সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

লোকনাথ বাবার তিরোধান উৎসব : শিব মন্দিরে যত আয়োজন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ওয়ারেন, ৩০ মে : আগামী ৩ জুন (১৯ জ্যৈষ্ঠ) শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারি বাবার ১৩২তম তিরোধান উৎসব। বাবার তিরোধান উৎসব উপলক্ষে নগরীর শিব মন্দিরে দুইদিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 
কর্মসূচির প্রথমদিন ৪ জুন শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গীতাপাঠ ও অধিবাস। পরদিন রোববার ৫ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বাল্যভোগ ও লোকনাথ বাবার পূজা, গীতাযজ্ঞ সকাল ১১টায়। এই গীতাযজ্ঞে গীতার ১৮টি অধ্যায় পর্যায়ক্রমে পাঠ করা হবে। দুপুর ১টায় পাঁচালি পাঠ, দুপুর ২টায় রাজভোগ ও পুষ্পাঞ্জলী প্রদান, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে  প্রসাদম, বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে লোকনাথ বাবার অষ্টোত্তর শতনাম পাঠ। এছাড়াও রয়েছে ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান।  চাঁদার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডলার। স্পন্সর হিসেবে থাকছেন অনেকেই।
জন্মাষ্টমী তিথিতে জন্মেছিলেন লোকনাথ ব্রহ্মচারী। লোকনাথ ব্রহ্মচারী  ১৭৩০ সালের ৩১ অগাস্ট এবং ১১৩৭ বাংলার ১৮ ভাদ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগণার  কচুয়া গ্রামে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর বাবার নাম রামনারায়ণ ও মায়ের নাম কমলা দেবী। বাবা ছিলেন ধার্মিক ব্রাহ্মণ। পিতা-মাতার চতুর্থ সন্তান ছিলেন তিনি। 
দিনের দিনের পর দিন কঠিন তপস্যাই তাঁকে লোকনাথ ব্রহ্মচারী করেছিল ৷ যিনি ভক্তদের কাছে লোকনাথ বাবা নামেই পরিচিত ৷ বাংলার ঘরে ঘরে বাবা লোকনাথের পুজো কম বেশি হয়েই থাকে ৷ পুরাণে বলা আছে বাবা লোকনাথ স্বয়ং শিবের অবতার ৷ অবতার অর্থাৎ তাঁর মধ্যে ভগাবন শিবের উপস্থিতি সর্বক্ষণ রয়েছে ৷ তিনি অত্যন্ত অল্পতেই সন্তুষ্ট ৷ আসমুদ্র হিমাচল পর্যন্ত যাঁর ব্যাপ্তি ৷ মানুষকে ভালবেসে বলেছেন, রণে বনে জলে জঙ্গলে যেখানেই বিপদে পড়িবে আমাকে স্মরণ করিও আমি রক্ষা করিব ৷
এই মন্ত্রই যেন বারংবার বুকের মধ্যে আলাদা করে শক্তির সঞ্চার করে সব ভয় থেকে আমাদের যেন সব সময়েই রক্ষা করে ৷ বাবার ভক্তদেরকে সব সময়ে সৎ পথে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন ৷ জন্মের প্রকৃত অর্থ সবাইকে বুঝিয়েছিলেন ৷ তিনি মিছরির মত নিজেদের মনকে রাখতে বলেছেন ৷ মুখের ভাষা যেন সব সময়েই মিষ্টি হয় ৷ সেই জন্যই ভক্তদের তিনি মিছরি খেতে দিতেন ৷ বাবা লোকনাথের পুজোর জন্য কোনও আড়ম্বর লাগেনা ৷ তিনি অত্যন্ত অল্পেই সন্তুষ্ট। তাঁর পুজোয় শুধুমাত্র ফুল, ধূপ, চন্দন ও অবশ্যই আমৃত্তি ও মিছরি ৷ মিছরি লোকনাথ বাবার প্রধান প্রসাদ।  
বাবা লোকনাথের মহিমা অপরিসীম ৷ গোটা বাংলা তথা গোটা বিশ্বজুড়ে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ভক্ত সংখ্যা প্রচুর ৷ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর কৃপা পেতে চেষ্টার কোনও কসুর করেন না ভক্তরা ৷ এমনকী বহু বাড়িতে যত্ন সহকারে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর পুজো অর্চনা চলে গোটা বছর ৷ কথিত আছে যে, লোকনাথ পুজোর কোনও কঠিন উপাচার নেই ৷ খুব সহজেই সন্তুষ্ট হন তিনি ৷ তবে আবার অনেকে বলেন, লোকনাথ ব্রহ্মচারীকে তুষ্ট করতে কিছু মন্ত্র পাঠ করতে হয় ৷ রবিবার সন্ধ্যায় ভক্তিভরে পাঠ করতে হয় সেই মন্ত্র ৷ সেই বিশেষ মন্ত্রটি হল-‘‘জয় বাবা লোকনাথ, জয় মা লোকনাথ, জয় গুরু লোকনাথ, জয় শিব লোকনাথ, জয় ব্রহ্ম লোকনাথ।  হে তেত্রিশ কোটি দেবতা আমাকে আশীর্বাদ করো। সৃষ্টির জীব পরিবারবর্গাবলী বংশাবলী এবং অধমকে কৃপা কর। আমাদের সুখী সমৃদ্ধ দরদী পরিবারে পরিণত কর ৷
লোকনাথ বাবার পুজো ঠিক কেমন করে ও কবে কার উচিৎ? এই প্রশ্ন বাবার ভক্তদের মনে মাঝে মধ্যেই এসে থাকে ৷ তবে বাবা লোকনাথ তাঁর শিষ্যদেরকে একটি কথাই বলে গিয়েছেন তাঁর পুজোর কোনও তিথি, নক্ষত্র নেই ৷ প্রতিদিনই যেকোনও সময়ে তাঁকে মনও প্রাণ দিয়ে ডাকলে ভক্তদের সামনে হাজির হয়ে থাকেন তিনি ৷ প্রতিটি নিষ্ঠাবান, সৎ ও পরপোকারী মানুষের মনেই তাঁর বাস ৷ সততার সঙ্গে জীবনে প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করতে সব সময়ে ভক্তদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি ৷ সত্য, শিব ও সুন্দরের জীবনে মানুষকে ভালবেসে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোই একজন মানুষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।
বাংলা ১২৯৭ সালের ১৯ জ্যৈষ্ঠ (১ জুন, ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ) ১৬০ বছর বয়সে অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন পরম মহাপুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর দিব্যজীবনের অবসান ঘটে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী গ্রামে। বারদী গ্রামে শতাধিক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম। প্রতিদিন সেখানে দেশ বিদেশের হাজারও ভক্তের সমাবেশ ঘটে।


এ জাতীয় আরো খবর