শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২

মিশিগানে ঘুরল রথের চাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
image

নভাই, ১৮ আগস্ট : মিশিগানে মহা সমারোহে পালিত হয়েছে রথযাত্রা। ইসকনের এই রথ উৎসব কে ঘিরে রয়েছে আনন্দ-খুশি। গোটা বছর এই রথ উৎসবের জন্য মুখিয়ে থাকেন ভক্তরা। রথের দড়িতে টান দিয়ে পুণ্যার্জনের আশায় তারা বছর ভর অপেক্ষা করে থাকেন।

গতকাল রোববার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টায়  ৪৫১৭৫, ওয়েস্ট ১০ মাইল রোডস্থ নভাই সিভিক সেন্টারে  নারিকেল ফাটিয়ে রথযাত্রার উদ্বোধন করেন নভাই সিটি মেয়র বব গ্যাটসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

ছবি : অপূর্ব কান্তি চৌধুরী

অনুষ্ঠানিকতা শেষে রথে প্রভু জগন্নাথ, তাঁর ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রাকে সংস্থাপন করা হয়। এরপর বের হয় ৪০ ফুট উচ্চতার একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। রথের মধ্যেই চলে পুজো ও আরতি। বাদ্যযন্ত্র ও কীর্তন সহযোগে রথ টানায় বিভিন্ন ধর্মের হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। ৩ মাইল পথ পরিক্রমার পর   শোভাযাত্রাটি দুপুর ১টায় নোভাই সিটির সিভিক সেন্টারের ফুয়েরস্ট পার্কে ফিরে আসে। 

ছবি : সুপ্রভাত মিশিগান

এসময় হেলিকপ্টার থেকে রথের উপর পুষ্পবর্ষণ করা হয়। দেবতাদের মূর্তিগুলো রথ থেকে নামিয়ে একটি  অস্থায়ী ঘরে স্থাপন করা হয়। যাতে প্রত্যেকে তাদের দেখার সৌভাগ্য পেতে পারে। এখানে ভক্তরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে পুজো অর্চনা ও আরতি  দেন।

ছবি : সুপ্রভাত মিশিগান

দুপুর ১টায়  রথযাত্রার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মসূচী শুরু হয়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন ডেট্রয়েট আয়োজিত রথকে ঘিরে বসে মেলা।  মেলায় হরেকরকমের দোকান বসে । উৎসব প্রাঙ্গনে ছিল ২০টিরও বেশী তাবু, বিনোদনের ব্যবস্থা, বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ, লাইভ সঙ্গীত, ধর্মীয় কেনাকাটা,  শিল্প, সাহিত্য ও শিশুদের জন্য নানা আয়োজন। 

ছবি : সুপ্রভাত মিশিগান

এছাড়াও ছিল ফ্রি পার্কিং এর সুবিধা। পরিবারের সদস্যদের জন্য নৃত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রান্নার প্রদর্শনীসহ সৌজন্যমূলক অন্যান্য বিনোদন ব্যবস্থা ছিল। রথযাত্রা সার্বিক কর্মযজ্ঞ শেষ হয় বিকাল ৫টায়। 

ছবি : সুপ্রভাত মিশিগান

ইসকনের এই রথ টানতে প্রতি বছর ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখানে আসেন। এই অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে আসেন বাংলাদেশি এবং ভারতীয়রাও। ২০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং অর্কেস্ট্রেশনে সহায়তা করেছেন। ১৩ বছর ধরে নোভাই সিটিতে পালিত হচ্ছে রথ যাত্রা।  


ছবি : সুপ্রভাত মিশিগান

রথযাত্রা উৎসবটিকে বৈষ্ণব হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়। রথযাত্রা জগন্নাথদেবের ভক্তদের কাছে রথযাত্রা অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। মনে করা হয়, জগন্নাথদেবের রথের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত পবিত্র।  ফলে রথের রশি স্পর্শ করলেই তেত্রিশকোটি দেবদেবীর চরণ স্পর্শ করা হয়।

ছবি : অপূর্ব কান্তি চৌধুরী

এছাড়া প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে রথের রশি স্পর্শ করলে পুনর্জন্ম হয় না। এছাড়া মনে করা হয়, সকল পাপ থেকেও মুক্ত হওয়া যায়। জগন্নাথদেবের রথ টানতে পারলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফললাভ হয়। নববিবাহিতারা রথের রশি ছুঁয়ে তাই প্রভুর আশীর্বাদ নেন। এছাড়া ভক্তদের মতে এই রথের রশির মাথায় ঠেকালে আর দুঃস্বপ্ন আসে না। রোগ থেকেও মুক্তি লাভ হয়।

ছবি : অপূর্ব কান্তি চৌধুরী

পুরান মতে, সুভদ্রা নিজের বড় ভাই কৃষ্ণ ও বলরামের কাছে নগর দেখার ইচ্ছা জাহির করেন। তখন দুই ভাই ও বোন রথে বসে নগর ভ্রমণে বের হন। পথে গণন্ডিচায় নিজের মাসির বাড়ি যান তাঁরা। সেখানে ৭ দিন থাকেন। এই সময় নগরের যাত্রা পূর্ণ করে পুরী ফিরে আসেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। তারপর থেকেই রথযাত্রার আয়োজন হয়ে আসছে।


এ জাতীয় আরো খবর