সোমবার, জানুয়ারী ২৫, ২০২১

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয় : প্রধানমন্ত্রী

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
image

ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  দেশের জনগণকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করবেন না। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাখেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান— সব ধর্মের-বর্ণের মানুষের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকার আমলে ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার ও প্রসারে করা বেশকিছু কাজের বিবরণ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাংলাদেশ লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, জীবনানন্দের বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশ শাহজালাল, শাহ পরান, শাহ মখদুম, খানজাহান আলীর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ শেখ মুজিবের বাংলাদেশ, সাড়ে ১৬ কোটি বাঙালির বাংলাদেশ। এ দেশ সবার। এ দেশে ধর্মের নামে আমরা কোনো ধরনের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি তৈরি করতে দেব না। ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে এ দেশের মানুষ প্রগতি, অগ্রগতি এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী জাতির পিতা ইসলাম ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রসারে যা করেছেন, ইসলামের নামে মুখোশধারী সরকারগুলো তা কখনোই করেনি। আইন করে মদ-জুয়া-ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ করা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা, মাদ্রাসা বোর্ড স্থাপন, ওআইসি’র সদস্যপদ অর্জনের মতো কাজগুলো বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাস্তবায়িত হয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির মদতদাতা জিয়াউর রহমানের সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে বাংলার মানুষ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে আমি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করি। পিতার আদর্শকে ধারণ করে বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ব্রত নিয়ে কাজ শুরু করি।
করোনা মহামারির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অবহেলায় একজন মানুষেরও মৃত্যু কাম্য নয়। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনই মহামূল্যবান।  শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিজয় দিবসের প্রাক্কালে তাই আসুন, আবারও আমরা শপথ নিই আমরা যেন লাখো শহীদের রক্তের ঋণ ভুলে না যাই। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ভূলুণ্ঠিত হতে না দিই।’ তিনি বলেন, ‘যুবশক্তি, তরুণ সমাজ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অনুরোধ, তোমরা তোমাদের পূর্বসূরিদের আত্মোৎসর্গের কথা কখনো ভুলে যেও না। তাদের উপহার দেওয়া লাল-সবুজ পতাকার অসম্মান হতে দিও না। যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের বিজয়-নিশান সমুন্নত রাখার শপথ নাও, এই বিজয় দিবসে। প্রতিজ্ঞা কর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশকে সোনার বাংলাদেশে পরিণত করবে। তবেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে এবং ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সরকার দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করেছে। আমার সরকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার এবং প্রসারে যত কাজ করেছে, অতীতে কোনো সরকারই তা করেনি। আমরা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছি। ৮০টি মডেল মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। কওসি মাদরাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছি এবং দাওয়ারে হাদিস পর্যায়কে মাস্টার্স সমমান দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সহায়তার জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় সারাদেশে মসজিদভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। লক্ষাধিক আলেম-ওলামায়ে কেরামের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একাত্তরের পরাজিত শক্তি মিথ্যা ও মনগড়া বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির একটি অংশ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে ইদানীং মাঠে নেমেছে। সমাজে অশান্তি তৈরি করতে চাচ্ছে। জাতির পিতা ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার না করতে। কিন্তু পরাজিত শক্তির দোসররা দেশকে আবার ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। রাজনৈতিক মদতে সরকারকে ভ্রুকুটি দেখানোর পর্যন্ত ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।
বিদ্রোহী ও জাতীয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার অংশ— ‘চাহি না জানিতে/ বাঁচিবে অথবা মরিবে তুমি এ পথে,/ এ পতাকা বয়ে চলিতে হইবে/ বিপুল ভবিষ্যতে’ পাঠ করে সবাইকে ফের বিজয় দিবসের বর্ণিল শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।


এ জাতীয় আরো খবর