পাখিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস

মিশিগানে দেখা মিলেছে বিরল ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’

আপলোড সময় : ১২-০৯-২০২৬ ০১:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৯-২০২৬ ০১:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
২৪ আগস্ট অটোয়া কাউন্টির হল্যান্ড স্টেট পার্কে বিরল ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’ পাখির দেখা মেলে। মিশিগানে এ প্রজাতির পাখির এটিই প্রথম নিশ্চিত উপস্থিতি/Ed Post

হল্যান্ড, ১২ সেপ্টেম্বর : অটোয়া কাউন্টির হল্যান্ড স্টেট পার্ক মনোরম সমুদ্রসৈকত ও বালিয়াড়ির জন্য পরিচিত। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন। তবে এ গ্রীষ্মে লেক মিশিগানের তীরে অবস্থিত এই পার্কে পশ্চিম উপকূলের একটি বিরল পাখির আগমন পাখিপ্রেমী ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
আগস্টের শেষ দিকে পার্কের পাথুরে তীরে একটি ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’ (বৈজ্ঞানিক নাম: Tringa incana) পাখির দেখা পান দর্শনার্থীরা। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা যায় এমন এই প্রজাতির পাখির মিশিগানে এটিই প্রথম নিশ্চিত দর্শন বলে জানানো হয়েছে।
গ্র্যান্ড হ্যাভেনের বাসিন্দা এবং ১৯৭০-এর দশক থেকে পাখি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত আলোকচিত্রী এড পোস্ট জানান, ২৩ আগস্ট পাখিটিকে প্রথম দেখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো অঞ্চল থেকে বহু পাখি পর্যবেক্ষক অটোয়া কাউন্টিতে ছুটে আসেন। মিশিগানে অত্যন্ত বিরল এই পাখিটিকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তারা।
পাখিটি যখন পর্যবেক্ষকদের চোখের সামনে ধরা দেয়, তখন সেখানে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। পোস্ট বলেন, “মানুষ একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিল। তারা কখনোই ভাবেনি যে মিশিগানে এই পাখিটি দেখতে পাবে।”
পোস্ট জানান, পাখিটিকে প্রথমে পার্কের দক্ষিণ দিকের পিয়ার বা জেটির আশপাশে দেখা যায়, যে অংশটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে। তবে মাঝে মাঝে পাখিটি উড়ে উত্তর দিকের পিয়ারে চলে আসত। সেখানে পাখিটিকে একনজর দেখার জন্য বিপুলসংখ্যক পাখি পর্যবেক্ষক জড়ো হন।
পোস্ট বলেন, “পাখিটি বেশ চঞ্চল বা ‘উড়ু-উড়ু’ স্বভাবের ছিল। পাথরের ফাঁকে ঠোকর দিয়ে পোকামাকড় ও কেঁচো খাওয়ার সময়ও এটি মানুষের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখত।”
ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, স্যান্ডপাইপার বা বাটান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’ মূলত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা যায়। প্রজাতিটি সাধারণত গ্রীষ্মকাল আলাস্কা ও উত্তর-পশ্চিম কানাডার পাহাড়ি এলাকায় কাটায় এবং শীতকালে ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকোর উপকূলে অবস্থান করে। তবে এদের অনেকেই দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপ এমনকি সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও পাড়ি জমায়।
তবে ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’ সাধারণত এতটা পূর্বাঞ্চলে দেখা যায় না। কর্নেল ল্যাব অব অর্নিথোলজির পরিচালিত নাগরিক-বিজ্ঞানভিত্তিক ডেটাবেস ‘eBird’-এর তথ্য অনুযায়ী, শিকাগো এলাকা ও রোড আইল্যান্ডের মতো পূর্বাঞ্চলেও এ প্রজাতির দেখা মিলেছে। তবে অটোয়া কাউন্টিতে দেখা পাওয়া পাখিটিই মিশিগানে ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’-এর প্রথম নিশ্চিত উপস্থিতি বলে জানা গেছে।
অডুবন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’ সাধারণত প্রায় ১১ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে, যা একটি বড় আকারের রবিন পাখির কাছাকাছি। এদের দেহের রং সাধারণত ধূসর, সাদা ও হলুদাভ। ডানা লম্বা ও সুচালো, ধীরে ধীরে সরু হয়ে আসা আকৃতির এবং লেজ তুলনামূলক ছোট, গোলাকার ও কীলকাকৃতির।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে এদের বিচরণ এবং কোনো কারণে সতর্ক বা বিচলিত হলে উচ্চস্বরে ‘ট্যাটলিং’ বা চেঁচামেচি করার স্বভাব—এই দুটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেই পাখিটির এমন নামকরণ করা হয়েছে।
মিশিগানে দেখা পাওয়া পাখিটি পুরুষ নাকি স্ত্রী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ লিঙ্গভেদে ওয়ান্ডারিং ট্যাটলারের চেহারায় খুব একটা পার্থক্য থাকে না, বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমের বিশেষ পালক ঝরে যাওয়ার পর।
পোস্ট জানান, নির্দিষ্ট এই পাখিটি কীভাবে মিশিগানে এসে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তাঁর ধারণা, “এরা আর্কটিক অঞ্চলে বাসা বাঁধে। তাই সম্ভবত কোনোভাবে অন্য একটি দলের সঙ্গে মিশে পথ ভুল করে এদিকে চলে এসেছে।”
কর্নেল ল্যাব অব অর্নিথোলজির তথ্য অনুযায়ী, পরিযায়ী পাখিরা অনেক সময় প্রবল বাতাসের কারণে গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ঘন কুয়াশা ও ভারী বৃষ্টিপাতও তাদের দীর্ঘ যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
তবে যারা সরাসরি ‘ট্রিঙ্গা ইনকানা’ (Tringa incana) বা ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার দেখতে চান, তাদের মিশিগানের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে হবে। শুক্রবার পোস্ট জানান, মিশিগানে দেখা দেওয়া এই ওয়ান্ডারিং ট্যাটলারটি ইতিমধ্যে অন্য কোথাও চলে গেছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com