সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

বেলুন উড়িয়ে এবং মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মৃধা বেঙ্গলী কালচারাল সেন্টারের উদ্বোধন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ওয়ারেন, ১২ জুন : বেলুন উড়িয়ে এবং মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গতকাল শনিবার মৃধা বেঙ্গলী কালচারাল সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনকে ঘিরে বাংলা উৎসবের এই মেলাটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।  
চিনু মৃধা, মৃদুল কান্তি সরকার ও মির রসির  সার্বিক তত্বাবধানে দুপুর ১২ টায় নগরীর ২২০২১,  মেমফিস এভিনিউস্থ কালচারাল সেন্টারে চিত্রাঙ্কন ও ম্যাথ অলিম্পিয়াড  প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে জমজমাট বাংলা উৎসব শুরু হয়। 


দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ছিল ঘুড়ি উৎসব প্রতিযোগিতা। বিদেশের মাটিতে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে  বাঙ্গালী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য  ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।  সবার অংশগ্রহণে আয়োজনটি উৎসবে পরিপূর্ণতা পেয়েছে ৷
বিকাল ৪টায় কালচারাল সেন্টারের মাঠে বেলুন উড়িয়ে  উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠাতা মৃধা বেঙ্গলী কালচারাল সেন্টারের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন চিকিৎসক এবং দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা ও তার সহধর্মিনী চিনু মৃধা। এরপর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন ও প্রবেশদ্বারের ফিতা কেটে অতিথিদের নিয়ে কালচারাল সেন্টারের প্রবেশ করেন তাঁরা। 


এ পর্যায়ে মৃদুল কান্তি সরকারের উপস্থাপনায় এবং সুপ্রভাত মিশিগানের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি চিনু মৃধার সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। সভায় ড. দেবাশীষ মৃধা প্রধান অতিথি এবং ডা. সুলতানা গজনবী বিশেষ অতিথির আসন  অলঙ্কৃত করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পূর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু, বাংলা প্রেসক্লাব অব মিশিগানের সম্পাদক মোস্তফা কামাল,  কবি ও গীতিকার ইশতিয়াক রুপু আহমেদ, শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ের কো অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার, অজিত দাশ, শারমিন তানিম, সুপ্রভাত মিশিগানের সম্পাদক চিন্ময় আচার্য্য, রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব প্রমুখ ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. দেবাশীষ মৃধা বলেন, আমাদের অন্য পরিচয় থাকতে পারে। যেমন আমরা বাংলাদেশি,  হিন্দু কিংবা মুসলিম। কিন্তু আমাদের আসল পরিচয় আমরা বাঙালি। সকলেরই এমন একটা আসল পরিচয় থাকে। আপনি আমেরিকান হতে পারেন, এরপরও সবাই বলবে আপনি একজন বাঙালি। আপনি জানেন, যারা এদেশের নেটিভ আমেরিকানরা বলে থাকেন আমরা ২০% বা ১০% নেটিভ আমেরিকান। এজন্য তারা গর্ব করে।


তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আমি একজন রাশিয়ানকে জানি, যার বয়স ৮০ বছর, তার স্ত্রীও একজন আমেরিকান। তিনি আমেরিকান হয়ে গেছেন, রাশিয়ান ভাষা ্র সংস্কৃতি জানেন না। তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমার পরিচয় কি উনি বললেন আমি রাশিয়ান। সেই ৮০ বছর বয়সেও তিনি  নিজের ভাষা, সংস্কৃতি শিখতে দেশে গিয়েছিলেন। সুতরাং, আপনি  পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, যেভাবে বিশ্বস করুন  বা যে দেশে বাস করুন আপনার একটাই পরিচয়। আসল পরিচয় আপনি বাঙালি। বাংলা সংস্কৃতি আপনার পরিচয়কে তুলে ধরবে। সংস্কৃতিকে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর হীরকখন্ডের   বিচ্ছুরিত  আলোর সাথে সাথে তুলনা করেছেন। আমরা সেই আলো সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই। 


সভাপতির বক্তব্যে চিনু মৃধা উৎসবে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা  জানিয়ে আগামীতেও এ ধরণের মেলার আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে এই কালচারাল সেন্টারটি এখন মিশিগানের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সুপ্রভাত মিশিগান-র নতুন ঠিকানা। জনপ্রিয় এই নিউজ পোর্টালটির সার্বিক কার্যক্রম এখান থেকে পরিচালিত হবে ।


সভাশেষে ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা জাহিদ জিয়া। বিজয়ীরা হলেন গ্রেড-১  গ্রুপে- আরুশ চৌধুরী ১ম, অনিস্কা শর্মা ২য়, অরচিত চৌধুরী ৩য়, গ্রেড-২ গ্রুপে  ১ম প্রতীক দাস, ২য় তাজরী ওয়ার্ডেন ও ৩য় প্রমিতা বিশ্বাস,  গ্রেড-৩ গ্রুপে ১, অমিয় চৌধুরী, ২য় সৃজন আগরওয়াল, ৩য় অর্নব ঘোষাল।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় এ গ্রুপে ১ম ইনায়া  ফাহাদ, ২য় সাইফান উদ্দিন এবং ৩য় শ্রাবন সরকার, বি গ্রুপে  ১ম শ্রেয়সী পাল, ২য় অর্নব এবং ৩য় প্রতীক দাস, সি গ্রুপে ১ম দেবশ্রী রায়, ২য় রিক এবং রায়হান ৩য় স্থান অধিকার করেছে।  চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অমিতা মৃধা, অঙ্কিতা হাওলাদার ও সামন্ত চৌধুরী।


ঘুড়ি উড়ানো উৎসবে দক্ষতা ও আকর্ষণীয় উপস্থানের ভিত্তিতে তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীরা হলেন অরচিত চৌধুরী, মাহিকা সরকার, এবং শ্রেয়সী পাল।  প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করবেন রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব। অতিথিবৃন্দ  বিজয়ীদের মধ্যে  ট্রফি ও সার্টিফিকেট বিতরণ করেন। এছাড়াও এসব প্রতিযোগিতায়  সকল অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  সৌরভ চৌধুরী। 


পুরষ্কার বিতরণ শেষে  আমেরিকান ন্যাশনাল  এনথেম (জাতীয় সংগীত) পরিবেশন করেন অমিতা মৃধা। বাংলা স্কুল অব মিউজিক কিডস পরিবেশন করে  বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। দুইদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় সাংস্কৃতিক উৎসব। সঙ্গীতানুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন আকরাম হোসেন, আজমল হোসেন, তপন প্রভু, শিমুল দত্ত, মারুফ সৌরভ, ডা: সুলতানা গজনবী, জোৎস্না বিশ্বাস, অজিত দাস, সুস্মিতা চৌধুরী, সঙ্গীতা পাল, কামরুন হায়দার, মিতা মান্নান, কাবেরি দে, আয়েশা চৌধুরী, উর্মি বাসেত, শ্রদ্ধা হাওলাদার, পূর্ব রায়, অদিতি রায়,রুমকি সেন। যন্ত্রে ছিলেন অতুল দস্তিদার, অসিত বরন চৌধুরী। তবলায় সহযোগিতা করেন রতন হাওলাদার, জেফরি  কাদরিও ও শিমুল দত্ত।


শিব মন্দির কালচারাল গ্রুপের শিল্পীরা পরপর তিনটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এতে অংশ নেন অজিত দাশ, চিনু মৃধা, সুস্মিতা চৌধুরী, নীলিমা রায়, সঙ্গীতা পাল, প্রতিভা কপালী, সুপর্না চৌধুরী, জোৎস্না বিশ্বাস, মিতা চৌধুরী, রূপাঞ্জলী চৌধুরী, সুমা দাশ, রাজশ্রী শর্মা, অপূর্ব চৌধুরী, স্মৃতি কর, গৌরি আচার্য্য বেবী। তবলায় ছিলেন রতন হাওলাদার।


দ্বৈত নৃত্য পরিবেশন করেন চিনু মৃধা ও অমিতা মৃধা এবং মৃত্তিকা সরকার ও অর্পিতা সেন, তিনটি গ্রুপ ড্যান্সে অন্তরা অন্তি ও তার দল, অনিকা, মৌমিতা ও অস্মিতা হাওলাদার এবং মহুদা দাশ মিষ্টি অংশ নেন। একক নৃত্য পরিবেশন করেন শারমিন তানিম ও  অন্তরা অন্তি। ভায়োলিন বাজান সামান্তা চৌধুরী। কবিতা পাঠ করেন দেবাশীষ দাশ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চিনু মৃধা, আকরাম হোসেন, আয়েশা চৌধুরী, মৌসুমী দত্ত ও  সুপর্ণা চৌধুরী পরিচালনা করবেন। অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে  ছিলেন রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব।


এদিকে কালচারাল সেন্টারের বিশাল মাঠে  ঐতিহ্যবাহী শাড়ী, অন্যান্য পোশাক, জুয়েলারিসহ দেশজ শিল্পের নানা পসরা নিয়ে বসে মেলা। এখানকার নারী উদ্যোক্তা এতে অংশ নেন। ছিল খাবারের দোকানও। আর এতে অংশ নেয় ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। মেলায় বসে বইয়ের একটি স্টল। নিউইয়র্ক থেকে নিজের লেখা বই নিয়ে আসেন কবি ও গীতিকার ইশতিয়াক রুপু আহমেদ। তার রচিত বইটির নাম ছিল ভালোবাসার নিউইয়র্ক। স্টলে ছিল মিশিগান প্রতিদিন সম্পাদক ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি রচিত দুটি বই করোনার সাইরেন এবং বিনী সুতোর ব্যঞ্জনা । মেলায় অনেককেই বই গুলো  কিনতে দেখা গেছে।


এ জাতীয় আরো খবর