ওকল্যান্ড কাউন্টি, ১০ সেপ্টেম্বর : মিশিগানের ওকল্যান্ড কাউন্টির এক বাসিন্দা সম্ভবত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। চলতি বছরে কাউন্টিতে এটিই এই ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রথম মানব সংক্রমণের ঘটনা। ওকল্যান্ড কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গোপনীয়তা আইনের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মিশিগানের বাসিন্দাদের মধ্যে মশাবাহিত রোগের সাতটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস এবং একটি ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের (ইইই) ঘটনা। সংক্রমিত পাখিকে কামড়ানোর মাধ্যমে মশা ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহন করে। পরে ওই মশা মানুষকে কামড়ালে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি মস্তিষ্কে প্রদাহ ও ফোলাভাব সৃষ্টি করে গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে গুরুতর ও প্রাণঘাতী উপসর্গ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস (ইইই) একটি জুনোটিক রোগ, যা মশার কামড়ের মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। মিশিগানে সাধারণত গ্রীষ্মের শেষভাগ থেকে শরতের শুরু পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, কাঁপুনি এবং শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা। পরবর্তীতে এটি গুরুতর এনসেফালাইটিসে রূপ নিতে পারে। এ সময় তীব্র মাথাব্যথা, মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, কাঁপুনি ও পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্তদের কেউ কেউ সুস্থ হয়ে উঠলেও তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের ক্ষতি ও অন্যান্য স্নায়বিক জটিলতা থেকে যেতে পারে। ১৫ বছরের কম এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা গুরুতর অসুস্থতার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
এদিকে, গত মাসে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওয়েইন কাউন্টির এক বাসিন্দার শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এটি মেট্রো ডেট্রয়েটে চলতি বছরের প্রথম এবং পুরো মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয় মানবদেহে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা।
গত সপ্তাহে অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা জানান, মিশিগানে এ বছর ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসে (ইইই) আক্রান্ত প্রথম প্রাণীটি শনাক্ত হয়েছে ক্লেয়ার কাউন্টিতে। আক্রান্ত প্রাণীটি ছিল অপর্যাপ্ত টিকা পাওয়া এক বছর বয়সী ‘কোয়ার্টার হর্স’ জাতের একটি ঘোড়ার বাচ্চা। কর্মকর্তারা আরও জানান, রসকমন কাউন্টির এক বাসিন্দার শরীরেও ইইই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ২০২১ সালের পর মিশিগানে এটিই প্রথম মানবদেহে ইইই সংক্রমণের ঘটনা।
ওকল্যান্ড কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কেট গুজম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা যে শরৎকালেও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসসহ এ ধরনের অন্যান্য রোগের ঝুঁকি থাকে।” তিনি বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বছরের প্রথম তীব্র তুষারপাত বা ‘হার্ড ফ্রস্ট’ (কঠিন শীত) না হওয়া পর্যন্ত মশার কামড় থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
ওকল্যান্ড কাউন্টির কর্মকর্তারা বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিসহ সব বাসিন্দাকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন:
— এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (EPA) দ্বারা নিবন্ধিত পোকামাকড় তাড়ানোর ওষুধ (যেমন DEET) ব্যবহার করা;
— ভোর ও গোধূলি বেলায়—যখন মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি থাকে—তখন বাইরে ঘোরাফেরা বা কাজকর্ম সীমিত রাখা;
— শরীরের কোনো অংশ খোলা রেখে বেশিক্ষণ বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকা;
— মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল কমাতে জমে থাকা পানি নিয়মিতভাবে ফেলে দেওয়া;
— এবং ঘরে মশা প্রবেশ রোধ করতে জানালার নেট বা স্ক্রিন লাগানো ও সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা।
Source & Photo: http://detroitnews.com
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মিশিগানের বাসিন্দাদের মধ্যে মশাবাহিত রোগের সাতটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস এবং একটি ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের (ইইই) ঘটনা। সংক্রমিত পাখিকে কামড়ানোর মাধ্যমে মশা ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহন করে। পরে ওই মশা মানুষকে কামড়ালে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি মস্তিষ্কে প্রদাহ ও ফোলাভাব সৃষ্টি করে গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে গুরুতর ও প্রাণঘাতী উপসর্গ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস (ইইই) একটি জুনোটিক রোগ, যা মশার কামড়ের মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। মিশিগানে সাধারণত গ্রীষ্মের শেষভাগ থেকে শরতের শুরু পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, কাঁপুনি এবং শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা। পরবর্তীতে এটি গুরুতর এনসেফালাইটিসে রূপ নিতে পারে। এ সময় তীব্র মাথাব্যথা, মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, কাঁপুনি ও পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্তদের কেউ কেউ সুস্থ হয়ে উঠলেও তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের ক্ষতি ও অন্যান্য স্নায়বিক জটিলতা থেকে যেতে পারে। ১৫ বছরের কম এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা গুরুতর অসুস্থতার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
এদিকে, গত মাসে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওয়েইন কাউন্টির এক বাসিন্দার শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এটি মেট্রো ডেট্রয়েটে চলতি বছরের প্রথম এবং পুরো মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয় মানবদেহে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা।
গত সপ্তাহে অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা জানান, মিশিগানে এ বছর ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসে (ইইই) আক্রান্ত প্রথম প্রাণীটি শনাক্ত হয়েছে ক্লেয়ার কাউন্টিতে। আক্রান্ত প্রাণীটি ছিল অপর্যাপ্ত টিকা পাওয়া এক বছর বয়সী ‘কোয়ার্টার হর্স’ জাতের একটি ঘোড়ার বাচ্চা। কর্মকর্তারা আরও জানান, রসকমন কাউন্টির এক বাসিন্দার শরীরেও ইইই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ২০২১ সালের পর মিশিগানে এটিই প্রথম মানবদেহে ইইই সংক্রমণের ঘটনা।
ওকল্যান্ড কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কেট গুজম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা যে শরৎকালেও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসসহ এ ধরনের অন্যান্য রোগের ঝুঁকি থাকে।” তিনি বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বছরের প্রথম তীব্র তুষারপাত বা ‘হার্ড ফ্রস্ট’ (কঠিন শীত) না হওয়া পর্যন্ত মশার কামড় থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
ওকল্যান্ড কাউন্টির কর্মকর্তারা বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিসহ সব বাসিন্দাকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন:
— এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (EPA) দ্বারা নিবন্ধিত পোকামাকড় তাড়ানোর ওষুধ (যেমন DEET) ব্যবহার করা;
— ভোর ও গোধূলি বেলায়—যখন মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি থাকে—তখন বাইরে ঘোরাফেরা বা কাজকর্ম সীমিত রাখা;
— শরীরের কোনো অংশ খোলা রেখে বেশিক্ষণ বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকা;
— মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল কমাতে জমে থাকা পানি নিয়মিতভাবে ফেলে দেওয়া;
— এবং ঘরে মশা প্রবেশ রোধ করতে জানালার নেট বা স্ক্রিন লাগানো ও সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা।
Source & Photo: http://detroitnews.com