বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৯, ২০২১

লাল বেনারসির বদলে গায়ে উঠল সাদা কাফন

  • মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
image

ছবি : সুইটি আক্তার 

মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) ১১ জুন : বেনারসি শাড়ি পরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল সুইটির। বিয়ের দিন ধার্য ছিল শুক্রবার। এজন্য বিয়ে বাড়িতে ধুমধামের সঙ্গে চলছিল সব আয়োজন। কিন্তু বিয়ের আগে গায়ে হলুদের দিন জ্বর, ঠাণ্ডা ও গলা ব্যথা নিয়ে মৃত্যু হলো তার। সুসজ্জিত গেট দিয়ে শ্বশুরবাড়ির পরিবর্তে গায়ে কাফন জড়িয়ে কবরস্থানে যেতে হলো তাকে। মৃত সুইটি আক্তার উপজেলার বাড়াচান্দুরা গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার মেয়ে। গায়ে হলুদের দিন সুইটির এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে।
জানা গেছে, কিছুদিন ধরে জ্বর, ঠাণ্ডা ও গলা ব্যথায় ভুগছিলেন সুইটি। এরই মধ্যে তার বিয়ে ঠিক হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদপুরের মো. শহীদ মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়ার সঙ্গে। শুক্রবার লাল বেনারসি পরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল সুইটির। 


ছবি : বাবার কাঁদে সুইটির লাশ।বিয়ের জন্য সুজ্জিত গেইট দিয়ে  নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কবরে। 

বৃহস্পতিবার বাড়িতে চলছিল গায়ে হলুদের আনন্দ। হঠাৎ তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নেয়া হলে  চিকিৎসকের পরামর্শে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।  চিকিৎসকরা তাঁর প্রাথমিক পরীক্ষা করে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকায় মৃত্যু হয় সুইটি আক্তারের। সুইটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই বিয়েবাড়ি বিষাদে পরিণত হয়। পরে লাশ বাড়িতে এনে বিকেলে জানাজা ও দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, নিজের বিয়ের জন্য সাজানো গেট দিয়েই কবরস্থানে নেয়া হয় সুইটি আক্তারের লাশ। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাধবপুর থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, ওই তরুণী কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। স্থানীয় একটি মাদ্রার ছাত্রী ছিলেন সুইটি।


 

এ জাতীয় আরো খবর