মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২১

বাংলাদেশে হিন্দু হামলার নেপথ্যে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র পাকিস্তানের!

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :
image

কলকাতা, ২২ অক্টোবর : বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর অষ্টমীর পর থেকে দেবদেবীর মূর্তি ও মন্দির ভাঙচুর এবং হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এসব ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের হাত ৷ বাংলাদেশের গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে আসছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য ৷  এ খবর দিয়েছে কলকাতার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রথম কলকাতা।
প্রথম কলকাতা জানিয়েছে, গত বুধবার কুমিল্লার সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ ৷ সেটা দেখার পর এবং সেই তদন্ত থেকে যে নির্যাস উঠে এসেছে তাতে জানা গিয়েছে, কুমিল্লার পুজোমণ্ডপে রাতের অন্ধকারে পবিত্র কোরান রেখে যাওয়া লোকটিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে ৷ তার নাম ইকবাল হোসেন ৷ বাড়ি কুমিল্লার সুজানগরে ৷ তবে বিষয়টা এখানেই শেষ নয় ৷ কারণ ঘটনাটা এত ছোট নয় ৷ কেন এমন কাজ করলেন ইকবাল হোসেন নামে ওই ব্যক্তি ৷ নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে? কতদিন ধরে চলেছিল অশান্তি সৃষ্টি করার এই পরিকল্পনা? ঠিক কোন অভিসন্ধি আশঙ্কা করা হচ্ছে এই গোটা ইস্যুর পেছনে? প্রশ্ন কিন্তু অনেক রয়েছে ৷ কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যে নামটা বারবার উঠে আসছে সন্দেহের তালিকায়, সেটা হল পাকিস্তান ৷ হ্যাঁ যোগসূত্র সেদিকেই ইঙ্গিত করছে ৷
বাংলাদেশের সরকার এবং পুলিশ আগেই দাবি করেছে, পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে বাংলাদেশের এই অশান্তির পিছনে। সেটা কিন্তু একেবারেই ভুল নয় ৷ আর পরিকল্পনাটা এক দুদিনের নয় বরং বলা যেতে পারে একদশক ধরে প্ল্যানিং প্লটিং চলছে ৷ বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করছে, এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ইমরান খানের দেশের হাত ৷ তা কেন পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলছে বাংলাদেশ? তারা সাধারণত যে কারণটা দেখাচ্ছে সেটা হল, আফগানিস্তানে তালিবান দখলদারি কায়েম হওয়ার পরে মাস দুয়েক ধরে ঢাকার পাকিস্তানি দূতাবাস এবং তাদের সহযোগীরা খুবই তৎপর।
শাসক দল আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতেই এই হামলা ও হিংসার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে এ কাজে বিরোধী দল বিএনপি-র হাত রয়েছে।” এই মন্তব্যই কিন্তু কিছু মুখোশ খুলে দিচ্ছে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলির আবার চাপাও দিচ্ছে বেশ কিছু সত্য৷ বিষয়টা ঠিক কী খোলসা করা যাক ৷
তালিবান ক্ষমতায় আসায় বাড়বাড়ন্ত পাকিস্তানের আফগানিস্তানে তালিবান শাসন কায়েম হওয়ায় পাকিস্তান কতটা খুশি হয়েছিল সেটা নতুন করে আপনাদের বলার দরকার নেই ৷ কিন্তু সেটাকে কতটা মারাত্মকাভাবে তারা ব্যবহার করছে তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে ৷ বাংলাদেশের স্বরা‌ষ্ট্রদপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, আফগানিস্তানে তালিবান শাসন কায়েম হওয়ার পর ঢাকাতে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সক্রিয়তা বেড়েছে। যেভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছে, এবং সঙ্গে সঙ্গে দুষ্কৃতীদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, বিভিন্ন জায়গায় আগেই তাদের জড়ো করে রাখা হয়েছিল। হেফাজতে ইসলামির একাংশ এবং জামাত-ই-ইসলামির মতো কয়েকটি মৌলবাদী সংগঠনকে ব্যবহার করে আইএসআই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। যদি এই ব্যাখাকেই সত্যি বলে ধরে নেওয়া হয় তাহলে কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন ওঠে ৷ বাংলাদেশে ঘরের শত্রু বিভিষণ না থাকলে পাকিস্তান কীভাবে এত সব করার সাহস বা মদত পায়?

