শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১

হবিগঞ্জে নদী রক্ষার দাবিতে 'নদী পরিভ্রমণ'

  • হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
image

হবিগঞ্জ, ২৫ সেপ্টেম্বর : নদী সচল না থাকলে সব কিছুরই ছন্দ পতন ঘটবে। নদী আমাদের সার্বিক পরিবেশ- প্রতিবেশ, অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন বিনোদন ইত্যাদি সকল কিছুরই উৎস। কিন্তু দিন দিন আমাদের নদীগুলো বিপন্ন হয়ে পড়েছে। খোয়াই, পুরাতন খোয়াই, সুতাং নদীসহ জেলার সকল নদীর উপর চলছে নানামুখী অত্যাচার। একদিকে নদীর বুক থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী দখল অন্যদিকে শিল্প কারখানার বর্জ্য নিক্ষেপ এর কারণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে নদী । পরিবেশ, প্রতিবেশ  ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিহার্য নদী রক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নজরে পড়ছে না।
'বিশ্ব নদী দিবস' উপলক্ষে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীতে আয়োজিত "নদী পরিভ্রমণ" কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন। আগামীকাল ২৬ মার্চ রবিবার বিশ্ব নদী দিবস। নদী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য  'মানুষের জন্য নদী'। নদী দিবস উপলক্ষে ২৫ মার্চ শনিবার খোয়াই নদীতে 'নদী পরিভ্রমণ' আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার।
অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ, যথাযথভাবে নদী খনন করে খোয়াই নদীর গতিপথ অবারিত রাখা, খোয়াই নদী, পুরাতন খোয়াইসহ জেলার অন্যান্য নদী রক্ষায় নানান ধরনের দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে খোয়াই মুখ এলাকা থেকে মশাজান পর্যন্ত নদী পরিভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ( বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল এর সমন্বয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী মুমিন, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাবেক জনপ্রতিনিধি মো: হাবিবুর রহমান, এডভোকেট বিজন বিহারী দাস, বিশিষ্ট চিকিৎসক পরিবেশ কর্মী এস এস আল - আমীন সুমন,  আফরোজা ছিদ্দিকা, সাংবাদিক আব্দুল হালিম, তানভীর হোসেন,  তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সংস্কৃতিকর্মী মো: আবিদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আল আমিন, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, মো: হুমায়ূন খান, মুনির উদ্দিন,  এটি এম কদর আলী, মো: মইনুল ইসলাম, সমীরণ গোপ, মো: সোহান প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, বহু বছর ধরেই খোয়াই নদীর নাব্যতার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। খোয়াই নদী খনন না হওয়াতে নদীর তলায় পলি ও বালি জমে স্থানে স্থানে চড়া পড়েছে। নদীর তলদেশ শহর থেকে ১২/১৫ ফিট উঁচু হয়ে উঠেছে।  এছাড়াও খোয়াই নদী থেকে যন্ত্র দ্বারা অপরিকল্পিত - অনিয়ন্ত্রিত বালু , মাটি উত্তোলনের কারণে নদী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে এবং নদীর বিভিন্ন স্থানের বাধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নদীতে বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানি দূষণ ইত্যাদি বিরাজমান। খোয়াই নদী খনন করে নদীর তলদেশ শহর থেকে কমপক্ষে ১০ ফুট গভীরে নিতে হবে, অবৈধ মাটি - বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে, নদীর তীরে নিক্ষিপ্ত বর্জ্য অপসারণ করে বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
পুরাতন খোয়াই নদীর কথা উল্লেখ্য করে বক্তারা বলেন, এই নদীটি বৃষ্টির পানি ও অন্যান্য পানি  নিষ্কাশন, নদী পাড়ে যাতায়াত ও সুন্দর পরিবেশের জন্য নদীটি গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, দায়িত্বে অবহেলা ও ভূমি দখলকারিদের অবৈধ দখলের কারণে পুরাতন খোয়াই নদী বিলীন হওয়ার পথে। ফলে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ বিপর্যয় মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
বাপা সেক্রেটারী ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন , নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারের চরম বিপর্যয়ের শিকার। নদী নিয়ে ব্যবসা করা, নদী দখল ও হত্যা করে তা আর্থিক ফায়দা লোটা হচ্ছে। নদীর উপর ঘরবাড়ি স্থাপনা নির্মাণ, নদীকে দূষণ করা ইত্যাদি সকল অন্যায় ও অবৈধ আয়োজনই নদীর জন্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের জীবন যাপনের নদীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দৃশ্যত দেখা যায় নদী নিয়ে ভাবার জন্য কেউ নেই। 
মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ আলী মুমিন বলেন, খোয়াই মুখ থেকে মশাজান পর্যন্ত অগণিত ড্রেজার মেশিন চোখে পড়েছে। অবৈধ বালু, মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। দিন দিন নদীর অবস্থা শোচনীয় হচ্ছে।
মো: হাবিবুর রহমান বলেন, পুরাতন খোয়াই নদী দখলের হিড়িক পড়েছে। কতিপয় ভূমিখেকুরা নদীর উপর পাকা দালান নির্মাণ করছে, ময়লা আবর্জনা ফেলে দূষণ এবং ভরাট করছে। তিনি পুরাতন খোয়াই নদীর পূর্ণাঙ্গ সীমানা নির্ধারণের দাবি জানান।

 


এ জাতীয় আরো খবর