সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

শিব মন্দিরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে লোকনাথ ব্রহ্মাচারীর তিরোধান উৎসব পালিত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ওয়ারেন, ০৬ জুন : ত্রিকালদর্শী মহাযোগী শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মাচারীর ১৩২ তম তিরোধান উৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার নগরীর শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে পালিত হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বাল্যভোগ, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, রাজ ভোগ, ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, আরতি,  নাম সংকর্তীন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ। 

সকালে বাল্যভোগ ও  লোকনাথ বাবার পূজার মধ্য দিয়ে তিরোধান উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পূজায় পৌরহিত্য করেন মন্দিরের প্রধান প্রিস্ট পূর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু। ১১ টায় শুরু হয় গীতাযজ্ঞ। গীতার ১৮টি অধ্যায় সমস্বরে পাঠ করেন প্রিস্ট পূর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু, আশুতোষ চৌধুরী, করুণাময় দেবনাথ, অজিত দাশ, রাখি রঞ্জন রায়, দিপক রায়, হীরালাল কপালী, জিতেন গোপ, মোরারজী শর্মা রিঙ্কু, ধর্মদাস পুরকায়স্থ অরূপ, অতুল দস্তিদার, বিভু দেব,  চন্দন তরফদার, চিন্ময় আচার্য্য, অয়ন চক্রবর্তী, তীর্থ আচার্য্য, গৌরি ধর, রুমা রাণী দাশ, প্রতিভা কপালী। এ সময় গীতাপাঠের পবিত্র গম্ভীর আবহ ও আগত পুণ্যার্থী নারীদের উলুধ্বনিতে মুখরিত হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। 

দুপুর ১টায় পাঁচালি পাঠ শেষে  রাজভোগ নিবেদন করা হয়। প্রদীপ  প্রজ্বলন ও লোকনাথের গানের সাথে আরতি গীতে নেতৃত্ব দেন জিতেন গোপ। এরপর পুষ্পাঞ্জলী প্রদান শেষে লোকনাথ বাবার অষ্টোত্তর শতনাম পাঠে অংশ নেন ভক্তরা । অষ্টোত্তর শতনাম পর্বে নেতৃত্ব দেন চন্দনা বানার্জী। ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন অজিত দাশ, জিতেন গোপ, শর্মিলা দেব শর্মি। যন্ত্রে অসিত বরণ চৌধুরী ও অতুল দস্তিদার এবং মৃদঙ্গে ছিলেন শিব মন্দিরের কো-অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার ও বাবুল পাল। বিপুল সংখ্যক ভক্তের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাঙ্গন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। উৎসবঅন্তে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন  শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা চিনু মৃধা।


উল্লেখ্য, প্রিস্ট পুর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, অরুন আচার্যী ও প্রদীপ লস্কর ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম মিশিগানে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার তিরোধান উৎসব পালনের উদ্যোগ নেন।  এরপর থেকে  প্রতি বছর ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে তিরোধান উৎসব পালিত হয়ে আসছে। দিন দিন এর ব্যাপ্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ভক্তদের সংখ্যাও।

১৭৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ শে আগষ্ট জন্মাষ্টমীর দিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন লোকনাথ বাবা। কচুয়া গ্রামে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। পিতা রামনারায়ন ঘোষাল ও মাতা কমলা দেবীর চতুর্থ পুত্র ছিলেন তিনি। তখনকার দিনে এমন একটি ধারণা ছিল যে বংশের কোন একটি ছেলে ব্রহ্মচারী হলে সেই বংশের অশেষ পূণ্য লাভ হয়। রামনারায়ন প্রথম থেকেই চাইতেন তার কোনো একটি ছেলে ব্রহ্মচারী হন, কিন্তু কমলাদেবী বারংবার বাধা প্রদান করেছিলেন। শেষমেষ রাম নারায়ণের ইচ্ছাপূরণ করেছিল তার চতুর্থ ছেলে লোকনাথ। আচার্য গাঙ্গুলীর কাছ থেকে শিষ্যত্ব গ্রহণ করে উপনয়নের দিন‌ই বেনীমাধব চক্রবর্তীর সঙ্গে গৃহত্যাগ করেন ব্রহ্মচারী লোকনাথ বাবা।


দিনের দিনের পর দিন কঠিন তপস্যাই তাঁকে লোকনাথ ব্রহ্মচারী করেছিল ৷ যিনি ভক্তদের কাছে লোকনাথ বাবা নামেই পরিচিত ৷ বাংলার ঘরে ঘরে বাবা লোকনাথের পুজো কম বেশি হয়েই থাকে ৷ পুরাণে বলা আছে বাবা লোকনাথ স্বয়ং শিবের অবতার ৷ অবতার অর্থাৎ তাঁর মধ্যে ভগাবন শিবের উপস্থিতি সর্বক্ষণ রয়েছে ৷ তিনি অত্যন্ত অল্পতেই সন্তুষ্ট ৷ আসমুদ্র হিমাচল পর্যন্ত যাঁর ব্যাপ্তি ৷ মানুষকে ভালবেসে বলেছেন, রণে বনে জলে জঙ্গলে যেখানেই বিপদে পড়িবে আমাকে স্মরণ করিও আমি রক্ষা করিব ৷
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে জ্যৈষ্ঠ অর্থাৎ ৩রা জুন বেলা ১১ টা ৪০ মিনিটে মহাযোগে উপবেশন করার পর স্থূলদেহত্যাগ করে তিনি সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করে ত্রিলোকে বিরাজ করেন। গত ৩ জুন  ছিল লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩২ তম তিরোধান দিবস। তবে দেহত্যাগ করবার পরেও তিনি সুক্ষ দেহে ভক্তদের মাঝে বিরাজ করে ভক্তদের রক্ষা করেন।


এ জাতীয় আরো খবর