সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

মিশিগানে রামকৃষ্ণ আশ্রমের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ওয়ারেন, ১৫ মে :  বিবেকানন্দ বেদান্ত সোসাইটি শিকাগোর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী ঈশাত্মানন্দজী বলেছেন, আজকের এদিনে এই আশ্রমে ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণের মধ্যে ধীরে ধীরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। প্রবীণ সাধু দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বেদান্ত সোসাইটির অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী সর্বদেবানন্দজী এই প্রাণ প্রতিষ্ঠা করছেন। এর মধ্য দিয়ে ভগবানের শক্তি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আজ রোববার সকালে নগরীর ইস্ট নাইন মাইল রোডস্থ রামকৃষ্ণ আশ্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন শেষে ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভক্তদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছিলেন।
এর আগে  সকাল সাড়ে ১০টায়  রামকৃষ্ণ আশ্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বেদান্ত সোসাইটির অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী সর্বদেবানন্দজী এবং বিবেকানন্দ বেদান্ত সোসাইটি শিকাগোর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী ঈশাত্মানন্দজী।


অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী ঈশাত্মানন্দজী বলেন, আপনারা যারা এখানে আছেন বা যখন এখানে আসবেন অন্য কোন চিন্তা করবেন না। সব সময় এসে ৫, ১০ কিংবা ১৫ মিনিট বসে শুধু ঠাকুর, শ্রীশ্রীমা এবং স্বামীজীর দিকে তাকিয়ে থাকবেন। তাদের দিকে তাকিয়ে শুধু শুধু মনে মনে প্রার্থনা করবেন।  যারা দীক্ষা নিয়েছেন এখানে বসে নাম জপ করবেন। এই ঘরটার মধ্যে আর কোন কথা কিংবা গল্প যেমন তুমি কেমন আছ, তোমার ছেলে কেমন আছে এসব বলা যাবে না। পড়া যাবেনা বই  কিংবা খবর। বাচ্চারা খেলাধূলা করবে পাশের ঘরে, এখানে নয়। এই ঘরটি একদম জমাট বাধা থাকবে।
তিনি বলেন, আজ আপনারা একটা সুযোগ পেয়েছেন- এই ওয়ারেনে  ঠাকুরের মন্দির হলো। প্রাচীন একজন সাধু ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করছেন। এ সুযোগ কেউ পায়না।


তিনি বলেন, অন্য সেসব মন্দির আছে তারা সাজিয়ে ঘুছিয়ে সুন্দর করে রাখে। বিরাট বিরাট সব মন্দির। এসব মন্দিরে কেউ ভগবানের দিকে তাকায় না। এদিক ওদিক শুধু সুন্দর দেখে, সবাই সুন্দরের দিকে তাকায়। কারণ তাকাবার উপায় থাকেনা। আমাদের এখানে এসব কিছু নেই। চরিদিকে শুধু সাদা দেয়াল। সুতরাং অল এটেনশন শুধু ঠাকুর। মনে মনে সব প্রার্থনা শুধু ঠাকুরের কাছে করুন। মনে মনে যত প্রার্থনা করবেন দেখবেন ঠাকুর, মা সারদা দেবী আপনার সাথে কথা বলছেন। খুব ভাল লাগবে। আনন্দ পাবেন।


তিনি বলেন, কখনো কারো নিন্দা করতে যাবেন না। কখনো করবেন না। যত নিন্দা করবেন আপনার খারাপ হবে। শ্রীশ্রী মা বলেছেন, কারো নিন্দা করতে নেই। প্রত্যেকটি চিন্তা আপনার মনে দাগ কেটে যাচ্ছে। আর সেটা পরবর্তী জীবনে আপনার জন্য কষ্টকর জীবন হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে মাঙ্গলিক নৃত্য এবং সমবেত প্রার্থনায় স্থানীয় শিল্পীরা অংশ নেন। 
অন্তরা অন্তি-র করিওগ্রাফিতে দুটি মাঙ্গলিক নৃত্য পরিবেশন করা হয়। মোমবাতি নিয়ে আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে নৃত্যে অংশ নেন অরিত্রি, আরিয়ানা, সোহানী, জেসিকা, স্মরণিকা, আনিস্কা, অদিতি, কৃষ্টি, রিয়া, ঋশিকা, অতশি। তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে নৃত্যে অংশ নেন অন্তরা অন্তি, ঋতশ্রী ও স্নেহা। পরে ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন অজিত দাশ, মৌমিতা দাশ, নন্দিতা দাশ, প্রিয়া চৌধুরী, অতশি রায়, অদিতি রায়,  ও পূর্বা রায়।

এরপর মন্দিরের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক ধর্মীয় আলোচনা সভা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বেদান্ত সোসাইটির অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী সর্বদেবানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিবেকানন্দ বেদান্ত সোসাইটি শিকাগোর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী ঈশাত্মানন্দজী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবিনাশ চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় টেম্পলের সাবেক সভাপতি মহাবীর কেতাবাত,  ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের প্রেসিডেন্ট পঙ্কজ দাশ, মিশিগান কালিবাড়ির প্রেসিডেন্ট শ্যামাব্রত হালদার, মিশিগান শিব মন্দিরের কো-অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অজিত দাশ। সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা করেন রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব। 
অনুষ্ঠানে মিশিগান শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা খ্যাতিমান চিকিৎসক ও দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। স্বামীর অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি বিশেষ অতিথি চিনু মৃধাও ।


এ জাতীয় আরো খবর