিয়ে করতে চাননি তিনি। বিয়ের প্রস্তাব আসলেও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ছেলে-মেয়ে আর নাতি-নাতনি নিয়েই জীবন কেটেছে।
রোলা স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন ৫৮ বছর বয়সে। ছয় বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে স্ত্রী ২০১৪ সালে মারা যান। এরপর ভেঙে পড়েছিলেন রোলা। ছেলে-মেয়েরা তাকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু আমি একাকী থাকতেই বেশি পছন্দ করতাম, বলেন রোলা। একদিন রোলার বাসার ছাদ ঠিক করার প্রয়োজন হয়। পোলিশ ঠিকাদারদের ভাড়া করা হয়।  এদের মধ্যে একজন ছিলেন জন উইলিয়ামস। তিনি এসে রোলাকে দেখলেন। তাকে দেখেই মনে মনে ভাবলেন এই বয়স তো তার মায়েরও। রোলার মতো মায়েরও একই অবস্থা। তিনি রোলাকে তার বাসায় আমন্ত্রণ জানালেন। এরপর একদিন ঐতিহ্যবাহী নাচের অনুষ্ঠানে গেলেন রোলা। মা ড্রোথি উইলিয়াসের সঙ্গে নাঁচলেন। রোলা এরপর আসার সময় ড্রোথির জন্য ক্যান্ডি ও ফুল নিয়ে আসতেন। এমনকি জন ও তার স্ত্রীর জন্যও উপহার আনতেন। ড্রোথি স্বীকার করেন, তার প্রথম স্বামীরও ভালবাসা ছিল। কিন্তু রোলার তো এরকম নয়। এতটা মজা করতো না সে। এরপর তারা একসঙ্গে সময় কাটানো শুরু করেন। ১৮ মাস এভাবে চলতে থাকলো।

উইলিয়ামস রোলাকে বললেন, বাকিটা জীবন তিনি তার সঙ্গেই কাটাতে চান। রোলা এতটা আশ্চর্য হলেন যে, মনে হলো কেউ তাকে বেসবলের ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছেন। এরপরের দিন তিনি আসলেন এবং এংগেজমেন্টের রিং নিয়ে আসলেন। এরপর রোলা ড্রোথি উইলিয়ামসের পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গেলেন। তখন খুব মজা করে রোলা বলেন, ড্রোথি উইলিয়ামস, তুমি আমাকে বিয়ে করবে? এরপর গত সেপ্টেম্বরেই তারা বিয়ের প্রথম বর্ষ পালন করেন। তারা এখনো একসঙ্গে রান্না করেন। উইলিয়ামস রান্না করেন, কাপড়-চোপড় ধৌত করেন আর রোলা থালা-বাসন পরিষ্কার করেন। একসঙ্গে খেলেন, একসঙ্গে খান আর ঘুমান। তাদের মতে, তাদের অতীত জীবনও সুখের ছিল। কিন্তু এই জীবনটা যেন বড় মধুর। তাদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি নাতনি আছে অনেক। কিন্তু ভালবাসা যে বয়স মানে না তা এই বৃদ্ধ নবদম্পতিকে দেখলেই বোঝা যায়।

Source & Photo: http://detroitnews.com

 


এ জাতীয় আরো খবর