বাংলাদেশের কারা মদত করছে পাকিস্তানকে?

এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের মসনদে বসা আওয়ামি লিগ কিন্তু বল ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির কোর্টে ৷ তারা বলছে, এ সব অপকর্ম ও নির্জলা মিথ্যার পেটেন্ট একমাত্র বিএনপির। বিএনপি সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে এই হামলার ফলে সরকারের উপর সংখ্যালঘুদের অনাস্থা বাড়বে, আর ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব নষ্ট হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন এটা অনেকাংশে সত্যি হলে এটাও সত্যি যে, মনে করা হয় সরকারে থাকা আওয়ামি লিগের মধ্যে দুই পন্থীর রাজনীতিবিদ রয়েছে ৷ ১) ভারতপন্থী ও ২)পাকিস্তানপন্থী ৷ এই দুটি লবি সবসময়ই পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ব্যবহার করে থাকে বিভিন্নভাবে ৷ কারণ পাকিস্তানপন্থী বহু রাজনীতিবিদ নানান ব্যবসার কারণে পাকিস্তান ও চিনের সাহায্য নিয়ে থাকে ৷ তাই শুধু পাকিস্তান নয় চিনও ইনভলভ থাকে এধরণের নানান অশান্তির নেপথ্যে ৷ পাকিস্তান কিন্তু চিনকে দিয়েও নানান কূটনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে থাকে বাংলাদেশের অন্দরে ৷ যাতে অশান্তি আরও বাড়ে ৷ এবং আদতে ক্ষতি হয় হিন্দুদের ৷ এই তথ্য বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে ৷ আর এই তথ্যই কিন্তু ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান বাঁকা পথে ঠিক কোন চালটা চালছে ৷

ইস্কনের ওপর হামলার বড় পরিকল্পনা
বাংলাদেশে ভারত পন্থী থেকে পাকিস্তান পন্থী মানুষের সংখ্যা বেশি ৷ তা আওয়ামি লিগের এক অংশ হোক বা বিরোধী দল বিএনপির এক অংশ হোক৷ এটা গত দুদশক ধরে চলছে ৷ আর এই চিন্তাভাবনার মানুষদেরই হাতের পুতুল বানিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তান ৷ তাদেরকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ৷ একইসঙ্গে এই কট্টোরপন্থীদের ঘুরপথে ব্যবহার করছে মধ্যপ্রাচ্যও ৷ কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে প্রচুর বাংলাদেশি মুসলিমের বাস ৷ এবং সেখানে থেকে প্রচুর অর্থ বাংলাদেশে আসে ৷ তাই বিভিন্ন নাশকতার ছক তৈরিতে এভাবে কাজে লাগানো হয় মুসলিম সংগঠনগুলিকে ৷ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর প্রচুর বিধিনিষেধ রয়েছে তা সে ধর্মীয় আচার পালনে হোক বা জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে ৷ একমাত্র আন্তর্জাতিকভাবে ইস্কনই সেখানকার হিন্দুদের সাহায্য করে আসছে ৷ এবং এই ইস্কন কিন্তু বড় টার্গেট পাকিস্তানের কাছে ৷ কারণ ইস্কনকে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা বলেই মনে করে পাকিস্তান ৷ তাই ইস্কনের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো বা নেগেটিভ প্রচার করে জনমত গড়ে তোলাতেও বাংলাদেশের কট্টোরপন্থীদের কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তান ৷ সূত্রের খবর, গত এক দশক ধরে সুপরিকল্পিতভাবে ইস্কনের বিরুদ্ধে চলছে নাশকতার ছক ৷ ইস্কনের বিরুদ্ধে জনমত শক্তিশালী করতে এমনকি বেশ কিছু বাংলাদেশি ইউটিউবারও ক্রমাগত বিষোদগার করছে ৷ যার বড় নেতিবাচক প্রভাব যে পড়েছে সেই প্রমাণ তো হাতে নাতে মিলেছে ৷


এ জাতীয় আরো খবর