বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১

হবিগঞ্জ পৌর নির্বাচন : প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

  • মিলন রশীদ :
image

হবিগঞ্জ, ২৩ ফেব্রুয়ারি : আসন্ন হবিগন্জ পৌরসভা নির্বাচরে ৬ প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  মাঠে আছেন। আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এনামুল হক সেলিম, আওয়ামীলীগ থেকে সদ্য বহিস্কৃত বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, ব্যবসায়ী নেতা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত আলহাজ্ব মোঃ শামসুল হুদা, স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মোঃপারভেজ হাসান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বশিরুল আলম কাউসার। সকলেই প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত  সময় কাটাচ্ছেন।

পৌর সভায় মোট ভোটার ৫০হাজার ৯০৩জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৫ হাজার ২৮৩জন। মহিলা ভোটার রয়েছেন ২৫ হাজার ৬২০জন। ৯টি ওয়ার্ডে পুরুষ কাউন্সিলর ৪১ জন। সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন ১৭ জন নারী কাউন্সিলর।
অতিপ্রাচীন এই পৌরসভার একটি আলাদা মর্যাদা, সুনাম আছে। রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের অনন্য শহর এই হবিগন্জ। নির্বাচন সমাগত হলেও এখানে হানাহানির মত তেমন ঘটনা অতীতে যেমন ঘটেনি - আগামী ২৮ ফ্রেব্রুয়ারীর নির্বাচন ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে অনুষ্টিত হবে এমন প্রত্যাশাই সকলের।
এই নির্বাচনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসলেও ভোটারদের মধ্যে ৩ জনকে   নিয়েই আলোচনা অধিক। অনেকের মতে বিএনপি যদি ঐক্যমত হয়ে মাঠে নামত তাহলে নির্বাচন আরো জমে উঠত। কিন্তু   বিএ পির মধ্যে সহমতের চরম অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। অপর দিকে বর্তমান মেয়র আলোচনায় আছেন ঠিকই, তবে কতটুকু কাভারেজ দিয়ে এগুতে পারবেন তা বলা কঠিন। কারণ দলীয় প্রার্থী না হলে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও যেন একটা দিধাধন্ধ কাজ করে। হোক জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এদিকে ব্যবসায়ী নেতা আলহাজ্ব শামসুল হুদা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিক হাতপাখা নিয়ে মাঠে আছেন। এই দলের সমর্থক হাতেগোনা। তবে ব্যাক্তি হিসাবে তিনিও খুব ভালো মানুষ। ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি (ব্যকস) বর্তমান সভাপতিও তিনি। গাজী মোঃ পারভেজ হাসান একজন আইনজীবি। তিনিসহ অপর প্রার্থী বশিরুল আলম কাউসার পৌরসভার ভোটারদের কাছে অতি চেনা মুখ বলে আলোচনা শোনা যায়নি। শুধু ভাল মানুষ হলেই ভোটারদের মন জয় করা যায়না, ভোটাররা হয়ত চারদিক বিবেচনায় নিয়েই তাদের কাঙ্খিত জনপ্রতিনিধি বেঁচে নিতে স্বাচ্ছন্দবোধ বেশী করে থাকেন।
এক্ষেত্রে এনাম সেলিম, মিজানুর রহমান মিজান অথবা আতাউর রহমান সেলিমই ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আতা সেলিম আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন। কারণ হচ্ছে - প্রথমে তিনি বর্তমান সরকার দলীয় প্রার্থী, দ্বিতীয়তঃ তিনি দলীয় সহ সাধারণ মানুষের মাঝে খুবই প্রিয়। এনাম সেলিম সাধারন মানুষের মাঝে স্বজ্জন ব্যক্তি হলেও দলীয়ভাবে ততটা অগ্রসর নন। মিজানুর রহমান মিজান  উপ-নির্বাচনে লড়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।  মেয়াদ ছিল খুবই কম। পৌরসভার নানামুখী উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন, সব দিকে সফলতা অর্জিত হয়নি। পৌরবাসী তার কর্মক্ষমতা, ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন দেখেছেন।  সব মিলিয়ে তাও ভোটারদের বিবেচনায় থাকা অসম্ভব নয়। তবে এখন পর্যন্ত আতা সেলিম ভোটারদের জরীপে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে চারদিকে শোনা যাচ্ছে। ২৮ ফ্রেব্রুয়ারী কি হবে তা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।


এ জাতীয় আরো খবর