সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

মনিপুরী সম্প্রদায়ের কাছে 'জানি না ' শব্দের উৎপত্তি যেভাবে

  • মিলন রশীদ :
image

ত্রিশের দশকের কথা। সারা বাংলায় তখন কৃষক আন্দোলন পুরোদমে চলছে। ইংরেজ শাসকদের অন্যায় - অত্যাচারে কৃষককূলের মরণাপন্ন অবস্থা। মৌলভীবাজার,  বালিশিরা থেকে রংপুর পর্যন্ত কৃষক আন্দোলনের ব্যাপ্তি। কৃষক আন্দোলনের নেতানেত্রীরা এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ছুটছেন। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে।

একদিকে ইংরেজ শাসক ও জমিদারদের  অত্যাচার অন্যদিকে কৃষকদের প্রতিরোধ। দেশব্যাপী এক অরাজক পরিস্থিতি। নেতাদের পাশাপাশি নারী নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তারাও পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁরা আন্দোলনরত কৃষকদের সাথে একিভূত হয়ে কাজ করেছেন।
১৯৩১ থেকে ৩৩ সাল পর্যন্ত ভানুবিলের কৃষক আন্দোলন জোরদার ছিল। এ সময় অনেক নেতারই বিভিন্ন মেয়াদে জেলে আটক থাকতে হয়েছে। ১৯৩৫ সালে প্রজাস্বত্ব আইন হওয়ার পর কৃষক আন্দোলন থেমে যায়।
সেই সময় দেশের আরো যে সব এলাকায় কৃষক, শ্রমিক আন্দোলন হয়েছিল এর মধ্যে রংপুরের আধিয়ার চাষী, খাপুরের তেভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগ্রামী, খালিশপুরের কারবালা, ১৯২১ সালের চা শ্রমিক আন্দোলন, বালিশিরার কৃষক আন্দোলন, কানাইঘাটের কাহিনী ও ভানুবিলের কৃষক আন্দোলন।
ভানুবিলের কৃষক আন্দোলনে সরকারের পাশাপাশি জমিদার আলী আমজাদ খান ও নায়েব রাস বিহারী দাসের দমনপীড়নে কৃষককূল যখন অতিষ্ট।  হাতি দিয়ে বাড়ীঘর ভাংচুর  করা হত। মনিপুরী পুরুষ-মহিলা সম্মিলিত ভাবে মশাল, ঘরের থালা বাসন সহ নানা রকম বাদ্যযন্ত্র দিয়ে হাতির আক্রমন প্রতিহত করা হতো।
তখনই মৌলভী বাজার, সিলেট ও কলকাতা থেকে নেতৃবৃন্দ ভানুবিলে এসে  জড়ো হয়ে আন্দোলনে প্রাণশক্তি যোগান। এ সময় সরকার ও জমিদারের লোকজন মনিপুরী কৃষক যাদের হাতের নাগালে পাচ্ছে প্রচন্ড অত্যাচার করেছে। নেতারা কোথায় আছে, জানতে চেয়েছে। এর আগেই আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন সভায় বলে দেয়া হয়, যতই অত্যাচার - নির্যাতন করা হয়,  তা সহ্য করতে হবে। নেতানেত্রীরা কোথায় আছেন বলা যাবেনা। বলতে হবে 'জানি না'।
এই যে 'জানিনা ' বাক্যটি মনিপুরী সম্প্রদায়ের মাঝে আজো বহমান। এটি প্রবাদ না আন্দোলন প্রক্রিয়ার  একটি অংশ তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও ' জানিনা ' শব্দটি এখনো হারিয়ে যায়নি।


এ জাতীয় আরো খবর