বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২১, ২০২১

জনপ্রিয় অভিনেতা আলী যাকের আর নেই

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
image

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর : বরেণ্য অভিনেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  আলী যাকের আর নেই।  আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের ক্যানসার ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করায় গত ১৫ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজ ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আলী যাকের। ১৯৬০ সালে সেন্ট গ্রেগরি থেকে ম্যাট্রিক পাস করে নটরডেমে ভর্তি হন আলী যাকের। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক করেন। অনার্স পড়াকালেই ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। অনার্স শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ ১৯৬৭ সালে চলে যান করাচি। সেখানেই প্রথম অভিনয় করেন আলী যাকের। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় ফিরেন আসেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে ফিরে আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দেন। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে তার পথচলা শুরু। ওই বছরেরই জুন মাসে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। হুমায়ুন আহমেদের আজ রবিবার নাটকে বড় চাচা চরিত্র তাকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকে সমান জনপ্রিয়। একইসঙ্গে দেশীয় বিজ্ঞাপনশিল্পের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আলী যাকের বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির কর্ণধার। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি। যুক্তরাজ্যের রয়াল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পূর্ণ সদস্য। দর্শকের ভালোবাসা যেমন কুড়িয়েছেন নন্দিত এই শিল্পী, তেমনি প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা পড়েছে অসংখ্য পুরস্কার। এ তালিকায় রয়েছে, একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক প্রভৃতি।স্ত্রী সারা যাকেরও একজন অভিনেত্রী, পুত্র ইরেশ যাকের ও কন্যা শ্রেয়া সর্বজয়াকে নিয়ে তাঁর সংসার।


এ জাতীয় আরো খবর