বুধবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২২

‘মিলেমিশে কাজ করার সময় এখনই’

  • কামাল মোস্তফা :
image

ওয়ারেন, (মিশিগান) ৭ ডিসেম্বর : কমিউনিটি ও জনগণের স্বার্থে অনেকেই কাজ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। কেউ কেউ পকেটের টাকা খরচ করে কাজ করেন। এমন মানুষও আছে যারা প্রকৃত পক্ষে কাজ করতে গিয়ে ফতুর হয়ে গেছেন। আবার এমনও আছে কমিউনিটির নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ আদায় করে নিজের পকেট ভারী করছে। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সভা সমিতিতে মুখরোচক আলোচনা হয়। একে অপরের সাথে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি এবং নেতৃত্বের দুর্বলতা নিয়ে কথা বলে থাকেন। এসব কথাবার্তা শুনতে খারাপ লাগলেও অমূলক নয়। অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তব উদাহরণ টানেন ।  

অনেকেই একমত পোষণ করেন নীতিহীন নেতাদের দ্বারা কমিউনিটি বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের অগ্রসর হতে হবে । বিচক্ষণতার সাথে খুঁজে বের করতে হবে আমাদের নেতৃত্বের দুর্বলতা। নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে কমিউনিটির আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না। মূলত আমরা জানিনা এই দেশে কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য কেমন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ? কমিউনিটি তথা জনগণের প্রয়োজনীয়তার মূল ক্ষেত্র গুলো খুঁজে বের করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আন্তরিকতা ও নিয়মানুবর্তিতার সাথে ধারাবাহিক ভাবে কাজ করতে হবে।
বহু জাতি গোষ্ঠী, ধর্মীয় গ্রুপ, শতাধিক ভাষা ভিত্তিক আমেরিকা হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সর্বোচ্চ নাগরিক অধিকার ও সুবিধা নিশ্চিত করেছে। জীবন যাপনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত কাজ করছে । যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি সুনিশ্চিত। কিছু নিয়ম কানুন মেনে আবেদন করলে সহজেই সব কিছু পাওয়া যায়। ক্ষেত্র বিশেষে প্রাপ্তি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি । কাজে-ই স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন গুলোকে এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। কমিউনিটিকে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পদ্ধতি, শিক্ষার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত, উচ্চ শিক্ষায় পরামর্শ ও সাহায্য প্রদান, কমিউনিটিতে ড্রপ আউট শিক্ষার্থীদের টেকনিক্যাল শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ, কমিউনিটি ভিত্তিক শিক্ষা বৃত্তি চালু, নতুন প্রজন্মের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহের জন্য নানা ধরনের  সহায়তা প্রদান। মাদকাসক্তি থেকে যুব সম্প্রদায়কে রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
দলভিত্তিক কাজ করতে যেয়ে আমরা অনেকেই নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হই । অথচ দলবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বৃহত্তর সাফল্য অর্জন সম্ভব নয় । কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে পরষ্পরের প্রতি সন্দেহ অবিশ্বাস দূর করে এগোতে হবে। হিংসা বিদ্বেষ আর ঘৃনা ছড়ায়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে । পারস্পরিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি পিছনে থেকে সমালোচনা বন্ধ করতে হবে। আঞ্চলিকতা, রাজনৈতিক,  সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজন থেকে দূরে থাকতে হবে । আমরা এখন আর বাংলাদেশে নেই। কাজেই বাংলাদেশের খারাপ বৈশিষ্ট্য গুলো আমাদের মন মগজ থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে ।
অবশ্যই সদা মনে রাখতে হবে আমরা একটি উন্নত দেশের নতুন অভিবাসী। এখানে জীবনের প্রতিটি অধ্যায় নতুন। বহুমাত্রিক এই সমাজ বর্তমান সময়ে পৃথিবীর মহা ক্ষমতাধর রাষ্ট্র। আর আপনারা হচ্ছেন এই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সৌভাগ্যবান  নাগরিক। অহঙ্কার না করে মিলে মিশে একাকার হয়ে কাজ করার এখনই সময় । মানব সমাজে মতান্তর ও মতানৈক্য থাকবেই। তারপর ও মনে রাখতে হবে সকলের তরে সকলে আমরা। একক সাফল্যের চেয়ে দলগত সাফল্যের মর্যাদা অনেক বড়। নিজেকে নির্লজ্জ প্রচারের চেয়ে কমিউনিটির উন্নয়ন অগ্রগতিতে অবদান রাখুন। তখন কমিউনিটি ই আপনাকে স্যলুট করবে সম্মান জানাবে । মরণের পরও জনসাধারণের মাঝে বেঁচে থাকবেন । প্রচারণার জন্য ঢাকঢোল কষ্ট করে আপনাকে বাজাতে হবে না। জনগণ ই স্বেচ্ছায় আপনার ঢোল বাজাবে। অন্তরে সাদরে লালন করবে আপনার ছবি ।
আমেরিকায়  নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বহু মেধাবী সন্তান ইতিমধ্যে আমেরিকার মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । সেটি আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় খুবই নগণ্য। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সমষ্টিগত সাফল্য বেশি দূরে নয়। আসুন সকল মতভেদ ভুলে মিলে মিশে এক ইস্যুতে নিজেদের ঐক্য গড়ে তুলি ।


এ জাতীয় আরো খবর