সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

বিটকয়েনের মূল্যে রেকর্ড ধস

  • সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :
image

ছবি : পিক্সাবে

নিউইয়র্ক, ১৯ জুন : ২০২০ সালের পর এই প্রথম ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দরে রেকর্ড পতন হয়েছে। অর্থাৎ গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে ডিজিটাল এই মুদ্রাটির। মূলত আর্থিক নীতির সম্ভাবনার মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারের অভিমুখ নিম্নমুখী হয়ে পড়ায় এই দরপতন হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুসারে, বাজার মূল্যের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বিটকয়েনের মূল্য শনিবার বিকেলে ১৩.৭ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। এতে করে এর মূল্য ১৭ হাজার ৫৯৩ ডলারে নেমে আসে। আর এর মাধ্যমেই গত ১৮ মাসে সবচেয়ে কম বাজারদরে পৌঁছেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রিপ্টোকারেন্সিটি।
অবশ্য শুধু বিটকয়েন নয়, অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি যেমন ইথিরিয়াম, সোলানা এবং বিএনবিও ব্যাপক ধসের সম্মুখীন হয়েছে। বিটকয়েনের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথিরিয়াম। এই মুদ্রার বাজারদর এখন ১ হাজারের ঘরে। এটিও চলতি বছরে ৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ফলস্বরূপ, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে প্রথমবারের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির সামগ্রিক বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। এই ধসের ফলে বিরাট ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত কয়েক মাসে একের পর এক ধসের জেরে কার্যত দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। কেউ কেউ বলছেন, এই ধস আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে।

কিন্তু আচমকাই এই ধসের কারণ কী?
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির দামের পতন শেয়ার বাজার এবং অন্যান্য সম্পদের দামের পতনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার মতো কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আর্থিক নীতিগুলিকে ক্রমশ কঠোর করে চলেছে৷
আবার অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিপ্টো নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বিশ্বাস করেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনও মৌলিক মূল্যবোধ নেই। এবং শেয়ার বাজারের তুলনায় ব্যাপক অস্থিরতা কাজ করে এখানে। এর ফলে একটি বাবেল বা বেলুন তৈরি হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে কেন্দ্র করে যা ফেটে যেতেই এমন ভয়াবহ পতন।

ভবিষ্যতে কি ক্রিপ্টো বাজার ফের চাঙ্গা হতে পারবে?
কিছু ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীদের অভিমত, বিটকয়েন কিংবা ইথিরিয়ামের দাম প্রচুর ওঠা নামা করে এবং এক সময় সর্বোচ্চ দামে গিয়ে পৌঁছয় যা মোটা মুনাফা তৈরি করে দেয়। তাই তারা মনে করেন, এটি ভালো সময় বিনিয়োগ করার এবং এই পতন থেকে খুব শীঘ্রই ঘুড়ে দাঁড়াবে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার।
তবে একটি বিরাট অংশের বিনিয়োগকারীরা এও বলছেন, মৌলিক নীতি না থাকায় কখনো একটি কারেন্সি সেই উচ্চতা লাভ করতে পারে না। তাই সাময়িক সময়ের জন্য কিছুটা ঘুড়ে দাঁড়ালেও ক্রিপ্টোকারেন্সির ভবিষ্যত এখনও অন্ধকার।
উল্লেখ্য, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা এবং তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে বর্তমানে এ ধরনের মুদ্রার সংখ্যা আট হাজারের বেশি এবং এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে বিটকয়েন।
২০০৮ সালের শেষভাগে জাপানি নাগরিক সাতোশি নাকামোতো নামের একজন এবং একদল সফটওয়্যার বিজ্ঞানী ক্রিপ্টোকারেন্সির উদ্ভাবন করেন। দরপতনের আগে বিশ্বে ভার্চুয়াল এই মুদ্রার বাজার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে রেকর্ড দরপতনের আগে বিটকয়েনের মূল্য ছাড়িয়েছিল ৬৮ হাজার মার্কিন ডলার।


এ জাতীয় আরো খবর