রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১

আজ গণেশ চতুর্থী

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্কঃ
image

হ্যামট্রাম্যাক, ১০ সেপ্টেম্বর : আজ ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গণেশ চতুর্থী। গণপতি বাপ্পার পুজো শুধু ভারত কিংবা  বাংলাদেশেই নয়, বরং গণেশ নানা নামে পূজিত হন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও। মিশিগান রাজ্যের বিভিন্ন সিটিতে সাড়ম্বরে পূজিত হচ্ছেন দেব গণেশ বা গণপতি বাপ্পা। গণেশ পুজো চলে দুই থেকে ‌দশ দিন।
শাস্ত্র মতে, ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে গণেশের জন্ম হয়। তাই শাস্ত্রে ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষের চতুর্থী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনই গণেশ চতুর্থী পালিত হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে চতুর্থীকে রিক্তা তিথি বলা হয়েছে। সে দিন কোনও শুভ কাজ হয় না। কিন্তু সে দিনই গণেশের জন্মদিন হওয়ায় চতুর্থীতে রিক্তা তিথির দোষ গ্রাহ্য করা হয় না। তাই সমস্ত শুভ কাজ করা যায়।
গনেশ হলেন হিন্দুধর্মের সর্বাধিক পরিচিত ও সর্বাধিক পূজিত দেবতাদের অন্যতম। সকল হিন্দু সম্প্রদায়েই গণেশের পূজা প্রচলিত রয়েছে। জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যেও গণেশ-ভক্তিবাদ মিশে গিয়ে গণেশ পূজার প্রথা বিস্তার লাভ করেছে।
গণেশ তাঁর বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রসিদ্ধ। কিন্তু তাঁর হাতির মাথাটিই তাঁকে সর্বাধিক পরিচিতি দান করেছে। গণেশকে বিঘ্ননাশকারী, শিল্প ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক এবং বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবতা রূপে পূজা করা হয়। বিভিন্ন শুভকার্য, উৎসব ও অনুষ্ঠানের শুরুতেও তাঁর পূজা প্রচলিত আছে। অক্ষর ও জ্ঞানের দেবতা রূপে লেখার শুরুতেও গণেশকে আবাহন করা হয়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে গণেশ-সংক্রান্ত একাধিক পৌরাণিক উপাখ্যান পাওয়া যায়। এই উপাখ্যানগুলি থেকে গণেশের জন্মবৃত্তান্ত, লীলাকথা ও তাঁর স্বতন্ত্র মূর্তিতত্ত্বের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
গণেশ নানা নামে পূজিত হন বিশ্বের অন্যান্য দেশে। এর মধ্যে জাপানে 'কাঙ্গিতেন', শ্রীলঙ্কায় পিল্লয়ার', থাইল্যান্ডে 'ফ্রা ফিকানেত, তিব্বতে সগ জি ডাগ পো, ইন্দোনেশিয়ার নোটে গণেশ নামে পূজিত হন তিনি। আফ্রিকার ঘানায় প্রসিদ্ধ গণেশ পুজো। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মরিসাস, জার্মানি, সুরিনামেও পূজিত হন বাপ্পা।

গণেশের জন্ম কাহিনী
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, নন্দী দেবী পার্বতীর সমস্ত আদেশ মেনে চলেন। একবার তিনি ভেবেছিলেন যে মাকে কিছু তৈরি করে দেওয়া উচিত, যা কেবল মা-এর আদেশ পালন করবে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি একটি শিশুর আকার তৈরি করেছিলেন এবং তাঁতে জীবন দান করেছিলেন। 
কথিত আছে যে, মাতা পার্বতী যখন স্নান করছিলেন, তখন তিনি শিশুটিকে বাইরে থেকে দ্বার রক্ষা করতে বললেন। মাতা পার্বতী শিশুটিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ যেন ভিতরে প্রবেশ না করে। এমন সময় ভগবান শিব পার্বতীর সঙ্গে দেখা করতে এলে গণেশ তাঁকে ভিতরে যেতে বাধা দেয়। 
এতে ভগবান শিব ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন এবং তিনি অজান্তেই সেই শিশুটির মাথা দেহ থেকে আলাদা করেন। মাতা পার্বতী যখন বাইরে এলেন, সমস্ত কিছু দেখে তিনি রেগে গেলেন। তিনি তাঁর বাচ্চাকে বাঁচতে আদেশ দেন মহাদেব-কে। এর পরেই মানুষের বদলে হস্তির মাথা দান করে পুনরায় জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হয় ওই শিশুটির দেহে। 
এর পর থেকেই গজানন নামে পরিচিতি পান তিনি। দেবাদিদেব মহাদেবের আশির্বাদে তিনি প্রথম দেবতা রূপে স্বীকৃতি পান। এই সময় যে সমস্ত দেবতারা গণেশ-কে অনেক বর দিয়েছিলেন। সেই সমস্ত গণের অধিপতি হওয়ার কারণে গণেশকে গণপতি বলা হয়। 

  


 

এ জাতীয় আরো খবর