সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

ভালো নেই লাখাইয়ের মৃৎশিল্পীরা

  • সানি চন্দ্র বিশ্বাস :
image

লাখাই, (হবিগঞ্জ) ১৩ ফেব্রুয়ারি : আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির তৈরি আসবাবপত্রের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাচ্ছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত লোকজন। বাপ দাদার পেশা ছাড়তে পারছেন না, তাই আজও এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার কিছু মৃৎশিল্পী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নে মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত পালসম্প্রদায়ের ৪০টি পরিবারের মধ্যে ১০ টি পরিবার তাদের পেশাকে ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বুল্লা ইউনিয়নে ৩-৪ টি ও লাখাই ইউনিয়নে ১৯টি পরিবারের মধ্যে৭/৮ টি পরিবার ঠিকে আছে। তবে এরাও ভালো নেই।
উপজেলার  পালপাড়াসমূহ ঘুরে দেখা যায়   ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে নিপুণ হাতে কারুকাজের মাধ্যমে মাটি দিয়ে তৈরি করছেন নানারকম তৈজসপত্র। সেখানে নারী পুরুষেরা মিলে তৈরি করছেন হাড়ি,পাতিল, সরা, সানকি,গামলা, পুতুল, ব্যাংক, গরু, কলসি, বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি। মাটিকে তৈজসপত্র তৈরির  উপযোগী করতে দিনভর চলে মাটি প্রক্রিয়াকরণ কাজ। তাদের জীবন-জীবিকার হাতিয়ার হচ্ছে মাটি। কিন্তু কালের বিবর্তনে তাদের ভালোবাসার জীবিকা ফিঁকে হতে চলেছে। দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে আধুনিকতা। আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় চাহিদা হারাচ্ছে মাটির তৈরি শিল্পপণ্য।


এক সময় মাটির তৈরি তৈজসপত্রের প্রচুর ব্যবহার ও চাহিদা ছিল। এখন মাটির তৈরি তৈজসপত্রের চাহিদা হারিয়ে স্থান দখল করে নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের  তৈরি পণ্য। দাম বেশি হলেও টেকসই হওয়ায় সবাই ঝুঁকছে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের  পণ্যের প্রতি। আর তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে ঝুঁকছেন অন্য পেশায়। 
লাখাই পালপাড়ায় কয়েকটি পরিবার সরাসরি মৃৎশিল্পের উপর নির্ভরশীল। দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মাটি দিয়ে তৈরি করছে বিভিন্ন মৃৎপণ্য। পণ্যের ন্যায্য দাম না পেয়ে এ পেশায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে কারিগররা। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব ও মেলায় তৈরি খেলনা, পুতুল ছাড়া অন্য কোনো গ্রাহক নেই বললেই চলে। অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও  স্টিলের জিনিসপত্রের ভিড়ে মাটির তৈরি এসব পণ্য জৌলুস হারাচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় এ শিল্পটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
লাখাই পালপাড়ার শংকর পাল (৪৫) জানান, বাজার মূল্যের সাথে টিকে থাকতে না পেরে অনেকেই আর এ পেশায় আগ্রহী হচ্ছে না। তবে বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাট-বাজারে বিক্রি করেও যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ যুগে আর জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই পাড়ার কৃষ্ণ পাল (৪০) জানান,  মাটির অনেক দাম এবং খাটুনি প্রচুর। খাটুনি অনুযায়ী মজুরি পান না।  প্রয়োজনীয় পুঁজিরও অভাব রয়েছে কুমারদের।
মায়া পাল  নামে  একজন জানান, মূর্তি বানানোর কাজটিকে ধরে রাখতে অন্যান্য জিনিস তৈরি করতে হচ্ছে। একাজের তেমন মূল্য নাই। বাইরে থেকে কিছু পাইকার  এসে বিভিন্ন মেলার জন্য খেলনা সামগ্রী নিয়ে যায়।লাখাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাশগুপ্ত জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে মৃৎশিল্প ও মৃৎশিল্পীরা। 


এ জাতীয় আরো খবর