সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

নানা আয়োজনে শিব মন্দিরের বার্ষিক বনভোজন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

ট্রয়, ২০ জুন : নানা আয়োজনে গতকাল রোববার শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ের বার্ষিক বনভোজন সম্পন্ন হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত ট্রয় সিটির ফায়ারফাইটার্স পার্কে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বনভোজনটি পরিণত হয় মিলনমেলায় ।

বনভোজন শুরু হয় দুপুর ১২টায়। এর আগ  থেকেই বিভিন্ন শহরে বসবাসকারী প্রবাসীরা নিজ নিজ গাড়ি নিয়ে  প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মোড়া পার্কে জড়ো হতে থাকেন। প্রথমেই ঝালমুড়ি ও চা পরিবেশন করা হয়। এরপর বাবা দিবস উপলক্ষে সকল বাবাদের সম্মানে ফাদার্স ডে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। কেক কাটা শেষে সকল বাবাদের গোলাপ ফুল দিয়ে জানানো হয় শুভেচ্ছা ।

এরপর শুরু হয় মূল পর্ব।  পিলো পাস, বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের দৌড়, হাঁড়ি ভাঙা, টিপ খেলা, রশি টানাটানি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাজানো ছিল পুরো কর্মসূচি। সঙ্গীতানুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন অভিষেক চৌধুরী ও শর্মিলা দেব শর্মি। গিটারে  শাওন বড়ুয়া এবং প্যাডে ছিলেন আকাশ চক্রবর্তী।  
 

বনভোজনে ৬ থেকে ১০ বছর মেয়েদের দৌড়ে ১ম  প্রিয়া দত্ত, ২য় শ্রদ্ধা হাওলাদার ও ৩য় অনিস্ক শর্মা, একই বয়সের ছেলেদের দৌড়  প্রতিযোগিতায় ১ম শ্রাবন চৌধুরী, ২য় শঙ্কু দাস ও ৩য় স্বাগত পাল, ১০  থেকে ১৪ বছর মেয়েদের দৌড়  প্রতিযোগিতায় ১ম রিয়া দত্ত, ২য় স্নেহা দাস, ৩য় মৃত্তিকা সরকার, টিপ খেলায় ১ম রাজশ্রী শর্মা ,২য় মৌসুমী দত্ত ও ৩য় রিক্তা পাল হয়েছেন। 

পিলো পাস খেলায় ১ম সৃষ্টি পাল, ২য় প্রমা পাল ও ৩য় কাকলী দাস, হাড়ি ভাঙ্গায় ১ম রিক্তা পাল, ২য় চিনু মৃধা ও ৩য় হয়েছেন স্মৃতি কর। আকর্ষনীয় পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে রশি টানাটানি প্রতিযোগিতায় মহিলা দল বিজয়ী হন। খেলা পরিচালনা করেন মন্দিরের প্রধান পূর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু, মৃদুল কান্তি সরকার ও চিন্ময় আচার্য্য। খেলাধুলা শেষে পরিবেশন করা হয় দুপুরের খাবার। 

অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বে পার্কের মনোরম পরিবেশে শুরু হয় ফটোসেশন। এরপর পুরস্কার বিতরণের পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং স্বনামধন্য দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা, সুপ্রভাত মিশিগানের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি চিনু মৃধা, ওয়ারেন ফিজারেল বোর্ড অফ এডুকেশন ট্রাস্টি, ওয়ারেন সিটি কমিশনার কাজী সাহাব উদ্দিন আহমদ, মন্দিরের কো-অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার, প্রিস্ট পূর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু,  আশুতোষ চৌধুরী, রাখি রঞ্জন রায়, সৌরভ চৌধুরী, অজিত দাশ, দেবাশীষ দাস, অমূল্য চৌধুরী, বিপ্লব চৌধুরী, মৃনাল চৌধুরী প্রমুখ। 

ড. মৃধা বলেছেন, তিনি তার এক বন্ধুর সমস্যায় তাকে ঈশ্বর হতে বলেছেন। জবাবে বন্ধুটি বললো ঈশ্বর হয়ে যাব তা কি করে? তিনি বলেন , ঈশ্বর কি করে সবাইকে বলে ততাস্তু। তাই আমাদের সবাইকে ঈশ্বর হয়ে যেতে হবে। আমরা সবাই কিন্তু ঈশ্বর। আমাদের মাঝে ঈশ্বর রয়েছেন। আর ঈশ্বর হতে হলে যে যা করছে তা গ্রহণ করতে হবে, ধন্যবাদ জানাতে হবে। সকল ভাল-মন্দ, সুন্দর-অসুন্দরকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর এর মধ্য দিয়ে আপনারা সবাই যেমন আনন্দ পাবেন।  তেমনি আপনাদের মাঝে দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঝগড়া ঝাটি কিছুই থাকবে না। 


তিনি বলেন ঈশ্বর আমাদের সব কিছু গ্রহণ করছেন। বনভোজনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বক্তারাও উৎসবমুখর আনন্দঘন চমৎকার একটি বনভোজন অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী  বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন  চিনু মৃধা, রঞ্জিত কুমার ঘোষ, অবিনাশ চৌধুরী, ড. দেবাশীষ মৃধা, আশুতোষ চৌধুরী, রতন হালাদার, অমূল্য চৌধুরী, বিপ্লব চৌধুরী, অজিত দাস, অমিত সিনহা, রাখি রঞ্জন রায়, কমলেন্দু পাল, হীরালাল কপালী, সৌরভ চৌধুরী, চিন্ময় আচার্য্য, জিতেন গোপ, তপন শিকদার ও  চন্দন তরফদার। 

র্যাফেল ড্রতে বিশেষ পুরষ্কার ৬৫ ইঞ্চি টেলিভেশন পেয়েছেন  শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা চিনু মৃধা। পুরষ্কারটি স্পন্সর করেছেন মিশিগান রাজ্যের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেশী বাজার। প্রথম  পুরষ্কার টেলিভিশন পেয়েছেন সুপ্রভাত মিশিগানের সম্পাদক চিন্ময় আচার্য্য। স্পন্সর করেছেন রিয়েলেটর সুমিত সিনহা। দ্বিতীয় পুরষ্কার লেপটপ মুক্তা দত্ত, ৩য় পুরষ্কার ফ্রিজার সৃষ্টি পাল, ৪র্থ পুরষ্কার ইলেকট্রিক ক্যাটলি হিমেল দাস, ৫ম পুরষ্কার ব্লেডলেস ফ্যান পুলকেশ মন্ডল, ৬ষ্ট  পুরষ্কার পেসার কুকার অপূর্ব সাহা এবং ৭ম পুরষ্কার এগ কুকার পেয়েছেন বিপ্লব চৌধুরী ।

অন্যান্য পুরষ্কার স্পন্সর করেছেন বিপ্লব চৌধুরী (ফুমি রেস্টুরেন্ট), দেবাশীষ দাশ, সুপ্রভাত মিশিগান সম্পাদক চিন্ময় আচার্য্য, মৃনাল চৌধুরী ও সুজন বিশ্বাস। তারাদীন সুপার মার্কেট  ও হিমেল দাস (রিয়েলেটর) স্পন্সর করেছেন টি-শার্ট। সার্বিক সযোগিতায় ছিলেন জিতেন গোপ, হিমেল দাস, সুমিত সিনহা, কমলেন্দু পাল, হীরালাল কপালী, অতুল দস্তিদারসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৌরভ চৌধুরী। সাউন্ড সিস্টেমে ছিলেন রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব।

 


এ জাতীয় আরো খবর