মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত

  • ঢাকা প্রতিনিধি :
  • ২০১৯-০৯-০৯ ২১:০৭:৩৩
image

ঢাকা : গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের বরাত দিয়ে সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসমূহের নিষ্পত্তির জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ছয়টি মেট্টোরেলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গৃহীত কর্মপরিকল্পনা অনুসরণে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে উত্তরা তৃতীয় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬ স্টেশন বিশিষ্ট উভয়দিকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম আধুনিক, সময় সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ চালিত বাংলাদেশে প্রথম উড়াল মেট্টোরেল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১২-২০২৪ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সার্বিক গড় অগ্রগতি ৩০ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষের ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর উড়াল মেট্টোরেলের সম্পূর্ণ অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। অপর চারটি মেট্টোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা ২০৩০ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির অপর সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটে বাস চলাচল করছে। রুটগুলো হচ্ছে- ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা, ঢাকা-সিলেট-শিলং-গোহাটি-ঢাকা এবং ঢাকা-খুলনা-কলকাতা-ঢাকা।
তিনি জানান, আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও যাত্রী সাধারণের চাহিদা বিবেচনায় আরও নতুন রুট চালুর বিষয় সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে।
সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, দেশের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানোর জন্য সওজসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহ (বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স) সমন্বয়ে পাইলট হিসেবে একটি প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, বিশ্রামহীনতা ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে সংগঠিত দুর্ঘটনা রোধকল্পে পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কের পাশে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগার নির্মাণের লক্ষ্যে ডিপিপি সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর