রবিবার, জুন ১৩, ২০২১

‘বৃদ্ধাশ্রম যেন না হয় বাবা-মায়ের শেষ আশ্রয়স্থল’

  • রজত শুভ্র চক্রবর্তী :
image

ছবি : পিক্সাবে

শ্রীমঙ্গল, ১২ মে : প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা সহজ, কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা অনেক কঠিন।" Law of Uniformity of Nature " অনুসারে অনিবার্যভাবে নির্ধারিত আমাদের মতো অপরিনামদর্শী কিছু মানুষের জন্য শেষ বয়সের আশ্রয়স্থল বৃদ্ধাশ্রমে বসে এখন আর আক্ষেপ করে লাভ কি হবে ? অনেক ক্ষেত্রে বাবা- মা যেমন চায় সন্তানতো অনেকটা সেরকমই হয় ৷

দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা কোন ছেলে- মেয়েকে মানুষ, কোন ছেলে-মেয়েকে শুধু শিক্ষিত, কোন ছেলে-মেয়েক প্রচন্ড স্বার্থপর হিসেবে গড়ে তোলে। সোহাগ করার অধিকার যেমন আছে , শাসন করারও অধিকার তেমন আছে প্রত্যেক মা-বাবার। অভিভাবক হিসেবে সন্তানদের শাসন করার ক্ষেত্রে বৈষম্য ভবিষ্যতে উপরোক্ত তিন রকমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে দায়ী। ছোটবেলায় আমরা সন্তানদের মনোজগতে রোবটের মতো কতো প্রোগ্রামিং সেট করি যে, এগিয়ে যাবার সময় রাস্তায় তোমার ডানে - বামে তাকাবে না, তোমাকে ক্লাসে ফার্স্ট হতে হবে, তোমার চেয়ে অধিক ধনীর সাথে বন্ধুত্ব করবে, বাসার কাজে সাহায্যকারী গৃহকর্মী কিংবা ড্রাইভারদের সাথে ঘনিষ্টতা রাখবে না, সহপাঠীদের দুঃখে দুঃখিত না হয়ে, হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া সহপাঠীদের টেনে না তুলে সোজা যেয়ে ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চে বসবে, তোমার গাড়িতে বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে এমন দরিদ্র সহপাঠী কিংবা দু:র্ঘটনায় আহত কোন দরিদ্র সহপাঠীদের
তোলবেনা, খেটে খাওয়া মানুষদের সংস্পর্শে যাবে না, দাদু-দিদিমা কিংবা ঠাকুরদা-ঠাকুরমার সাথে গ্রামের বাড়িতে যেয়ে গ্রীষ্মকালীন কিংবা শীতকালীন ছুটি না কাটিয়ে বরং তোমার সবচেয়ে ধনী সহপাঠী বা সহপাঠীনির সাথে স্বদেশের পিকনিক স্পট বা বিদেশে ঘুরে আসবে, তোমার বিদ্যালয়ের স্যারের বাড়িতে যাওয়ার দরকার নেই বরং স্যারকেই তোমার প্রয়োজনে তোমার বাহির বাড়িতে আহ্বান করবে ইত্যাদি ইত্যাদি ----- আরও কত শত অবশ্য পালনীয় নির্দেশ। 
আহা! কি অবাক কান্ড, এই আমরা আমাদের বৃদ্ধ মা-বাবাকে গাঁয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে কিংবা একাকি সেই জন্ম মাটিতে জরাজীর্ণ গৃহে রেখে মহাসুখে শহরে বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অট্টালিকায় থাকবো আর তথাকথিত স্টেটাস আর সময়ের অভাবের কথা বলে জন্মদাত্রী জন্মদাতা মা আর বাবাকে দূরে ঠেলে দেবো আবার আমরাই চাইবো বৃদ্ধ বয়সে আমাদের ছেলে মেয়েরা যেনো আমাদেরকে
তাদের কাছে রেখে সেবা করে পরম যত্নে! ঐ দেখুন বিধাতা আমাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন আর বলছেন- "কিরে পাগলা-পাগলি তুই তোর বাগানে আমড়া গাছ লাগিয়ে  সেখানে ভবিষ্যতে আপেল আশা করছিস ?"  
লেখক : রজত শুভ্র চক্রবর্তী, সহকারী অধ্যাপক, দ্বারিকা পাল মহিলা কলেজ শ্রীমঙ্গল।


 


 

এ জাতীয় আরো খবর