বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১

বাগদেবীর আগমনে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা

  • রনজিৎ বর্মন :
image

শ্যামনগর, (সাতক্ষীর) ৮ ফেব্রুয়ারি : বিদ্যা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির দেবী স্বরস্বতি। আর দেবীর আগমন উপলক্ষে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়ে চলেছে। মাঘ মাসের শুল্কা পক্ষের প ঞ্চমী তিথিতে সাধারণত পূজার আয়োজন হয়ে থাকে। এ বছর ফেব্রুয়ারী মাসের ১৬ তারিখ স্বরস্বতি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। 
স্বরস্বতি দেবীর পূজার আগমনে প্রতিমা শিল্পীদের রাত জেগে প্রথমে খড় দিয়ে বেঁধে প্রতিমার আদল দেওয়া হয়। পরে খড়ের গায়ে মাটি লাগানো, হাত, মাথা তৈরী, মাটির তৈরী গহনা, মাটির তৈরী বীণা, সাদা রংয়ের কাজসহ অন্যান্য সাজ সজ্জার কাজ করতে হচ্ছে। 
বর্তমানে মহামারী করোনা কালিন সময়ে স্বরস্বতি দেবীর পূজা কি পরিমাণ অনুষ্ঠিত হতে পারে এটি নিয়ে চিন্তিত প্রতিমা শিল্পীরা। ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ চললেও শিল্পীদের তৈরী প্রতিমার অর্ডার এসেছে খুব কম যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। 
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা সদরের বাদঘাটা গ্রামে স্বরস্বতি প্রতিমা তৈরী শিল্পী আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের পরিতোষ পাইক বলেন, ৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত প্রতিমা তৈরীর অর্ডার পেয়েছি মাত্র ২৫টি। তিনি বলেন, অন্যান্য বছর পূজার প্রায় ১৫ দিন আগেই অর্ধ শতাধিক প্রতিমা তৈরীর অর্ডার পাওয়া যায়। তিনি তার স্ত্রী ও ছেলে তিন জন মিলে প্রায় ১০০টি ছোট বড় প্রতিমা তৈরী করেছেন। 
মূল কারিগর পরিতোষ পাইক শিল্পী হিসাবে মনে করেন স্বরস্বতি প্রতিমা তৈরী বছরে একটি বড় ধরনের কাজ । কিন্ত করোনার কারণে পূজা কত সংখ্যক হতে পারে বা তৈরী প্রতিমা সব গুলি পূজার কাজে ব্যবহার হবে কিনা এই নিয়ে চিন্তিত তিনি। এ ছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার সাজসজ্জা যেমন কাপড়, রং, নকল চুল, গায়ের গহনা বা অন্যান্য কিছুর মূল্য বেড়ে গেছে। সে তুলনায় প্রতিমার দাম পাবেন কিনা সেটিও ভাবছেন। 
শংকরকাটি গ্রামের প্রতিমা শিল্পী চন্দনা রানী ও সুনিল চক্রবর্তী বলেন, গতবছর একশত প্রতিমা তৈরী করেছিলেন কিন্ত এ বছর ৭০টি প্রতিমা তৈরী করেছেন। করোনা কালিন সময়ে কতটি প্রতিমা পূজায় ব্যবহার হবে এ নিয়ে চিন্তিত তিনিও। সুনীল চক্রবর্তী বলেন, প্রতিমা তৈরীর উপকরণ কাপড়, রং, গহনাসহ অন্যান্য মালামালের দাম বেড়েছে । তিনি আরও বলেন ফেব্রুয়ারীর ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত ২৫টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন। বাকী প্রতিমা গুলির মধ্যে কতগুলি অর্ডার পাবেন এটি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন । 
এ বছর প্রতিমার মূল্য জানতে চাইলে উভয় শিল্পী বলেন, সাড়ে তিন ফুট উচু প্রতিমার মূল্য ৩ হাজার টাকা, ২ ফুট উচু প্রতিমার মূল্য ১ হাজার টাকা ও ছোট প্রতিমার মূল্য ৮ শত থেকে ৫ শত টাকা। তবে শেষ সময়ে তৈরী প্রতিমার খরচের কথা বিবেচনা না করেও ছেড়ে দেন বলে জানান। 
এ দিকে স্বরস্বতি পূজায় পৌরহিত্য করার জন্য বিভিন্ন মন্ডপে আমন্ত্রণ করা হচ্ছে ব্রাক্ষণদেরকেও। শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ব্রাক্ষণ তপন কুমার বলেন, এ বছর স্বরস্বতি পূজার পঞ্চমী তিথি সারাদিন থাকছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর পূজা বেশী অনুষ্ঠিত হবে বলে ভাবছেন। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, গত বছর দুই দিন পঞ্চমী তিথি ছিল এবং সময়টা কম ছিল যার কারণে অনেক পরিবারে বাগদেবীর পূজা করার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, শিল্পীদের তৈরী প্রতিমা শেষ সময়ে বেশী অর্ডার পেয়ে থাকেন। 
স্বরস্বতি দেবী শ্বেতসুভ্র বসনা। স্বরস্বতি বাগদেবী । এক হাতে থাকে বেদ অন্য হাতে বীণা। এ জন্য তাকে বীণাপাণি বলা হয়। স্বরস্বতি পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের  শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎপর্যময় । 
শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজ, আতরজান মহিলা কলেজ, নকিপুর সার্বজনীন হরিতলা প্রাঙ্গণ, আড়পাঙ্গাশিয়া, হরিনগর, চিংড়াখালী , জেলেখালীসহ অন্যান্য স্থানে বড় ধরনের পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ বছর পূজার আয়োজন স্বল্প পরিসরে হবে বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে মত প্রকাশ করেন। করোনা কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বরস্বতি পূজা অনুষ্ঠিত হবে না বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্রজেন্দ্র নাথ জানান। 
স্বরস্বতি পূজা মানে বিদ্যার্থীদের নিকট এক অন্যরকম অনুভূতি। সাদা পোষাক, সঙ্গিত পরিবেশন, পূজার দিনে উপবাস থাকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে বাগদেবীর আগমনে সাজসাজ রব ।


এ জাতীয় আরো খবর