হবিগঞ্জে আফজাল চৌধুরী হত্যা : দুই আসামীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • ২০২২-০১-১৮ ২১:০০:৪০
image

হবিগঞ্জ, ১৮ জানুয়ারী : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ফান্দ্রাইল গ্রামের চাঞ্চল্যকর আফজাল চৌধুরী হত্যার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত দুই আসামী দারগা আলতাফ চৌধুরী ও বিজয় চৌধুরীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত দীর্ঘ শুনানী শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত পরিদর্শক আনিছুর রহমান এই তথ্য জানান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দারগা আলতাফ চৌধুরী ও বিজয় চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৫দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন। আদালতে দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তিতে আবারও রিমান্ডের বিষয়টি দেখা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ফান্দ্রাইল গ্রামে ৩৫ বছরের পুরনো একটি মসজিদ নিয়ে বিরোধের জের ৫ জানুয়ারী সোমবার রাত ১টার দিকে পাচপীরের মাজারে ওরস চলাকালে আফজাল চৌধুরী খুন হয়। আহত হয় আরও ১০জন। নিহত আফজাল চৌধুরী ওই গ্রামের জামাল উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র। তিনি ঢাকা বিআরটিএ অফিসের ড্রাইভার। হামলাকারীরা পরে আফজাল চৌধুরীর বাড়ীঘরেও হামলা করে। এ ব্যাপারে আফজাল চৌধুরীর ভাই লাউছ মিয়া ৭ জানুয়ারী বুধবার রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় ২২জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার ১নম্বর ও হুকুমদায়ী আসামী দারগা আলতাফ চৌধুরীকে ঢাকার সাভার থেকে ও প্রধান আসামী বিজয় চৌধুরীকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
সূত্রে  জানা যায়, পুর্ব ফান্দ্রাইল গ্রামে ১৯৮৪ সালে ওই গ্রামের রইছ উদ্দিন একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি লন্ডন প্রবাসী সাইফুল আহমেদ সেফুল মসজিদটির উন্নয়নে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে  নতুন ভবন নির্মাণ করেন। গ্রামবাসী এই মসজিদের নামকরন করেন হাজী রইছ উদ্দিন জামে মসজিদ। কিন্তু এই নামকরণ নিয়ে গ্রামে বিভক্তি সৃষ্টি করেন আলতাফ দারগা।  পাশাপাশি মসজিদের উন্নয়ন কাজ ও নামকরণে  বাধা দিয়ে চাদা দাবী ও হামলা করেন গ্রামের লিমন মিয়া ও সাধন মিয়ার নেতৃত্বে একটি গ্রপ। এই ঘটনায় সাধন মিয়া বর্তমানে কারাগারে আছে এবং  মামলা চলমান আছে।  এরই ধারাবাহিকতায় আলতাফ দারগার নেতৃত্বে পাচপীরের মাজারে ওরস চলাকালে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে হামলা করে আফজল চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। হামলা ও ভাংচুর করা হয় লন্ডন প্রবাসী সাইফুল আহমেদ ও তার লোকজনের বাড়ী ঘর।