শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১

দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে মিশিগানে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু : কাল মহসপ্তমী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ছবিতে শিব মন্দির-টেম্পল অব জয়-এ স্থাপিত প্রতিমা

ডেট্রয়েট, ১১ অক্টোবর :  বছরব্যাপী অপেক্ষার পালা শেষ। শারদোৎসবের আগমনী সুর এখন মিশিগানের প্রবাসী বাঙালি সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিটি ঘরে। দেবী দুর্গার আগমনে মাতোয়ারা ভক্তকূল। আজ সোমবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেবীর বোধন শেষে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে  শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক দুর্গাপূজা। সাথে সাথে পূজোর ঢাকে পড়ছে কাঠি। কাল মঙ্গলবার মহাসপ্তমী। সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও সপ্তমীবিহিত পূজা শুরু হবে। 

দুর্গা শব্দের অর্থ হলো বুহ্য বা আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দু:খ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে, যেমন বাধা বিঘ্ন, ভয় দু:খ, শোক, জ্বালা যন্ত্রনা থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামের অন্য একটি অর্থ করেছেন। দু:খের মাধ্যমে যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দু:খ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরানে আছে , দেবী গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা ও পর্বতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, তাই তিনি পার্বতী। পরের অধ্যায়ে তিনি হয়ে উঠেন দানব দলনী দশভূজা। দুর্গ নামক দৈত্যকে দমন করে তিনি দুর্গা নাম প্রাপ্ত হন। শরৎকালের এ পূজাকে বলা হয় অকালবোধন। দেবী দুর্গার প্রকৃত আগমনের সময় চৈত্র মাস। অর্থাৎ বসন্তকাল। চৈত্র মাসে যে দুর্গাপূজা হয় তাকে বলা হয় বাসন্তী পূজা। ভগবান রামচন্দ্র সীতাকে উদ্ধার করতে বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকালে বোধন হওয়া সত্বেও শরতকালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়ে যায়। তাই এ পূজা শারদীয় দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গার সাহায্যে রাবন বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন রামচন্দ্র। আর মর্ত্যলোকে আসতে দেবীর সেই ঘুম ভাঙানোকে বলা হয় অকালবোধন। সনাতন ধর্মবলম্বীদের মধ্যে শারদীয় দুর্গাপূজাই সবচেয়ে বড় উৎসব।
পূজাকে আনন্দ মুখর করে তুলতে মিশিগান জুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। গোটা মিশিগানে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাকঢোল কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠবে এখানকার বিভিন্ন পূজামন্ডপ। এবার মিশিগানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে  ওয়ারেন সিটিতে নব প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দির-টিম্পল অব জয়-এ সাতদিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। তবে আজ সোমবার  রাজ্যের ওয়ারেন সিটির শিব মন্দির-টেম্পল অব জয়, ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল এবং ওয়ারেন সিটির মিশিগান কালীবাড়িতে বোধন এবং ষষ্টী পূজার মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মূল পূজা শুরু হয়েছে। এছাড়াও মিশিগানের ট্রয়, ক্যান্টন, পন্টিয়াক সিটিসহ অন্যান্য সিটিতে অবাঙ্গালি হিন্দুরা মেতে রয়েছে নবরাত্রিতে। মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত নয় রাত্রি ধরে মা দুর্গার নয়টি যে পূজো হয় তাকেই নবরাত্রি বলে।
এদিকে ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল এবং ওয়ারেন সিটির মিশিগান কালীবাড়িতে পূজাকে ঘিরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও  নাচ, গান, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটকের আয়োজন করা হয়েছে। মন্দিরে মন্দিরে বানোনো হচ্ছে তোরণ। করা হয়েছে আলোকসজ্জ্বা । বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে মন্দির গুলো। শারদীয় দুর্গোৎসবে মিশিগানে বেশ কজন অতিথি শিল্পীর আগমন ঘটছে। পূজা জুড়ে তারা মিশিগান  মাতাবেন গানে গানে। ইতিমধ্যে স্থানীয় পূজা কমিটিগুলো আগত শিল্পীদের নাম ঘোষণা করেছে। রয়েছে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনাও।
নিম্নে কটি পূজা মন্ডপের পূজার দিনক্ষণ ও সময়সূচী তুলে ধরা হলো-

