বুধবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২২

ওমিক্রনের নতুন জ্বালা, সুস্থ হওয়ার পরেও মারাত্মক এফেক্ট ! গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :
image

বিশ্বজুড়ে রীতিমতো করোনার ভয় যেন গ্রাস করছে। কিন্তু নতুন রূপ ওমিক্রন থেকে খুব একটা আতঙ্কের যে কিছু নেই, অনেক সমীক্ষা তা প্রমাণ করে দিয়েছে। বিশেষ করে যাদের করোনার ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে , তাদের ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। রিপোর্ট পজিটিভ আসলেও হোম আইসোলেশনে থেকে অনেকেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। যদিও তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর বিশ্রাম, জলপান, ওষুধ এবং পুষ্টিকর খাবার। হাসপাতালে না গিয়ে বহু মানুষ বাড়িতে থেকেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু যাদের ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ হয়নি অথচ ওমিক্রনে সংক্রমিত হচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে চিন্তার বিষয় থেকে যায়। এক্ষেত্রে অনেকেরই দেখা দিচ্ছে নানান জটিল সমস্যা। তবে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও ভয় থেকে নিশ্চিন্তভাবে ছুটকারা পাওয়া যাচ্ছে না। এফেক্ট পড়ছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে।

•গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য
এখনও অবধি এটা বিশ্বাস করা হয় যে ওমিক্রন ডেল্টার মতো শরীরের অঙ্গগুলির ক্ষতি করে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ওমিক্রন করোনার অন্যান্য রূপের তুলনায় কম প্রাণঘাতী হলেও এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ব্যাপক ক্ষতি করছে।
ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, ওমিক্রনের হালকা লক্ষণ থাকলেও শরীরে অনেক মারাত্মক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যাদের SARS-CoV-2 সংক্রমণের খুব হালকা লক্ষণ ছিল বা কোনও লক্ষণ নেই। সেই তালিকায় ছিলেন প্রায় ৪৪৩ জন।

•গবেষণার ফলাফল
✓ গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী ওমিক্রন সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে অঙ্গের ক্ষতি একইভাবে ঘটছে যেমনটি কোভিড -১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে হয়েছিল, তবে এটি অঙ্গগুলিকে ততটা খারাপভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম নয়। উদাহরণস্বরূপ, দেখা গেছে যারা সংক্রমিত হয়েছিলেন তাদের ফুসফুসের অবস্থা, যারা সংক্রমিত হননি তাদের তুলনায় ৩ শতাংশ দুর্বল। অর্থাৎ, এই গবেষণার ভিত্তিতে বলা মুশকিল যে ওমিক্রন ফুসফুসে প্রভাব ফেলছে না। এটি ফুসফুসের ক্ষতি করছে কিন্তু কম প্রাণঘাতী ।
✓ ফুসফুসের পর হার্টের পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আক্রান্তদের হার্টের পাম্পিং স্পিড অন্যান্য মানুষের তুলনায় ১ থেকে ২ শতাংশ কমে গেছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত রোগীদের রক্তে প্রোটিনের মাত্রা ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা হার্টে অল্প হলেও চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের তুলনায় আক্রান্তদের কিডনির কার্যকারিতা দুই শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
সামগ্রিকভাবে এই সমীক্ষা অনুসারে, ওমিক্রন কম প্রাণঘাতী হলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একবারও বলা হয়নি যে ওমিক্রনের কোনো আফটার এফেক্ট নেই বা এই ভাইরাস কম বিপজ্জনক বলেও দাবি করা হয়নি। WHO ক্রমাগত বিশ্ববাসীকে ওমিক্রনের সংক্রমণ এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করার জন্য সতর্ক করে চলেছে।
সূত্র : প্রথম কলকাতা


এ জাতীয় আরো খবর