শিবমন্দির
পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী ১২ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন এবং সপ্তমী বিহিত পূজা, দুপুর ১ টায় প্রসাদম, ১৩ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় মহাষ্টমী বিহিত পূজা, ১টায় অঞ্জলি, দুপুর ১ টায় প্রসাদম, দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে  ১০৮ পদ্ম ও ১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধিপূজা, ১৪ অক্টোবর বৃহষ্পতিবার  সকাল ১০ টায় মহানবমী বিহিত পূজা, দুপুর ১ টায় প্রসাদম এবং ১৫ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০ টায় দশমী বিহিত পূজা, পূজা শেষে বিসর্জন। অপরাজিতা পূজা।  রাত ৭ টা ৩০ মিনিটে বিজয়া দশমী ও শান্তি প্রশস্তি।  

ডেট্রয়েট দুর্গা মন্দির  
ডেট্রয়েট দুর্গা মন্দিরের তিথি অনুযায়ী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ অক্টোবর মঙ্গলবার মহাসপ্তমীতে সকাল ১০ টায় পূজা, দুপুর ১ টায় অঞ্জলি, দুপুর ২ টায় প্রসাদম,  ১৩ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০ টায় মহাঅষ্টমী পূজা, দুপুর ১ টায় অঞ্জলি,  দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে ১০৮টি সদ্য ফোটা পদ্মফুল ও ১০৮টি প্রদীপ জালিয়ে সন্ধি পূজা করা হবে। দুপুর ২ টায় প্রসাদম, ১৪  অক্টোবর বৃহষ্পতিবার সকাল ১০ টায় মহানবমী পূজা, দুপুর ১ টায় অঞ্জলি, দুপুর ২ টায় প্রসাদম, ১৫ অক্টোবর শুক্রবার  সকাল ১০টায় মহাদশমী পূজা, দুপুর ২ টায় প্রসাদম। প্রতিদিন আরতির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নাচ থাকবে। উইকেন্ডে অর্থাৎ শনি ও রোববার (১৬ ও ১৭ অক্টোবর) এই দুইদিনও অনুষ্ঠিত হবে পূজা। এছাড় উভয় দিন বিকেল চারটা থেকে রাত পর্যন্ত কবিতা আবৃতি, গান, নৃত্য, গীতিনাট্য, নিউইয়র্ক থেকে আসা অতিথি শিল্পীদের গান ছাড়াও থাকবে  নাটক ও আকর্ষণীয় রম্য শ্রুতি নাটক। 

মিশিগান কালীবাড়ি
ওয়ারেন সিটির মিশিগান কালীবাড়ীতে তিথি অনুযায়ী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।  ১২  অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর প্রতিদিন সকাল ১০ টায় পূজা, দুপরে ১ টায় অঞ্জলি, দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে প্রসাদম, বুধবার ও শনিবার রাত ৭ টায় সন্ধিপূজা, প্রতিদিন রাত  সাড়ে ৭ টায় আরতি ও ধুনচি নৃত্য। শনিবার ও রোববার (১৬ ও ১৭ অক্টোবর) কালচারাল প্রোগ্রাম।

ট্রাই সিটি বেঙ্গলি এসোসিয়েশন
ট্রাই সিটি বেঙ্গলি এসোসিয়েশন ১৫, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সাগিনা সিটির হিন্দু টেম্পল দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পূজা-অর্চনা, আরতি,  প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুর-ছোঁয়া (খেলা) এবং বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। এছাড়াও মনোমুগ্ধকর নৃত্য, সংগীতানুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন ।


এ জাতীয় আরো খবর